মাধ্যমিক ভূগোল – প্রথম অধ্যায়ঃ বহির্জাত প্রক্রিয়া তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – উপঅধ্যায়-২ নদী – সমস্ত প্রশ্নউত্তর সাজেশন | Madhyamik Geography Suggestion with PDF | WiN EXAM

0
33

মাধ্যমিক ভূগোল | Madhyamik Geography

মাধ্যমিক ভূগোল - প্রথম অধ্যায়ঃ বহির্জাত প্রক্রিয়া তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ - উপঅধ্যায়-২ নদী - সাজেশান প্রশ্নউত্তর | Madhyamik Geography Suggestion with PDF | WiN EXAM

মাধ্যমিক ভূগোল | Madhyamik Geography অধ্যায় ভিত্তিতে প্রশ্নোত্তর  নিচে দেওয়া হল। এই প্রশ্নোত্তর এবার পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর ভূগোল  ( WB Madhyamik Geography Suggestion  | West Bengal Madhyamik Geography Suggestion  | WBBSE Board Class 10th Geography Question and Answer with PDF file Download)  পরীক্ষার জন্য খুব ইম্পর্টেন্ট । আপনারা যারা আগামী মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন  | Madhyamik Geography Suggestion  | WBBSE Board Madhyamik Class 10th (X) Geography Suggestion  Question and Answer খুঁজে চলেছেন, তারা নিচে দেওয়া প্রশ্ন ও উত্তর ভালো করে পড়তে পারেন। 

পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর ভূগোল নোট / সাজেশন (West Bengal WBCHSE Madhyamik Class X 10th Geography Notes / Suggestion) | বহির্জাত প্রক্রিয়া বহির্জাত প্রক্রিয়া MCQ প্রশ্নোত্তর, এককথায় প্রশ্নউত্তর, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নউত্তর, ব্যাখ্যাধর্মী, প্রশ্নউত্তর

পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর ভূগোল সাজেশন (West Bengal WBCHSE Madhyamik Class X 10th Geography Notes / Suggestion) প্রথম অধ্যায়ঃ বহির্জাত প্রক্রিয়া তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ | উপঅধ্যায়-২ নদী MCQ প্রশ্নোত্তর, এককথায় প্রশ্নউত্তর, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নউত্তর, ব্যাখ্যাধর্মী, রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর এবং PDF ফাইল ডাউনলোড লিঙ্ক নিচে দেওয়া রয়েছে।

প্রথম অধ্যায়ঃ বহির্জাত প্রক্রিয়া তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ | উপঅধ্যায়-২ নদী

নদী – MCQ প্রশ্নউত্তর (মাধ্যমিক ভূগোল)

সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখাে । 

1. প্রায় কত শতাংশ অঞ্চলে ভূমিরূপ পরিবর্তনে নদী ভুমিকা নেয় ?
 ক ) ১০ শতাংশ খ ) ৩০ শতাংশ । গ) ৫০ শতাংশ ঘ ) ৭০ শতাংশ

উত্তরঃ  ঘ ) ৭০ শতাংশ

2. নদীর জলপ্রবাহ পরিমাপ করা হয় কোন এককে ?
 ক)  কিউসেক – এ খ ) মিলিবার – এ । গ) নট – এ ঘ) কিলােমিটার – এ

উত্তরঃ ক)  কিউসেক – এ

3. উচ্চগতিতে নদী উপত্যকার আকৃতি হয় ইংরেজি কোন অক্ষরের মতাে ?
 ক ) U- এর মতাে খ) W – এর মতাে  গ ) Z – এর মতাে ঘ ) V- এর মতাে 

উত্তরঃ ঘ ) V- এর মতাে ।

4. নদী যে – খাতের মধ্য দিয়ে বয়ে চলে , তাকে বলে — 
ক ) অববাহিকা  খ) নদীখাত গ) দোয়াব   ঘ ) জলবিভাজিকা

উত্তরঃ খ) নদীখাত

5. ক্ষয়কার্য সর্বাধিক হয় নদীর –
ক) উচ্চগতিতে   খ ) মধ্য ও নিম্নগতিতে গ) মধ্যগতিতে ঘ ) নিম্নগতিতে 

উত্তরঃ ক) উচ্চগতিতে

6. নিম্নলিখিত কোনটি ভারতের নিত্যবহ নদী ?
  ক) গঙ্গা খ ) অজয়   গ) দামােদর ঘ) তাপ্তি

উত্তরঃ  ক) গঙ্গা

7. সঞ্চয়কার্য সর্বাধিক পরিমাণে হয় নদীর কোন্ গতিতে ? 
ক) উচ্চ গতিতে খ ) মধ্যগতিতে গ)  নিম্নগতিতে ঘ ) মধ্য ও নিম্নগতিতে

উত্তরঃ  গ) নিম্নগতিতে

 8. দুটি নদীর মধ্যবর্তী ভূমিকে বলে –
 ক)  দোয়াব খ ) ধারণ অববাহিকা  গ ) অববাহিকা ঘ ) বদ্বীপ

উত্তরঃ ক) দোয়াব  

9. যে – উচ্চভূমি দুটি নদী অববাহিকাকে পৃথক করে , তাকে বলে –
 ক ) দোয়াব  খ) জলবিভাজিকা  গ ) উপত্যকা । ঘ ) বদ্বীপ 

উত্তরঃ খ)  জলবিভাজিকা

10.  নদী তার শাখা ও উপনদী – সহ যে – অঞ্চলের ওপর দিয়ে  প্রবহমান হয় , তাকে বলে নদীর 
ক )দোয়াব  খ)অববাহিকা গ) বদ্বীপ  ঘ ) নদী প্রবাহপথ 

উত্তরঃ খ)অববাহিকা

 11. মূলনদী থেকে যে – জলধারা নির্গত হয় , তাকে বলে
 ক)  উপনদী  খ) যুগ্মনদী  গ) শাখানদী ঘ) প্রধান নদী 

উত্তরঃ গ) শাখানদী

12. পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নদী যখন প্রধান নদীতে এসে মেশে তাকে – 
ক)  যুগ্মনদী  খ ) অন্তর্বাহিনী নদী গ) উপনদী ঘ) শাখানদী

উত্তরঃ গ) উপনদী

13.  আদর্শ নদীর কটি গতি থাকে ? 
ক) ২টি  খ) ৩টি গ)  ৪টি ঘ ) ৫টি 

উত্তরঃ খ) ৩টি

14. নিম্নলিখিত কোন নদীটি সবচেয়ে বেশি জলবহন করে? 
ক ) আমাজন  খ) নীলনদ গ)  রাইন ঘ ) কলােরাডাে 

উত্তরঃ খ)  নীলনদ 

15. ভারতে কোনটি আদর্শ নদীর উদাহরণ ?
 ক ) তাপ্তি  খ ) নর্মদা গ) গঙ্গা  ঘ) কাবেরী 

উত্তরঃ গ) গঙ্গা

16. গঙ্গানদীর উৎসভূমি হল-
 ক) সিয়াচেন হিমবাহ  খ) সিন – কা – বাব হিমবাহ  গ) গঙ্গোত্রী হিমবাহ ঘ) চেমায়ুং দুং হিমবাহ 

উত্তরঃ গ) গঙ্গোত্রী হিমবাহ

17.  কোনটি  প্রস্রবণ থেকে উৎপন্ন নদী ? 
ক)  সিন্ধু  খ) ব্ৰহ্মপুত্র  গ) বিতস্তা ঘ) দামােদর 

উত্তরঃ গ) বিতস্তা

18.এশিয়ার একটি অন্তর্বাহিনী নদী হল — 
ক) আমুদরিয়া খ) লেনা গ) সিকিয়াং  ঘ) ইরাবতী

উত্তরঃ ক) আমুদরিয়া  

19. নদীর বহনকার্যের উল্লেখযােগ্য প্রক্রিয়া কোনটি ?
 ক) অবঘর্ষ খ)  ঘর্ষণ গ) লম্ফদান   ঘ) উৎপাটন 

উত্তরঃ গ) লম্ফদান

 20. নদীর ক্ষয়কার্যের উল্লেখযােগ্য প্রক্রিয়া কোনটি ? 
ক) লম্ফদান খ) আকর্ষণ গ) উৎপাটন ,ঘ) অবঘর্ষ 

উত্তরঃ ঘ) অবঘর্ষ 

21. নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ হলে তার বহন ক্ষমতা কতগুণ বাড়ে ?
ক ) ৪ গুণ  খ) ৮ গুণ গ) ১৬ গুণ  ঘ) ৬৪ গুণ 

উত্তরঃ ঘ) ৬৪ গুণ

 22. যে – স্থানে নদী পরস্পর মিলিত হয় , তা হল-
 ক) নদীমােহানা খ)  নদীসংগম গ) নদীদোয়াব  ঘ) নদীদ্বীপ 

উত্তরঃ খ)  নদীসংগম

23. পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ কোন্ নদীতে দেখা যায় ? 
ক) নীলনদ  খ) আমাজন গ) গঙ্গা – ব্রহ্মপুত্র ঘ) মিসিসিপি – মিসৌরি

উত্তরঃ  গ) গঙ্গা – ব্রহ্মপুত্র

24. পৃথিবীর বৃহত্তম নদী গিরিখাত দেখা যায় কোন্ নদীতে?
ক) সিন্ধু  খ) ইয়ারলুং সাংপাে গ) কলােরাডাে ঘ) সেন্ট লরেন্স 

উত্তরঃ খ) ইয়ারলুং সাংপাে

25. আল ক্যানন দ্যা কলকা গিরিখাতটি কোন মহাদেশে অবস্থিত ? 
ক) উত্তর আমেরিকা খ) দক্ষিণ আমেরিকা  গ) আফ্রিকা ঘ) এশিয়া

উত্তরঃ খ) দক্ষিণ আমেরিকা

 26. গেরসােপ্পা জলপ্রপাত কোন নদীতে অবস্থিত ?
 ক) কৃষ্ণা খ) গােদাবরী  গ) সরাবতী ঘ) নর্মদা 

উত্তরঃ গ) সরাবতী 

27. নদী তার গতিপথে সিঁড়ির মতাে ধাপে ধাপে নীচে নেমে এলে, তাকে কি বলে-
ক) রাপিডস খ) ক্যাসকেড  গ) ক্যাটারাক্ট ঘ) খরস্রোত 

উত্তরঃ খ) ক্যাসকেড 

28.  পলল ব্যজনী গড়ে ওঠে-
 ক) পার্বত্য উচ্চভূমিতে  খ) পর্বত পাদদেশে গ) নিম্নগতিতে ঘ) বদ্বীপ অঞ্চলে

উত্তরঃ খ) পর্বত পাদদেশে

 29.  বদ্বীপ গঠিত হয় নদীর –
ক) মোহনায় খ) মধ্যগতিতে  গ) উৎসস্থলে ঘ) পার্বত্য গতিতে

উত্তরঃ ক) মোহনায়

30. জলপ্রপাতের নীচে বিশালাকার গর্তকে কী বলে ? 
ক) মনথকুপ  খ) আর্টেজীয় কুপ  গ) খরস্রোতা ঘ) প্রপাতকূপ 

উত্তরঃ ঘ) প্রপাতকূপ 

31.  মাজুলি নদীদ্বীপ গড়ে উঠেছে কোন নদীতে ? 
ক) গঙ্গানদীতে খ) গােদাবরী নদীতে গ)  মহানদী নদীতে ঘ) ব্রহ্মপুত্র নদীতে

উত্তরঃ  ঘ) ব্রহ্মপুত্র নদীতে

32.  নদীর মধ্যগতিতে প্রধান কাজ হল —
 ক) ক্ষয় খ) ক্ষয় ও বহন গ) বহন ঘ) বহন ও সঞ্চয় 

উত্তরঃ খ) ক্ষয় ও বহন

33. মধ্যগতিতে নদী উপত্যকার আকৃতি হয় ইংরেজি –
ক)  O অক্ষরের মতাে খ) V  অক্ষরের মতাে গ) U অক্ষরের মতাে ঘ) W অক্ষরের মতাে

উত্তরঃ গ) U অক্ষরের মতাে

34. ডেল্টা অক্ষরটি –
ক) বাংলা বর্ণমালার খ) ইংরেজি বর্ণমালার গ)  গ্রিক বর্ণমালার ঘ) সংস্কৃত বর্ণমালার

উত্তরঃ  গ) গ্রিক বর্ণমালার

 35. প্লাবনভূমির সন্নিহিত ভূমিরূপ হল –
ক) পলল ব্যজনী খ) খরস্রোত গ) স্বাভাবিক বাঁধ ঘ) জলপ্রপাত

উত্তরঃ গ) স্বাভাবিক বাঁধ

 36. পলল ব্যজনীর আকার হয় —
 ক) বৃত্তাকার খ) চৌকাকার গ) গােলাকার ঘ) ত্রিকোণাকার

উত্তরঃ  ঘ) ত্রিকোণাকার

37. পাখির পায়ের পাতার মতাে দেখতে বদ্বীপ হল —
ক) মিসিসিপি নদীর বদ্বীপ খ) নীলনদ নদীর বদ্বীপ গ) গঙ্গানদীর বদ্বীপ ঘ) রাইন নদীর বদ্বীপ 

উত্তরঃ ক) মিসিসিপি নদীর বদ্বীপ

38.  করাতের দাঁতের মতাে দেখতে বদ্বীপ হল 
ক) গঙ্গানদীর বদ্বীপ খ) মিসিসিপি নদীর বদ্বীপ গ) টাইবার নদীর বদ্বীপ ঘ) রাইন নদীর বদ্বীপ  

উত্তরঃ গ) টাইবার নদীর বদ্বীপ 

39.  বদ্বীপ প্রবাহে নদীর প্রধান কাজ হল —
 ক) ক্ষয়  খ) বহন গ) ক্ষয় ও বহন ঘ) সঞ্চয়

উত্তরঃ  ঘ) সঞ্চয়

40. কোনটি পার্বত্য অঞ্চলের নদীর বৈশিষ্ট্য ?
 ক) খরস্রোতা নদী খ) মন্থর গতির নদী গ) U – আকৃতির উপত্যকাবিশিষ্ট নদী  ঘ) স্রোতহীন নদী 

উত্তরঃ ক) খরস্রোতা নদী।

41. সুন্দরবন অঞ্চল বদ্বীপের কোন অংশের মধ্যে পড়ে ?
ক) মৃতপ্রায় খ) পরিণত গ) সক্রিয়  ঘ) আংশিক সক্রিয়

উত্তরঃ  গ) সক্রিয়

42.  সুন্দরবনের নিউমূর হল –
 ক) জলপ্রপাত খ) নবগঠিত দ্বীপ গ) পলল ব্যজনী  ঘ) বালিয়াড়ি

উত্তরঃ  খ) নবগঠিত দ্বীপ

43.  অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ সৃষ্টি হয় নদীর কোন্ কার্যের ফলে ? ক) ক্ষয় খ) ক্ষয় ও বহন গ) বহন ও সঞ্চয় ঘ)ক্ষয় , বহন , সঞ্চয় প্রক্রিয়ার মিলিত কার্যে 

উত্তরঃ ঘ)ক্ষয় , বহন , সঞ্চয় প্রক্রিয়ার মিলিত কার্যে 

 44.  নদীর জলস্রোত পরিমাপক যন্ত্রের নাম — 
ক) ব্যারােমিটার খ)অ্যানিমােমিটার গ) হাইগ্রোমিটার ঘ) কারেন্টমিটার 

উত্তরঃ ঘ) কারেন্টমিটার 

45. নদীর তলদেশের সঙ্গে নদীবাহিত শিলাখণ্ডের আঘাতকে বলে —
 ক) দ্রবণ ক্ষয় খ) বুদ্বুদ ক্ষয় গ) অবঘর্ষ ক্ষয় ঘ) জলপ্রবাহ ক্ষয়

উত্তরঃ  গ) অবঘর্ষ ক্ষয়

46. কোন ভূমিরূপটি নদীর উচ্চগতিতে সৃষ্টি হয় ?
 ক) স্বাভাবিক বাঁধ খ) পলল ব্যজনী গ) মন্থকুপ ঘ) বদ্বীপ 

উত্তরঃ গ) মন্থকুপ

47.  লবণযুক্ত শিলাস্তরের উপর নদীর প্রধান ক্ষয়প্রক্রিয়াটি হল —
ক)  অবঘর্ষ ক্ষয় খ) ঘর্ষণ ক্ষয় গ) জলপ্রবাহ ক্ষয় ঘ) দ্রবণ ক্ষয় 

উত্তরঃ ঘ) দ্রবণ ক্ষয় 

48. কোনটি ভারতের জলবিভাজিকার উদাহরণ ?
 ক) পশ্চিমঘাট পর্বত খ)  পশ্চিম উপকূল সমভূমি গ) গঙ্গা সমভূমি  ঘ) রাজস্থান মরুভূমি

উত্তরঃ ক) পশ্চিমঘাট পর্বত

 49. কোন ভূমিরূপটি নদীর মধ্যগতিতে সৃষ্টি হয় ? 
ক) প্রপাতকূপ খ) পলল ব্যজনী  গ) বদ্বীপ ঘ) খরস্রোত

উত্তরঃ  খ) পলল ব্যজনী

50. নদীর মােহানায় ডেল্টা ভূমিরূপের নামকরণ কে করেন ?
ক) পাওয়েল খ)  থর্নবেরি গ) হেরােডােটাস ঘ) অ্যালমান 

উত্তরঃ গ) হেরােডােটাস

51. কোন ভূমিরূপটি নদী তার নিম্নগতিতে সৃষ্টি করে ?
 ক) স্বাভাবিক বাঁধ  খ) পলল ব্যজনী গ) প্রপাতকূপ ঘ) শৃঙ্খলিত শৈলশিরা

উত্তরঃ ক) স্বাভাবিক বাঁধ

 52.  বদ্বীপে কোন্ ধরনের পদার্থ নদী সঞ্চয় করে –
ক) বােল্ডার খ)  পেবেল গ) বালি ঘ) সূক্ষ্ম পলি

উত্তরঃ খ) পেবেল 

53. পৃথিবী বিখ্যাত ক্যানিয়ন কোন নদীতে অবস্থিত –
ক) সাংপাে খ)  কলােরাডাে গ) মিসিসিপি ঘ)  সিন্ধু 

উত্তরঃ খ)  কলােরাডাে

54. কোনটি নদীর ক্ষয়কার্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় –
 ক)  অবঘর্ষ  খ) ঘর্ষণক্ষয়  গ) অপবাহন ঘ) দ্রবণ 

উত্তরঃ গ) অপবাহন

55. কোন্ প্রবাহে নদীর জলের বেগ সর্বাধিক হয় — 
ক) উচ্চপ্রবাহ খ)  মধ্যপ্রবাহ গ) নিম্নপ্রবাহ  ঘ) বদ্বীপ প্রবাহ

উত্তরঃ ক) উচ্চপ্রবাহ।

নদী – দু – এক কথায় উত্তর দাও (মাধ্যমিক ভূগোল)

1. নদী কাকে বলে ?
 উত্তর: যে – নদীতে সারাবছর জল প্রবাহিত হয় । 

2. ভারতের একটি নিত্যবহ নদীর উদাহরণ দাও । 
উত্তর:  গঙ্গানদী ।

 3. নদী কী কী প্রক্রিয়ায় ক্ষয়সাধন করে ?
 উত্তর:  অবঘর্ষ , ঘর্ষণ , জলপ্রবাহ ক্ষয় , বুদবুদ ক্ষয় , দ্রবণ প্রক্রিয়ায় ।

 4.  নদী কী কী প্রক্রিয়ায় বহনকার্য করে ? 
উত্তর:  লম্ফদান , ভাসমান , দ্রবণ ও আকর্ষণ প্রক্রিয়ায় । 

5. নদী দ্বারা প্রবাহিত পদার্থকে কী বলে ?
 উত্তর:  নদীর ভার বা বােঝা ।

 6.  চওড়া নদীর মােহানা কী নামে পরিচিত ?
 উত্তর: খাঁড়ি ।

 7. পৃথিবীর নিরক্ষীয় অঞ্চলের নদীগুলিতে জলের প্রধান উৎস কোনটি ?
 উত্তর:  বৃষ্টির জল ।

 8.  ভূপৃষ্ঠে প্রবহমান জলরাশির পরিমাণ কত শতাংশ ?  উত্তর: পৃথিবীতে পৃষ্ঠজলের শতকরা পরিমাণ মিষ্টি জলের মাত্র ১ . ৩ % ।

 9.  নদীতে জলের বহমানতা বজায় থাকে কীভাবে ? উত্তর:  জলচক্রের মাধ্যমে । 

10. নদীর কোন গতিতে জলপ্রপাত দেখা যায় ?
 উত্তর: উচ্চগতিতে । 

11. জলপ্রপাতের তলদেশে সৃষ্ট গর্তকে কী বলে ?
 উত্তর:  প্লাঞ্জপুল বা প্রপাতকুপ ।

 12.  নদীবাহিত প্রস্তরখণ্ড নদীতে আঘাত করে যে – ক্ষয় করে সেই ক্ষয়পদ্ধতির নাম কী ? 
উত্তর:  অবঘর্ষ ক্ষয় ।

 13. নদীর জলের প্রবাহ পরিমাপের একককে কী বলে ? উত্তর: কিউসেক ও কিউমেক । 

14.  ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তে অবস্থিত একটি নিমজ্জমান দ্বীপের নাম করাে ।
 উত্তর:  নিউমূর বা দক্ষিণ তালপট্টি ।

15. নদীর মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহিত ঘনফুট জলকে কী বলে ? 
উত্তর: কিউসেক । 

16.  পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্যের নাম কী ?
 উত্তর:  সুন্দরবন । 

17. গঙ্গা কেন আদর্শ নদী ? 
উত্তর:  গঙ্গানদীতে উচ্চ বা পার্বত্য , মধ্য বা সমভূমি , নিম্ন বা বদ্বীপ প্রবাহ সুস্পষ্ট , তাই একে আদর্শ নদী বলে ।

 18.  সুন্দরবন এলাকার কয়েকটি দ্বীপের নাম লেখাে যেগুলি ক্রমশ নিমজ্জিত হচ্ছে ।
 উত্তর: ঘােড়ামারা , লােহাচড়া ও নিউমুর ।

19.  নিউমূর দ্বীপ বাংলাদেশে কী নামে পরিচিত ?
 উত্তর:  দক্ষিণ তালপট্টি । 

20. নদীর ক্ষয়সীমা ধারণার প্রবর্তক কে ?
 উত্তর:  J W Powell .

 21.  নদীর নির্দিষ্ট স্থান দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যত ঘন আয়তন জল প্রবাহিত হয় , তাকে কী বলে ?
 উত্তর:  নদীর জলক্ষরণ । 

22. নদীর ষষ্ঠঘাত সূত্র ’ – এর প্রবর্তক কে ?
 উত্তর:  W . Hopkins .
23. শুষ্ক অঞ্চলে গঠিত গিরিখাতকে কী বলা হয় ?
 উত্তর:  ক্যানিয়ন । 

24. অসংখ্য পটহােল একসঙ্গে গড়ে উঠলে তাকে কী বলে ?
 উত্তর:  পটহােল কলােনি ।

 25. ভারতের কোন ভূপ্রাকৃতিক অংশের নদীগুলিতে গিরিখাত দেখা যায় ? 
উত্তর:  হিমালয় ।

 26. কোন গতিতে নদী তার সৃষ্ট পদার্থের সবটাই বহন করে ? 
উত্তর:  উচ্চগতিতে ।

 27.  অসংখ্য ছােটো ছােটো রাপিডস পাশাপাশি অবস্থান করলে তা কী নামে পরিচিত ?
 উত্তর:  ক্যাসকেড ।

 28. পর্বতের পাদদেশে নদীসঞ্চয়কার্যে সৃষ্ট হাতপাখার মতাে ভূমিরূপটির নাম কী ?
 উত্তর:  পলল ব্যজনী বা পলল পাখা । 

29.  পশ্চিমবশের কোন অঞ্চলের নদীতে খাঁড়ি দেখা যায় ? উত্তর:  সুন্দরবন বা সক্রিয় বদ্বীপ । 

30.  পৃথিবীর বৃহত্তম কোন্ নদীটির মােহানায় বদ্বীপ গড়ে ওঠেনি ?
 উত্তর:  আমাজন । 

31. নদী ক্ষয়কার্যের কোন্ প্রক্রিয়ায় মন্থকুপ গড়ে ওঠে ? উত্তর: অবঘর্ষ ।

 32. নদী অববাহিকার পার্বত্য অংশ কী নামে পরিচিত ? উত্তর: ধারণ অববাহিকা ।

33. কোন্ গতিতে নদী সর্বাধিক সঞ্চয় করে ? 
উত্তর: নিম্নগতিতে । 

34. ভারতে প্রবাহিত দুটি পূর্ববর্তী নদীর উদাহরণ দাও । উত্তর: গঙ্গা ও সিন্ধু । 

35. বৃহদায়তন রাপিডসকে কী বলা হয় ?
 উত্তর:  জলপ্রপাত ।

 36.ক্যাটারাক্ট কী ? 
উত্তর:  জলপ্রপাতে প্রবল জলরাশি প্রবাহিত হলে তা ক্যাটারাক্ট ।

 37. বিন্দুবার কী ?
 উত্তর:  নদীবাঁকের মৃদুঢ়ালু উত্তল অংশের সঞ্চয়কে বিন্দুবার বলে ।

38. কোন্ নদীর নাম অনুসারে মিয়েন্ডার ভূমিরূপের নামকরণ হয়েছে ?
 উত্তর:  তুরস্কের মিয়েন্ডারেস ।

 39. গঙ্গা – ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের আকৃতি কীরূপ ?
 উত্তর:  ধনুকের মতাে বা ধনুকাকৃতি । 

40. খাঁড়ি ভূমিরূপটি কোথায় গঠিত হয় ?
উত্তর: নিম্নগতিতে নদীর মােহানায় ।

 41. একটি নদীর উদাহরণ দাও যেটি বৃষ্টির জলে পুষ্ট হওয়া সত্ত্বেও চিরপ্রবাহী । 
উত্তর:  আফ্রিকার কঙ্গো নদী ।

নদী – সংক্ষিপ্ত প্রশ্নউত্তর (River – Short Question and Answer) | মাধ্যমিক ভূগোল

1.  নদী ( River ) কাকে বলে ?

 উত্তর : নদী হল এক স্বাভাবিক জলধারা যা উচ্চভূমি থেকে তুষারগলা জল বা বৃষ্টির জলে পুষ্ট হয়ে বা প্রস্রবণ থেকে উৎপন্ন হয়ে ভূমির ঢাল অনুসারে ভূপৃষ্ঠের নির্দিষ্ট খাত দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাগর , হ্রদ বা অন্য কোনাে জলধারায় এসে মিলিত হয় । যেমন — গঙ্গা , সিন্ধু , ব্রহ্মপুত্র ইত্যাদি । 

2. জলচক্র ( Hydrological cycle ) কাকে বলে ? 

উত্তর :  বাষ্পীভবন , ঘনীভবন , অধঃক্ষেপণ , পৃষ্ঠপ্রবাহ প্রভৃতি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বারিমণ্ডল , বায়ুমণ্ডল ও স্থলভাগের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে জলের বিরামহীন চক্রাকার পরিবর্তন হল জলচক্র । 

3. জলচক্রের প্রধান প্রক্রিয়াগুলি কী কী ?

 উত্তর : জলচক্রের প্রধান প্রক্রিয়াগুলি হল — বাষ্পীভবন ( Evaporation ) , ঘনীভবন ( Condensation ) , অধঃক্ষেপণ ( Precipitation ) , পৃষ্ঠপ্রবাহ ( Surface runoff ) , অনুস্রাবণ ( Infiltration ) ইত্যাদি । 

4. নদীর জলের উৎসগুলি কী কী ? বা , নদীর জল কোথা থেকে আসে ?

 উত্তর : বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির জল , তুষার , বরফ ও হিমবাহ গলা জল , প্রস্রবণ দিয়ে বেরিয়ে আসা ভৌমজল ইত্যাদি হল নদীর জলের উৎস ।

5. উপনদী ও শাখানদী কাকে বলে ? 

উত্তর : উপনদী ( Tributaries ) : প্রধান নদীর গতিপথের অনেক স্থানে ছােটো নদী এসে মূলনদীতে মিলিত হয় , এইসব ছােটো ছােটো নদীকে প্রধান নদীর উপনদী বলা হয় । যেমন — যমুনা  হল গঙ্গার উপনদী ।
  শাখানদী ( Distributeries ) : কোনাে বড় নদী থেকে অন্য কোনাে নদী বেরিয়ে এসে সাগরে বা অন্য কোনাে নদীতে বা সেই নদীতেই এসে পড়লে তাকে শাখানদী বলে । যেমন — গঙ্গার প্রধান  শাখানদী হল ভাগীরথী – হুগলি । 

6. নদী অববাহিকা ( River Basin ) কাকে বলে ? 

উত্তরঃ যে – সুনির্দিষ্ট অঞ্চললের মধ্য দিয়ে মূলনদী, তার শাখা নদী ও উপনদী – সহ প্রবাহিত হয় , তাকে বলা হয় নদী অববাহিকা । 

7.নদীর ধারণ অববাহিকা ( Catchment Basin ) বলতে কী বােঝ ?

 উত্তর : নদী অববাহিকার মধ্যে পার্বত্য বা উচ্চভূমি অংশে নদী যতটুকু অঞ্চল অধিকার করে আছে , তাকে বলা হয় নদীর ধারণ  অববাহিকা ।

 8. ধারণ অববাহিকা নদীর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কেন ?

 উত্তর : নদীর গতিবেগ ও ঢাল , নদীতে উপস্থিত পলির পরিমাণ ও তার গুণাগুণ , জলের পরিমাণ ইত্যাদি অনেকটাই নদীর ধারণ অববাহিকার চরিত্রের ওপর নির্ভরশীল । তাই ধারণ অববাহিকা নদীর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ । 

9. নদী উপত্যকা ( River Valley ) কাকে বলে ? 

উত্তর : উৎস থেকে মােহানা পর্যন্ত নদীর উভয় পাশের উচ্চভূমির মধ্যে সংকীর্ণ ও দীর্ঘ ভূমি হল নদী উপত্যকা । 

10. নদীখাত কী ?

 উত্তর : নদী উপত্যকার নির্দিষ্ট যে – অংশ দিয়ে জল বাহিত  হয় , তা হল নদীখাত ।

 11. নদীখাত ও নদী উপত্যকার মধ্যে তফাত কী ?

 উত্তর : নদীর উৎস থেকে মােহনা পর্যন্ত নদীর উভয় পাশের উচ্চভূমির মধ্যে সংকীর্ণ ও দীর্ঘ ভূমি হল নদী উপত্যকা । অপরদিকে নদী উপত্যকার যে – নির্দিষ্ট অংশ দিয়ে জল প্রবাহিত হয় , তা হল নদীখাত । অতএব নদী উপত্যকার মধ্যেই নদীখাত অবস্থান করে । 

12. নদীবর্তন ( River Regime ) কী ? 

উত্তর : নদীর জলের পরিমাণ সারাবছর সমান থাকে না । ঋতু – পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কখনও কম বা কখনও বেশি হয় । নদীর জলধারার এই পর্যায়ক্রমিক ও ঋতুভিত্তিক পরিবর্তনকেই  নদীবর্তন বলে । 

13. জলবিভাজিকা ( Watershed ) বলতে কী বােঝ ? 

উত্তর : যে – উচ্চভূমি দুই বা ততােধিক নদীগােষ্ঠী বা নদী বা নদী অববাহিকাকে পৃথক করে, তাকে জলবিভাজিকা বলে। পর্বত , পাহাড় , উচ্চ মালভূমি  ইত্যাদি ভূমিরূপ জলবিভাজিকা হিসেবে অবস্থান করে ।

14. ভারতের বিখ্যাত দুটি জলবিভাজিকার নাম লেখাে । 

উত্তর : ভারতের বিখ্যাত দুটি জলবিভাজিকা হল — হিমালয় পার্বত্যভূমি এবং পশ্চিমঘাট পর্বত । 

15. নদী কী কী কারণে নিত্যবহ হয় ?

উত্তর : নদী অববাহিকায় সারাবছর বৃষ্টি হলে কিংবা নদী বৃষ্টি ও বরফগলা জলে পুষ্ট হলে নিত্যবহ বা চিরপ্রবাহী হয় ।
16.  দোয়াব ( Doab ) কাকে বলে ?

উত্তর: দুটি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে দোয়াব বলা হয় ।

 17. নদীসংগম বলতে কী বােঝ ? 

উত্তর : দুটি নদী যেখানে মিলিত হয় , সেই স্থানকে বলা হয় নদীসংগম । যেমন — গঙ্গা ও যমুনার সংগমস্থল হল এলাহাবাদ ।

18. বিনুনি নদী কাকে বলে ? 

উত্তর : নদীখাতে অসংখ্য চড়ার সৃষ্টি হলে নদী অসংখ্য খাতে ভাগ হয়ে এঁকেবেঁকে বিনুনির ন্যায় প্রবাহিত হয় । একেই বিনুনি নদী বলে । পর্বতের পাদদেশে , মােহানায় বদ্বীপ থাকলে বিনুনি নদী দেখা যায় । 

19. নদীর কাজ কী কী ? 

উত্তর : উৎস থেকে মােহানা পর্যন্ত নদীর কাজ হল ক্ষয় , বহন ও সঞ্চয় । এই তিনটি প্রক্রিয়ায় ভূমিরূপের পরিবর্তন হয় ।

 20. নদী কোন্ কোন্ পদ্ধতিতে ক্ষয়কাজ করে ?

 উত্তর : নদী প্রধানত চারভাবে ক্ষয়কাজ করে । যেমন — ( i) জলপ্রবাহ ক্ষয় , ( ii ) অবঘর্ষ , ( iii ) ঘর্ষণ ক্ষয় এবং(iv) দ্রবণ ক্ষয় । 

21. নদী কোন কোন প্রক্রিয়ায় বহন করে ?

উত্তর : নদী প্রধানত চাররকম প্রক্রিয়ায় বহন করে । যেমন ( i ) দ্রবণ প্রক্রিয়া , ( ii ) ভাসমান প্রক্রিয়া , ( iii ) লম্মদান প্রক্রিয়া , ( iv ) আকর্ষণ প্রক্রিয়া ।

 22.‘ যষ্ঠ ঘাত ’ – এর সুত্র ( Sixth Power Law ) কী ? 

উত্তর : নদীর গতিবেগের সঙ্গে বহন ক্ষমতার সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক আছে । দেখা গেছে নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ হলে তার বহন ক্ষমতা বাড়ে ৬৪ গুণ  হারে । এটি হল ষষ্ঠ ঘাতের সূত্র , যার ব্যাখ্যা দেন ১৮৪২ খ্রিস্টাব্দে – W . Hopkins ।

 23. কিউসেক ও কিউমেক কী ?

 উত্তরঃ  কিউসেক ( Cusec ) : কোনাে নদীতে একটি নির্দিষ্ট  স্থান দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যত ঘনফুট ( Cubic feet per second ) জল প্রবাহিত হয় , তা হল কিউসেক । কিউমেক ( Cumec ) : নদীর একটি নির্দিষ্ট স্থান দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যত ঘনমিটার ( Cubic meter per second ) জল প্রবাহিত হয় , তাকে বলে কিউমেক ।

 24. নদীর গতি ক – টি ও কী কী ? 

উত্তর : নদীর তিনটি গতি ; যথা — উচ্চগতি , মধ্যগতি ও নিম্নগতি ।

 25. আদর্শ নদী ( Ideal river ) বলতে কী বােঝ ও উদাহরণ দাও ।
উত্তর : উৎস থেকে মােহানা পর্যন্ত অংশে যে – নদীর তিনটি
গতি – প্রবাহই ( উচ্চগতি , মধ্যগতি , নিম্নগতি ) সুস্পষ্ট থাকে , তাকে বলে আদর্শ নদী । যেমন — গঙ্গা  হল একটি আদর্শ নদী ।

 26.গঙ্গানদীর উচ্চগতি , মধ্যগতি ও নিম্নগতির সীমানা নির্ধারণ করাে । 

উত্তর : গঙ্গার উচ্চগতি হল গঙ্গোত্রী হিমবাহের গােমুখ গুহা থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত ২৩০ কিমি , মধ্যগতি হল হরিদ্বার থেকে ধুলিয়ান পর্যন্ত এবং ধুলিয়ান থেকে বঙ্গোপসাগরের মােহানা পর্যন্ত হল গঙ্গার বদ্বীপ প্রবাহ ।

 27. উচ্চগতিতে পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় অধিক কেন ? 

উত্তর : উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহে নদীর ঢাল অনেক বেশি থাকে । ফলে নদী প্রবল বেগে প্রবাহিত হয় । এই অংশে অবস্থিত ছােটো – বড়াে প্রস্তরখণ্ড নদীর সঙ্গে বাহিত হওয়ার সময় অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় নীচের দিকে ক্ষয় করে , ফলে উচ্চগতিতে নদীর পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় অনেক বেশি হয় । 

28. গিরিখাত ( Gorge ) কাকে বলে ? 

উত্তর : বৃষ্টিবহুল অতি উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে নদীর নিম্নক্ষয়ের মাত্রা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় নদী উপত্যকা সংকীর্ণ ও অতি গভীর হয় । এই ধরনের অতি গভীর ও সংকীর্ণ নদী উপত্যকাকেই গিরিখাত বলে । 

29. গিরিখাত অত্যন্ত সুগভীর হয় কেন ?

 উত্তর : উচ্চপর্বতের খাড়া ঢাল বেয়ে নদী যখন তীব্র গতিতে নীচে নেমে আসে তখন তার গতিবেগ অনেক বেশি থাকে । নদীর তীব্র জলস্রোত ও জলস্রোতের সঙ্গে বাহিত প্রস্তরখন্ডের আঘাতে নদীর নিম্নক্ষয় বেশি হয় । এই কারণে গিরিখাত অত্যন্ত সুগভীর হয় । নবীন ভঙ্গিল পর্বত উচ্চ বলেই এখানে গিরিখাত সৃষ্টি হয় ।

 30. ক্যানিয়ন ( Canyon ) কাকে বলে ?

 উত্তর : শুষ্ক অঞ্চলে নদী উচ্চগতিতে শুধুমাত্র নিম্নক্ষয়ের মাধ্যমে ‘ I ‘ আকৃতির গিরিখাত সৃষ্টি করলে তাকে ক্যানিয়ন বলে।

31. ক্যানিয়ন অত্যন্ত গভীর হয় কেন ? 

উত্তর : ক্যানিয়ন প্রধানত উচ্চ শুষ্ক অঞ্চলে দেখা যায় । এখানে প্রবাহিত চিরপ্রবাহী নদী  নিম্নক্ষয়ের মাধ্যমে গভীরতা বাড়ায় কিন্তু বৃষ্টির অভাবে পার্শ্বক্ষয় তেমন হয় না বলে উপত্যকাটি অত্যন্ত গভীর ও সংকীর্ণ হয় । 

32.নবীন ভঙ্গিল পর্বতে অসংখ্য গিরিখাত গড়ে ওঠে কেন ? 

উত্তর : নবীন ভঙ্গিল পর্বতগুলি সুউচ্চ ও নরম শিলা দ্বারা গঠিত অঞ্চল । ফলে এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলির ক্ষয়ের মাত্রা ( নিম্নক্ষয় ) অত্যন্ত বেশি হয় বলেই উপত্যকা হয়েছে  অতি গভীর ও সংকীর্ণ ।

33. পৃথিবী বিখ্যাত ক্যানিয়নটির নাম কী ? এবং তা কোন নদীতে গড়ে উঠেছে ?

উত্তর : পৃথিবীর বিখ্যাত ক্যানিয়নটির নাম হল গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন এবং এটি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের কলােরাডাে নদীতে অবস্থিত । 

34. রাপিডস বা খরস্রোত কী ? 

উত্তর : নদীগর্ভে পর্যায়ক্রমে কঠিন ও নরম শিলা অবস্থান করলে , কঠিন শিলা অপেক্ষা নরম শিলা বেশি ক্ষয় হয় এবং বন্ধুরতা বাড়ে । ফলে নদীর জল ধাপে ধাপে নেমে আসে । একে রাপিডস  বা খরস্রোত বলে । হিমালয়ের অলকানন্দা , ভাগীরথী ইত্যাদি নদীতে রাপিডস দেখা যায় । 

35. প্রপাতকূপ বা প্লাঞ্জপুল কাকে বলে ?

 উত্তর : জলপ্রপাতের জল প্রবলবেগে যেখানে পড়ে বিশালাকার হাঁড়ির মতাে গর্তের সৃষ্টি হয় । একে প্লাঞ্জপুল বলে । 

36.  মন্থকূপ ( Pot hole ) কী ? 

উত্তরঃ নদীর উচ্চগতিতে জলস্রোতে বাহিত প্রস্তরখণ্ড অবঘর্ষ পদ্ধতিতে নদীগর্ভ ক্ষয় করে হাঁড়ির মতাে বড়াে বড়াে গর্ত সৃষ্টি  করে । এই গর্তগুলিকে মন্থকূপ বা ( Pot hole ) বলে । মন্থকূপ সৃষ্টির মাধ্যমে নদীর গভীরতা বাড়তে থাকে । 

37. শৃঙ্খলিত শৈলশিরা ( Interlocking spur ) কী ? 

উত্তরঃ পার্বত্য অঞ্চলে নদীপথের বাধাস্বরূপ শৈলশিরা বা পাহাড় থাকলে তা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য নদী এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয় । তখন শৈলশিরাগুলিকে দূর থেকে দেখে মনে হয় উপত্যকায় শৃঙ্খলিত হয়ে আবদ্ধ আছে । এটি হল আবদ্ধ বা শৃঙ্খলিত শৈলশিরা । 

38. মিয়েন্ডার ( Meander ) বা নদীবাঁক কাকে বলে ? 

উত্তর : সমভূমি অঞ্চলে নদীর প্রবাহপথে বাধা থাকলে তা এড়ানাের জন্য নদী আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হয় । নদীর এই আঁকাবাঁকা প্রবাহকে মিয়েন্ডার বা নদীবাঁক বলে ।

 39. মিয়েন্ডার ভুমিরূপের নামকরণের কারণ কী ? 

উত্তরঃ তুরস্কের ‘ মিয়েন্ডারেস ’ নদীটি অত্যন্ত এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয়েছে । এই ‘ মিয়েন্ডারেস ’ থেকেই নদীর আঁকাবাঁকা গতিপথের নাম হয়েছে মিয়েন্ডার ।

 40. নদীর মধ্য ও নিম্নগতিতে মিয়েন্ডার সৃষ্টি হয় কেন ? 

উত্তর : মধ্য ও নিম্নগতিতে নদীর বেগ হ্রাস পায় । ফলে নদী কোনাে বাধা পেলে তা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য এঁকেবেঁকে বাহিত হয় । তাই মধ্য ও নিম্নগতিতে নদীবাঁক বা মিয়েন্ডারের সৃষ্টি হয় ।

 41. নদীচর ও নদীদ্বীপ – এর পার্থক্য কী ? 

উত্তরঃ নদীগর্ভে পলি সঞ্চিত হয়ে সৃষ্ট ভূমিরূপ হল নদীচর এবং সেই চর অংশে আরও পলি সঞ্চিত হয়ে তা জলের ওপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকলে তাকে বলে নদীদ্বীপ । 

42. বদ্বীপ ( Delta ) কী ? 

উত্তর : প্রবাহের শেষপ্রান্তে মােহানায় নদী যেখানে সাগর বা হ্রদে মেশে সেখানে নদীবাহিত কাদা , পলি , বালি স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে মাত্রাহীন ‘ ব ’ বা গ্রিক অক্ষর ডেলটা ( A ) – র মতাে যে – ভূমিরূপ সৃষ্টি হয় , তা হল বদ্বীপ ।

 43. ডেল্টা ( A ) নামকরণের কারণ কী ? 

উত্তর : গ্রিক ঐতিহাসিক হেরােডােটাস নীলনদের মােহানায়  তিনকোনাকৃতি নদীর সঞ্চয়জাত ভূমিকে গ্রিক অক্ষর ডেল্টার সঙ্গে তুলনা করে একে ডেল্টা ( A ) নাম দেন । বাংলায় একেই বদ্বীপ বলে ।

44. গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদে অসংখ্য নদীদ্বীপ ও চর সৃষ্টি হয়েছে কেন ? 

উত্তর : গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদের মধ্য ও নিম্নগতি সম্পূর্ণই সমভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত । তাই এখানে নদীর মন্থর গতির কারণে নদীর দ্বারা বয়ে আনা পলি বালির বহন করে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা কম থাকা । সেই পলি বালি নদীগর্ভে জমে অসংখ্য নদীদ্বীপ ও নদীর সৃষ্টি করে । তা ছাড়া উক্ত নদী দুটির উৎসস্থল নরম  পাললিক শিলাগঠিত হলে নদীতে পলির পরিমাণও খুব বেশি ।

 45. প্লাবনভূমির মধ্যে কোন্ কোন্ ভূমিরূপ গড়ে ওঠে ? 

উত্তর : প্লাবনভূমির মধ্যে স্বাভাবিক বাঁধ ( লিভি ) , ঢালু স্তুপ , অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ , ঝিল , বিল ( জলাভূমি ) ইত্যাদি গড়ে ওঠে । 

46. স্বাভাবিক বাঁধ বা লিভি কী ? 

উত্তর : নদীর দু – কুল ছাপিয়ে প্লাবন হলে সবচেয়ে বেশি পলি নদীর দুই তীরে জমা হয় । ফলে , যে একটু বেশি উঁচু নদীপাড় তৈরি হয় , তাকে স্বাভাবিক বাঁধ বলে । 

47. খাড়ি ( Estuary ) কাকে বলে ? 

উত্তর : নদী মােহানার শেষপ্রান্তে নদী যেখানে সাগর বা হ্রদে মেশে সেখানে ফানেল আকৃতির নদীমােহানাকে খাড়ি বলে । টেমস , লা প্লাটা নদীর খাঁড়ি অত্যন্ত চওড়া । 

48. সুন্দরবন অঞ্চলের নদীগুলিতে খড়ি দেখা যায় কেন ? 

উত্তর : সুন্দরবন অঞ্চলের নদীগুলিতে প্রতিনিয়ত তীব্র জোয়ারভাটা খেলে । এই অঞ্চলের নদী মােহানার বিপরীত দিক থেকে আসা প্রবল জোয়ারে নরম পলিমাটি গঠিত পাড় ভেঙে গিয়ে ফানেলাকৃতি বিশিষ্ট খাঁড়ির সৃষ্টি করে । তাই সুন্দরবন অঞ্চলের নদীগুলিতে খাঁড়ি দেখা যায় । 

49. ভারতের বৃহত্তম নদীদ্বীপের নাম ও অবস্থান লেখাে । 

উত্তরঃ ভারতের বৃহত্তম নদীদ্বীপের নাম হল মাজুলি এবং এটি অসমে ব্ৰহ্মপুত্র নদে অবস্থিত ।

 50. সমপ্রায়ভূমি কী ? 

উত্তর : বৃষ্টিবহুল আর্দ্র অঞ্চলে নদীর জলপ্রবাহ , বৃষ্টির জল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে প্রাচীন মালভূমি এবং উচ্চভূমি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয় পেতে পেতে একসময় উঁচুনীচু ঢেউ খেলানাে ভূমি বা প্রায় সমতলভূমিতে পরিণত হলে তাদের সমপ্রায়ভূমি বলা হয় । 

51. উদাহরণসহ প্রধান দু – রকম বদ্বীপের নাম লেখাে । 

উত্তর : প্রধান দু – ধরনের বদ্বীপ হল – i) ধনুকাকৃতি বদ্বীপ : উদাহরণ – গঙ্গা – ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ ও (ii) পাখির পায়ের মতাে বদ্বীপ : উদাহরণ — মিসিসিপি মিসৌরি বদ্বীপ ।

 52. সুন্দরবনের দুটি গুরুত্ব লেখাে ।

 উত্তর : ( i ) এটি পৃথিবীর অন্যতম বায়ােস্ফিয়ার পার্ক , যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে । ( i ) এই বনভূমি সামুদ্রিক ঝড় ও জলােচ্ছ্বাস আটকায় বলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের কৃষিজমি লবণাক্ততার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে । 

53. সুন্দরবন অঞ্চলের দুটি দ্বীপের নাম লেখাে যেগুলি ক্রমশ বিলীন হচ্ছে ।

 উত্তর : সুন্দরবন অঞ্চলের লােহাচড়া ও ঘােড়ামারা দ্বীপ ক্রমশ বিলীন হচ্ছে । 

54. আমাজন প্রচুর জল বহন করে কেন ? 

উত্তর : আমাজন অববাহিকা সুবিশাল এবং অববাহিকার প্রায় পুরােটাই নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত । অববাহিকায় সারাবছর ধরেই প্রবল বৃষ্টি হয় বলেই এই নদ প্রচুর জল বহন করে ।

55. বৃষ্টির জলে পুষ্ট হওয়া সত্ত্বেও কঙ্গো নদী চিরপ্রবাহী কেন ? 

উত্তর : কঙ্গো নদী নিরক্ষীয় অখুলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় অববাহিকা অঞ্চলে প্রায় সারাবছর প্রবল বৃষ্টি হয় । সারাবছর বৃষ্টি হওয়ার কারণেই নদীটি চিরপ্রবাহী হয়েছে । 

56. পাখির পায়ের মতাে বদ্বীপ কীভাবে গঠিত হয় ? 

 উত্তর : মূল নদী অসংখ্য শাখা – প্রশাখায় ভাগ হয়ে পাখির পায়ের আঙুলের মতাে দীর্ঘ ও সংকীর্ণ হয়ে সমুদ্রের দিকে এগােলে নদী  বরাবর সক্ষয়কার্যে পাখির পায়ের মতাে বদ্বীপ সৃষ্টি হয় । যেমন – মিসিসিপি মিসৌরী বদ্বীপ ।

নদী – ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মাধ্যমিক ভূগোল)

1. জলচক্রের অংশ হিসেবে নদীর ভূমিকা কীরূপ ?

 উত্তর : সাগর , মহাসাগর , হ্রদ , অন্যান্য জলাশয় এবং মৃত্তিকার কৈশিক জল বাষ্পীভবন ( Evaporation ) প্রক্রিয়ায় জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়ে ওপরে ওঠে এবং ঘনীভূত ( Condensation ) হয়ে সৃষ্টি হয় মেঘ । এই মেঘ আকাশে ভেসে বেড়ায় এবং বায়ু সম্পৃক্ত হলে এই মেঘ থেকেই অধঃক্ষেপণ ( Precipitation ) ঘটে , ( যেমন — বৃষ্টি , শিলাবৃষ্টি , তুষারপাত ) , যা ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে । 
           এই বৃষ্টি , শিলাবৃষ্টি , হিমবাহ ও তুষারগলা জলের কিছুটা । অংশ মাটি চুঁইয়ে ভূঅভ্যন্তরে প্রবেশ করে ( একে বলে অনুস্রাবণ বা Infiltration ) এবং বাকি অংশ পৃষ্ঠপ্রবাহ ( Surface runoff ) হিসেবে ভূপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে স্থানীয় প্রবাহ রুপে নদীখাত সাগরে গিয়ে মেশে । জলের এই চক্রাকার আবর্তন হল জলচক্র এবং এটি বলাই যায় যে , এই জলচক্রের অংশ হিসেবে নদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় । 

2. নদীর ক্ষয় প্রক্রিয়া কোন কোন বিষয়ের ওপর  নির্ভরশীল ? 

উত্তর : নদীর ক্ষয়কাজ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে – ( i ) নদীর গতিবেগ : নদীর গতিবেগ নির্ভর করে নদীর ঢালের ওপর । পার্বত্য অঞ্চলে তাই অধিক ঢালের জন্য গতিবেগ অনেক বেশি হয় । ফলে জলপ্রবাহ দ্বারা ক্ষয়ও বৃদ্ধি পায় । নদীর গতিবেগ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদীবাহিত পদার্থও গতিবেগ প্রাপ্ত হয় । সেই সকল পদার্থসমূহই তখন অবঘর্ষ ও ঘর্ষণ ক্ষয় প্রক্রিয়ায় ক্ষয় করে ।
 ( ii ) জলের পরিমাণ : বর্ষাকালে নদীতে জলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় । তাই অন্যান্য ঋতু অপেক্ষা এই ঋতুতে নদীর ক্ষয় বেশি হয় ।
 ( iii ) শিলাস্তরের প্রকৃতি : নদীর তলদেশে ও পার্শ্বদেশে নরম শিলাস্তর থাকলে , তা কঠিন শিলাস্তর অপেক্ষা দ্রুত ক্ষয় পায় । 
( iv ) প্রবাহিত পদার্থের আয়তন ও পরিমাণ : নদীবাহিত পদার্থের আয়তন ও পরিমাণ যত বাড়ে ততই নদীর অবঘর্ষ ও ঘর্ষণ ক্ষয়  পদ্ধতিতে ক্ষয় বাড়ে । 

3. নদীর ক্ষয়কার্যের প্রক্রিয়াগুলি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করাে । 

উত্তর : নদী চারভাবে ক্ষয় করে —
( i ) জলপ্রবাহ ক্ষয় : জলস্রোতের প্রবল আঘাতে নদীখাত ও নদীপাড়ের অপেক্ষাকৃত কোমল শিলা খুলে বেরিয়ে আসে । এটি জলপ্রবাহ ক্ষয় । 
।( ii) অবঘর্ষ : নদীবাহিত নুড়ি , বােল্ডার ও অন্যান্য পাথরের খণ্ড নদীর গতির সঙ্গে গতিপ্রাপ্ত হয়ে নদীর তলদেশ ও পার্শ্বদেশে আঘাত করে নদীর গভীরতা বাড়ায় এটি অবঘর্ষ । 
(iii) ঘর্ষণ ক্ষয় : নদীবাহিত বিভিন্ন আকারের প্রস্তরখণ্ড পরস্পরের সঙ্গে আঘাতে ভেঙে অবশেষে নুড়ি , বালি ও পলিকণায় পরিণত হয় ।
 ( iv ) দ্রবণ ক্ষয় : জলের সঙ্গে দ্রবীভূত অম্নের প্রভাবে লবণ ও ক্যালশিয়াম বাইকার্বনেট যুক্ত শিলাস্তর রাসায়নিকভাবে বিয়ােজিত হয় । এটি হল দ্রবণ ক্ষয় । 

4.নদীর বহন ক্ষমতা কোন কোন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?

 উত্তর : নদীর বহন ক্ষমতা নির্ভর করে – 
 i ) নদীর গতিবেগ : নদীর গতিবেগ বাড়লে নদীর বহন ক্ষমতাও বাড়ে । তাই সমভূমি অঞ্চলের তুলনায় পার্বত্য অঞ্চলে নদীর বহন ক্ষমতা বেশি থাকে । কোনাে কারণে নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ বৃদ্ধি  পেলে তার বহন ক্ষমতা ৬৪ গুণ বাড়ে ( নদীর ষষ্ঠঘাতের সুত্র ) । 
ii ) নদীর ঢাল : নদীর ঢাল বেশি হলে নদীর বহন ক্ষমতা বাডে । তাই পার্বত্য অঞ্চলে নদীর বহন ক্ষমতা বেশি ।
iii ) জলের পরিমাণ : বর্ষাকালে নদীতে জলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় বলেই নদীর বহন ক্ষমতাও বাড়ে । 
iv ) প্রবাহিত পদার্থের পরিমাণ ও আয়তন : নদীর বােঝা  ( Load ) যে বস্তু যত ভারী ও বড়াে হয় নদী তাকে বেশি দূর পর্যন্ত বহন করতে পারে না । বস্তুর ওজন হালকা , ছােটো ও পরিমাণ কম  হলে , নদী তা বহুদূর পর্যন্ত বহন করতে পারে । 

5. নদীর বহন প্রক্রিয়াগুলি সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখাে । 

উত্তর : নদী পদার্থকে চারভাবে বহন করে — 
( i ) দ্রবণ প্রক্রিয়ায় বহন : নদীর জলে দ্রবীভূত অম্নের প্রভাবে শিলাস্তর বিয়ােজিত ও দ্রবীভূত হয়ে বাহিত হয় ।
 ( ii ) ভাসমান প্রক্রিয়া : অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম পলি ও বালি নদীর জলে ভেসে  ভেসে বাহিত হয় ।
 ( iii ) লম্ফদান প্রক্রিয়া : অপেক্ষাকৃত বড়াে খণ্ডগুলি নদীর তলায় ধাক্কা খেয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে চলে। 
(iv) আকর্ষণ প্রক্রিয়া : নদীর তলদেশ দিয়ে স্রোতে টানে ছােটো ছােটো নুড়ি নীচের দিকে নেমে এলে তা আকর্ষণ প্রক্রিয়া । 

6. উচ্চগতিতে নদীকার্যের বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী ? 

 উত্তর : উচ্চগতিতে নদীকার্যের কয়েকটি উল্লেখযােগ্য বৈশিষ্ট্য হল – 
 ( i ) ভূমির ঢাল বেশি হয় বলে নদীর বেগও খুব বেশি থাকে ( ii ) নদীতে বােল্ডার ও নুড়ির পরিমাণ বেশি থাকে বলে অবঘর্ষ পদ্ধতিতে প্রবল নিম্নক্ষয় হয় । 
( iii ) প্রবল স্রোতে নদী প্রায় সব পদার্থই বহন করে । 
( iv ) সঞ্চয় প্রায় হয়ই না ।
( v ) উচ্চগতিতে নদীর গভীরতা বেশি থাকে কিন্তু বিস্তৃতি খুব কম হয় । 

7. উচ্চগতিতে নদীর প্রধান কাজ কী কী ও কেন ? 

উত্তর: উচ্চগতিতে নদীর প্রধান কাজ হল –
 ( i ) নিম্নক্ষয় : কারণ নদীর ঢাল বেশি হওয়ায় নদীর গতিবেগ বেশি থাকে । ফলে নদীর দ্রুত ও অনেক বেশি নিম্নক্ষয় করে । 
( i ) পার্শ্বক্ষয় : নদীর প্রবল গতিবেগ ও পার্শ্বদেশে নরম শিলাস্তর থাকলে নদীর পার্শ্বক্ষয়ও হয় ।
( ii ) বহন : নদীতে জলের অধিক পরিমাণ ও নদীর ঢাল বেশি হওয়ায় বহন কাজও বেশি । 
    তবে উচ্চগতিতে সঞ্চয় একেবারেই হয় না ।

 8.’ I ‘ আকৃতির উপত্যকা কীভাবে ‘ V ‘ আকৃতিতে পরিণত হয় , তা চিত্রসহ ব্যাখ্যা করাে । 

উত্তর : উচ্চগতিতে ভূমির উচ্চতা ও ঢাল খুব বেশি হওয়ায় নদী অতি প্রবলবেগে নিম্নক্ষয় করে । ফলে উপত্যকার আকৃতি হয় ‘ I ‘ – এর মতাে । 
( ii ) পরবর্তীকালে নদী উপত্যকার পার্শ্বদেশ বৃষ্টির জল , আবহবিকার বা ধসের ফলে ক্ষয় পেতে থাকলে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার আকৃতি সংকীর্ণ’ V ‘ – এর মতাে হয় । 

9. কী কী ভাবে জলপ্রপাত গঠিত হতে পারে ?

 উত্তর: পার্বত্য অংশে উপত্যকার ঢাল অসম হলে নদীর জল উপর থেকে নীচের দিকে প্রবল বেগে পড়ে । এটি হল জলপ্রপাত । জলপ্রপাত বিভিন্নভাবে সৃষ্টি হয় – (i) নদীর গতিপথে কঠিন ও নরম শিলা অনুভূমিক , উল্লম্ব বা তির্যকভাবে অবস্থান করলে কঠিন অপেক্ষা নরম শিলা বেশি ক্ষয় হয়ে জলপ্রপাত গঠিত হয় । অধিকাংশ জলপ্রপাত এভাবেই সৃষ্টি । ( ii ) নদীর গতিপথে আড়াআড়ি
চ্যুতি ঘটলে জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয় । যেমন — জাম্বেসি নদীর ভিক্টোরিয়া  জলপ্রপাত , ভারতের নর্মদা নদীর কপিলধারা জলপ্রপাত । (iii ) হিমবাহ সৃষ্ট ঝুলন্ত কঠিন নিকপয়েন্ট উপত্যকায় জলপ্রপাত গঠিত হয় । যেমন — লাডাকের নিপসেন্ট পার্কচাক জলপ্রপাত । ( iv ) ভূমির পুনর্যৌবন লাভের সৃষ্ট নিকবিন্দুতে জলপ্রপাত গঠিত হয় । যেমন — সুবর্ণরেখা নদীর জনা ও দশম জলপ্রপাত । 

10. জলপ্রপাত পশ্চাদ অপসারণ করে কেন ? বা জলপ্রপাত নদীর উৎসের দিকে সরে যায় কেন ? 

উত্তর : উচ্চগতিতে নদীর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলা  
অনুভূমিক ও উল্লম্বভাবে অবস্থান করলে কোমল শিলা বেশি ক্ষয় হয়ে জলপ্রপাত গঠিত হয় । জলপ্রপাতের নীচে গভীর গর্ত ( প্লাঞ্জপুল ) গঠিত হয় বলে উপরের কঠিন শিলাস্তরটি  ঝুলতে থাকে এবং একসময় তা ভেঙে পড়ে এবং জলপ্রপাতটি নদীর উৎসের দিকে সরে যায় । একেই জলপ্রপাতের পশ্চাদ অপসারণ বলে । পৃথিবীর বিখ্যাত নায়াগ্রা জলপ্রপাত এইভাবেই একটু একটু করে সরে গেছে । 

11. উচ্চগতিতে নদী উপত্যকা ‘ I ’ বা ‘ V আকৃতির কিন্তু মধ্যগতিতে অগভীর ‘ U ’ আকৃতির হয় কেন ? 

উত্তর : উচ্চগতিতে নদীর ঢাল খুব বেশি থাকায় নদী প্রবল বেগে প্রবাহিত হয় । তাই পার্বত্য প্রবাহ বা উচ্চগতিতে নদীর পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় অধিক হয় । এর ফলস্বরুপ নদী উপত্যকা I ” ও ‘ V আকৃতির হয় । 
   অপরদিকে পার্বত্য প্রবাহ ছেড়ে নদী যখন সমভূমি বা মধ্যগতিতে প্রবেশ করে , তখন ভূমির ঢাল কমে যায় ও নদীর গতিবেগও কমে যায় ও নদীর সঞ্চয়কাজ বেড়ে যায় । মধ্যগতিতে নদীর জলের পরিমাণ বাড়ে বলে নদীর পার্শ্বক্ষয় ঘটে কিন্তু নিম্নক্ষয় ঘটে না । পার্শ্বক্ষয় বেশি হয় বলে নদী উপত্যকা ক্রমশ চওড়া হতে থাকে । এই কারণে মধ্যগতিতে অগভীর ‘ U ‘ আকৃতির উপত্যকা দেখা যায় । 

12. মধ্যগতি ও নিম্ন গতিতে নদী সঞ্চয়কাজ করে কেন ?

 উওর : নদী তার মধ্যগতি ও নিম্ন গতিতে নদী সঞ্চয়কাজ করে।  কারণ – 
( i ) মধ্য ও নিম্ন গতিতে জলের গতিবেগ মাঝারি ও খুব কম হয় । 
( ii ) এই দুই গতিতে নদীর ঢাল ক্রমশই কমতে থাকে ।
 ( ii ) এখানে নদীর বহন ক্ষমতাও অনেক বেশি । 
( iv ) এই কারণেই নদী তার বয়ে আনা পলি – বালি আর বইতে – পেরে এখানেই সঞ্চয় করে । 

 13. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদের উৎপত্তি লেখাে । 

উত্তর: মধ্যগতি ও নিম্নগতিতে নদীর ঢাল কমে যাওয়ায় নদীর শক্তিও অনেকাংশে হ্রাস পায় । তাই এই পর্যায়ে নদীর সামনে কোনাে কঠিন বাধা এসে পৌছােলে নদী এই বাধা এড়িয়ে কিছুটা এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয়  নদীবাঁকের , অবতল অংশে জলপ্রবাহ ক্ষয় এবং উত্তল অংশে পলিসঞ্চয়ে নদীবাঁক ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং এক সময় বাকের মধ্যবর্তী স্থান সংকীর্ণ হয়ে যুক্ত হয় । এই অবস্থায় নদীটি সােজা হয়ে চলতে থাকে এবং পরিত্যক্ত বিচ্ছিন্ন বাঁকটি হ্রদের আকারে অবস্থান করে । এই হ্রদ দেখতে ঘােড়ার খুরের মতাে বলেই একে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলা হয়

 14. পলল শঙ্কু ও পলল ব্যজনী কীভাবে গড়ে ওঠে ?

 উত্তরঃ পলল শঙ্কু: পার্বত্য অঞ্চল পেরিয়ে নদী যখন সমভূমিতে নেমে আসে তখন নদী উপত্যকার ঢাল হঠাৎ কমে যাওয়ায় নদীর বহন ক্ষমতা ও বেগ দুইই হঠাৎ কমে যায় । এই অবস্থায় পর্বতের পাদদেশে পলি , কাকর , নুড়ি , বালি প্রভৃতি শঙ্কুর  আকারে সঞ্চিত হয়ে যে ভূমিরূপ গঠন করে তাকে পলল শঙ্কু বলে ।
    পলল ব্যজনী : পলল শঙ্কুর ওপর দিয়ে নদী অসংখ্য শাখায় বিনুনীর আকারে প্রবাহিত হয় বলে  পলল শঙ্কু বিস্তৃত হয়ে নীচু হয় ও অর্ধগােলাকার আকৃতি নেয় । এটিই হল পলল ব্যজনী ।

 15. প্লাবনভূমির উৎপত্তি কীভাবে ঘটে উদাহরণসহ লেখাে ।

 উত্তর : মধ্য ও নিম্ন গতিতে নদীগর্ভে পলি ভরাট হয়ে নদীগর্ভ  অগভীর হয় । ফলে নদীতে জলের পরিমাণ বাড়লে নদী দু – কুল ছাপিয়ে নদী অববাহিকায় বন্যার সৃষ্টি করে ।
   বন্যার প্রভাবে নদীর দু – পাশে অববাহিকা বরাবর পলি , বালি , নুড়ি সঞ্চিত হয় । বারংবার বন্যার প্রভাবে অববাহিকায় পলি , বালি , নুড়ি ক্রমাগত সঞ্চিত হয়ে তা সমভূমির রূপ নেয় । বন্যার প্রভাবে সৃষ্ট এই সমভূমি প্লাবন সমভূমি নামে পরিচিত ।
    ভারতে অসমের ব্রম্মপুত্র অববাহিকার সমভূমি , মিশরে নীলনদ অববাহিকার সমভূমি প্লাবন সমভূমির উদাহরণ । 
  উদাহরণ : গঙ্গা , ব্রম্মপুত্র , নীলনদ , সিন্ধুনদের অববাহিকায়  দেখা যায় ।

 16. বদ্বীপ কীভাবে গঠিত হয় ?

 উত্তর : নদীর নিম্নগতিতে মােহানায় নদীর গতিবেগ কমে যায় কিন্তু সূক্ষ্ম পলির পরিমাণ খুব বেশি থাকে । ফলে মােহানার সমুদ্রগর্ভ পলিসঞ্চয়ের মাধ্যমে ভরাট হয়ে উঁচু হতে থাকে এবং নদী শাখাপ্রশাখায় ভাগ হয়ে প্রবাহিত হয় । দুই শাখার অন্তর্বর্তী অংশ মাত্রাহীন ব ’ – এর আকার ধারণ করে । প্রথম অবস্থায় এই অংশ  নীচু জলাশয় হিসেবে অবস্থান করে । পরবর্তীকালে নদীর সঙ্গে সমুদ্রতরঙ্গ বাহিত পলিও সঞ্চিত হয় এবং নিম্নাংশটি ক্রমশ ভরাট হয়ে বদ্বীপ গঠন করে । এইভাবেই পৃথিবীর প্রায় অধিকাংশ বড়াে বড়াে নদীর মােহনায় বদ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে ।   

17. আকৃতি ও উদাহরণসহ বদ্বীপের শ্রেণিবিভাগ করো ।

উত্তর : আকৃতি অনুযায়ী দ্বীপ চার ধরনের , যথা – ১ ) ধনুকাকৃতি বদ্বীপ ( Arcuate Delta ) : বদ্বীপের সমুদ্রমুখী বহিরেখা ধনুকের মতাে আকৃতিবিশিষ্ট হলে তা ধনুকাকৃতি বদ্বীপ । গঙ্গা – ব্রহ্মপুত্র , নীল  পাে , হােয়াংহাে প্রভৃতি নদীর বদ্বীপ এরূপ । ( ২ ) পাখির পায়ের মতাে বদ্বীপ ( Bird ‘ s foot Delta ) : মূল নদী বহুশাখায় ভাগ হয়ে পাখির পায়ের আঙুলের মতাে দীর্ঘ ও সংকীর্ণ হয়ে সমুদ্রের দিকে এগােলে নদী বরাবর সঞ্চয়কাজে এরুপ বদ্বীপ গঠিত হয় । যেমন — মিসিসিপি – মিসৌরী বদ্বীপ । ( ৩ ) করাতের দাঁতের মতাে বদ্বীপ ( Cuspate Delta ) : মােহানায় সমুদ্রতরঙ্গের আঘাত প্রবল হলে নদীর পলি দুদিকে ছড়িয়ে পড়লে বদ্বীপটি করাতের দাঁতের  মতাে আকৃতির হয় । যেমন — ইতালির তাইবার বদ্বীপ । ( ৪ ) খাড়ীয় বদ্বীপ ( Estuary Delta ) : খাঁড়ির মধ্যে বদ্বীপ গঠিত হলে তা  খাঁড়ীয় বদ্বীপ । এই ধরনের বদ্বীপ সংকীর্ণ হয় । যেমন — ফ্রান্সের  সীন এবং জার্মানির রাইন নদীর বদ্বীপ ।  

18. কোন কোন অনুকূল পরিবেশ থাকলে বদ্বীপ গঠিত হয় । বা , নদীর মােহানায় বদ্বীপ কেন গড়ে ওঠে — ব্যাখ্যা করাে

উত্তর : বদ্বীপ গঠনের অনুকূল পরিবেশ : সব নদীর মােহানায় বদ্বীপ গঠিত হয় না । বদ্বীপ গঠনের জন্য কতকগুলি অনুকূল পরিবেশের প্রয়ােজন হয় – 
( ১ ) পলির পরিমাণ : বৃহৎ নদী অববাহিকা , সুদীর্ঘ নদীর গতিপথ , নদী অববাহিকায় নরম শিলার উপস্থিতি , অসংখ্য উপনদীর অবস্থান ইত্যাদি সুবিধাগুলি থাকলে নদীতে পলির পরিমাণ বাড়বে ।
 ( ২ ) মােহানায় মৃদু ঢাল : মােহানায় নদী মৃদু ঢালে সমুদ্রের সঙ্গে মিশলে তবেই পলিসঞ্চয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হবে ।
 ( ৩ ) অগভীর সমুদ্র : সমুদ্র অগভীর হলে তাড়াতাড়ি পলি ভরাট হয়ে বদ্বীপ গঠিত হবে ।
 ( ৪ ) লবণতা বৃদ্ধি : সমুদ্রজলের লবণতা যত বাড়বে ততই নদীজলের পলিরাশি দ্রুত  অধঃক্ষিপ্ত হবে ।
 ( ৫ ) বিপরীতমুখী স্রোত ও বায়ু : নদী মােহানার বিপরীত দিকের মৃদু স্রোত ও বায়ু পলি জমতে সাহায্য করে । 
( ৬ ) শান্ত সমুদ্র : মােহানার মুখে সমুদ্রস্রোত ও জোয়ারভাটার প্রকোপ যত কম হবে পলিরাশি তত দ্রুত সমুদ্রগর্ভে সঞ্চিত হবে ।

 19. সমস্ত নদীর মােহানায় বদ্বীপ সৃষ্টি হয় না কেন ?

 উত্তর : সমস্ত নদীর মােহনায় বদ্বীপ সৃষ্টি হয় না , কারণ —  ( i ) যেসব নদীর গতিবেগ অনেক বেশি , সেই সমস্ত নদীর দ্বারা বাহিত পলি , বালি মােহানায় সঞ্চিত না – হয়ে অনেক দূরে চলে যায় ।
 ( ii ) নদী স্বল্প দৈর্ঘ্যের হলে নদীবাহিত পদার্থের পরিমাণ কম হওয়ায় নদীর অবক্ষেপণের পরিমাণও কম হয় ।
 ( iii ) নদীর মােহানার গভীরতা যদি বেশি হয় , তাহলে অবক্ষেপণ হয় না । 
( iv ) নদীর উপনদীর সংখ্যা যদি কম থাকে তাহলে নদীতে পলির জোগান বেশি থাকে না , ফলে সঞয় বেশি হয় না । ( v ) মােহানা অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ বেশি হলে বদ্বীপ গঠনের পরিবেশ গড়ে ওঠে না । 

20. আমাজন ও কঙ্গো নদীর মােহানায় বদ্বীপ গঠিত হয়নি কেন

উত্তর: আমাজন ও কঙ্গো দুটি নদী অববাহিকা নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত হওয়ায় প্রচুর জল বহন করলেও মােহানায় বদ্বীপ গড়ে ওঠেনি , কারণ — 
 ( i ) নদী দুটি প্রচুর জল বহন করে । 
 ( i i ) দুটি নদীই মােহানার নিকট খাড়া ঢালে সমুদ্রে মিশেছে বলে জল প্রবল বেগে সাগরে পড়ে ।
 ( iii ) মােহানার নিকট সমুদ্র দিয়ে আড়াআড়ি সমুদ্রস্রোত বয়ে যাওয়ার ফলে পলিসমেত জল উত্তর দিকে বয়ে যায় ।  
    উক্ত তিনটি কারণে মােহানায় পলি সঞ্চয় ঘটে না বলে বদ্বীপ গঠিত হয়নি ।

 21. সুন্দরবন আমাদের কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ ?

 উত্তর: ভারত ও বাংলাদেশের সক্রিয় বদ্বীপের অংশ সুন্দরবন  পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য ।
    এই সুন্দরবন আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ । কারণ — ( i ) বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী নিয়ে গঠিত এই বায়ােস্ফিয়ার  পার্ক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে 
( ii ) এই বনভূমি প্রবল সামুদ্রিক ঝড় ও জলােচ্ছাস আটকায় । ফলে মৃত্তিকার ক্ষয় রােধ হয় , বন্যার প্রকোপ কমে এবং জমি লবণতার হাত থেকে বাঁচে ।
   তবে বর্তমানে জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে সুন্দরবন – এর ভবিষ্যৎ সংকটময় । 

22. লােহাচড়া , নিউমুর ও ঘােড়ামারা দ্বীপগুলির ওপর জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব কীভাবে পড়েছে ? 

উত্তর : লােহাচড়া , নিউমুর ও ঘােড়ামারা দ্বীপগুলির ওপর জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবগুলি হল —
 ( ক ) লােহাচড়া দ্বীপ : পৃথিবীর প্রথম জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ লােহাচড়া পশ্চিম সুন্দরবনে অবস্থিত ছিল । ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে দ্বীপটি সামুদ্রিক জলতলের উত্থান ও ক্ষয়ের ফলে সমুদ্রগর্ভে বিলীন হতে শুরু করে । ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে উপগ্রহ চিত্রে দ্বীপটিকে আর দেখা যায়নি । তবে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অনুসারে ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে দ্বীপটির কিছু তল আবার দৃশ্যমান হতে শুরু করে । তাঁদের মতে জোয়ারের সময় সমুদ্রে নিমজ্জিত থাকলেও ভাটার সময় প্রায়  ৩ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত দৃষ্টিগােচর হয় । 
( খ ) নিউমুর দ্বীপ : বঙ্গোপসাগরের বুকে জনমানবশূন্য নতুন দ্বীপভূমি হল নিউমুর । বাংলাদেশে এর নাম তালপট্টি । ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে ঘূর্ণিঝড়ে দ্বীপটি সমুদ্রে জেগে ওঠে । ২০১০ খ্রিস্টাব্দে দ্বীপটি ক্রমশ নিমজ্জিত হয়ে যায় । বর্তমানে কেবল ভাটার সময় দ্বীপটির অংশ বিশেষ দৃশ্যমান হয় ।
 ( গ ) ঘােড়ামারা দ্বীপ : হুগলি নদীর মােহানার নিকটবর্তী ক্ষুদ্র দ্বীপ ঘােড়ামারা । ১৯৭৫ – এ আয়তন ছিল ৮ .৫১ বর্গকিমি ; ২০১২ । খ্রিস্টাব্দে সামুদ্রিক ক্ষয়ে আয়তন কমে হয় ৪ . ৪৩ বর্গকিমি । । সমুদ্রজল পৃষ্ঠের উত্থানই এর কারণ বলে বিজ্ঞানীদের অনুমান ।

FILE Details : মাধ্যমিক ভূগোল (Madhyamik Geography) প্রথম অধ্যায়ঃ বহির্জাত প্রক্রিয়া তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ | উপঅধ্যায়-২ নদী MCQ, এককথায় প্রশ্নউত্তর, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, ব্যখ্যাধর্মী প্রশ্নউত্তর

PDF Name : মাধ্যমিক ভূগোল (Madhyamik Geography) প্রথম অধ্যায়ঃ বহির্জাত প্রক্রিয়া তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ | উপঅধ্যায়-২ নদী MCQ প্রশ্নোত্তর, এককথায় প্রশ্নউত্তর, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নউত্তর, ব্যাখ্যাধর্মী, রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর 
Language : Bengali
Size : 479.0 kb
No. of Pages : 22
Download Link : Click Here To Download
বিভিন্ন স্কুল বোর্ড পরীক্ষা, প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষার সাজেশন, অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রোচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর (All Exam Guide Suggestion, MCQ Type, Short, Descriptive Question and answer), প্রতিদিন নতুন নতুন চাকরির খবর (Job News in Bengali) জানতে এবং সমস্ত পরীক্ষার এডমিট কার্ড ডাউনলোড (All Exam Admit Card Download) করতে winexam.in ওয়েবসাইট ফলো করুন, ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here