দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন – উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত – সমস্ত প্রশ্ন উত্তর | WBBSE Class 10th History Suggestion PDF

0
26

দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন

WBBSE Class 10th History Suggestion

দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন - উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত - সমস্ত প্রশ্ন উত্তর | WBBSE Class 10th History Suggestion PDF
দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন – উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত – সমস্ত প্রশ্ন উত্তর | WBBSE Class 10th History Suggestion PDF

দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন – WBBSE Class 10th History Suggestion – উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত অধ্যায় ভিত্তিতে প্রশ্নোত্তর  নিচে দেওয়া হল। এবার পশ্চিমবঙ্গ দশম শ্রেণী ইতিহাস পরীক্ষায় এই মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন ( WB WBBSE Class 10th History Suggestion  | West Bengal WBBSE Class 10th History Suggestion | WBBSE Board Class 10th History Question and Answer with PDF file Download) পরীক্ষার জন্য খুব ইম্পর্টেন্ট । আপনারা যারা আগামী দশম শ্রেণী ইতিহাস পরীক্ষার জন্য দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন  | WBBSE Class 10th History Suggestion | WBBSE Board Madhyamik Class 10th (X) History Suggestion Question and Answer খুঁজে চলেছেন, তারা নিচে দেওয়া প্রশ্ন ও উত্তর ভালো করে পড়তে পারেন। 

দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন | পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক সাজেশন/নোট (West Bengal WBBSE Class 10th History Suggestion / Madhyamik History Suggestion) | উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত – MCQ, অতি সংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্নউত্তর

পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন (West Bengal WBBSE Class 10th History Suggestion / Notes) উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত – প্রশ্ন উত্তর – MCQ প্রশ্নোত্তর, অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ), সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (Short Question and Answer), ব্যাখ্যাধর্মী বা রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (descriptive question and answer) এবং PDF ফাইল ডাউনলোড লিঙ্ক নিচে দেওয়া রয়েছে

উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত

দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন | উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত – বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর [MCQ] : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-1]

1. হায়দরাবাদ ভারত ইউনিয়নে যােগ দেয়—
[A] ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে |     [B] ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে [c] ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে     [D] ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে

Answer : [c] ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে

2. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতচুক্তির বিষয়ে উল্লেখযােগ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন—
[A] সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল      [B] মতিলাল নেহরু [c] আবদুল কালাম আজাদ     [D] জহরলাল নেহরু

Answer : [A] সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল

3. রাজ্য পুনর্গঠন আইন পাস হয়—
[A] ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে     [B] ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে [C] ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে     [D] ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে

Answer : [B] ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে

4. উদ্বাস্তুদের সার্টিফিকেট দেওয়া বন্ধ হয়—
[A] ১৯৪৮-এর পর থেকে      [B] ১৯৪৯-এর পর থেকে [c] ১৯৫০-এর পর থেকে     [D] ১৯৫১-এর পর থেকে

Answer : [A] ১৯৪৮-এর পর থেকে

5. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন—
[A] চক্রবর্তী রাজাগােপালাচারী     [B] সৈয়দ আহমেদ [C] সৈয়দ ফজল আলি     [D] জহরলাল নেহরু

Answer : [D] জহরলাল নেহরু

6. সারা ভারত রাজ্য জনতা সভা প্রতিষ্ঠিত হয়—
[A] ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে     [B] ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে [c] ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে     [D] ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে

Answer : [D] ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে

7, দেশীয় রাজ্য রাজাদের সঙ্গে বড়লাটের সভা হয়—
[A] ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জুলাই     [B] ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ আগস্ট [C] ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুলাই     [D] ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ ডিসেম্বর

Answer : [A] ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জুলাই

৪. পাকিস্তান কাশ্মীর আক্রমণ করে –
[A] ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৪ আগস্ট     [B] ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ২২ অক্টোবর   [C] ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ২৬ অক্টোবর [D] ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ ডিসেম্বর

Answer : [B] ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ২২ অক্টোবর

9. A Train to Pakistan গ্রন্থটি কে লিখেছিলেন?
[A] প্রফুল্ল চক্রবর্তী     [B] খুশবন্ত সিং [C] গােবিন্দ নিহালানি     [D] ভীষ্ম সাহানি

Answer : [B] খুশবন্ত সিং

10. ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সংবিধানে স্বীকৃত ভাষা ছিল—
[A] ১৪টি     [B] ১৫টি [C] ১৬টি     [D] ১৭টি

Answer : [A] ১৪টি

11. স্বাধীনতা সংগ্রামী পাত্তি শ্রীরামালু মারা যান –
[A] ১৯৫০ খ্রি.     [B]১৯৫২ খ্রি. [C] ১৯৫৩ খ্রি.     [D] ১৯৫৪ খ্রি.

Answer : [B]১৯৫২ খ্রি.

12. সরকারি ভাষা বিল উত্থাপন করা হয়—
[A] ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে     [B] ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে [C] ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে     [D] ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে

Answer : [C] ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে

দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন | উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত – অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান-1]

1. রাজ্য পুনর্গঠন আইন কবে পাশ হয়?

Answer : রাজ্য পুনর্গঠন আইন পাশ হয় ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে।

2. পুনর্গঠন আইন অনুসারে কয়টি রাজ্য গঠিত হয়?

Answer : এই আইন অনুসারে ১৪টি রাজ্য গঠিত হয়।

3. কবে জে. ডি. পি কমিটি গঠিত হয়?

Answer : ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে জে. ডি. পি কমিটি গঠিত হয়।

4. কবে পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশ গঠিত হয়?

Answer : ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে ১৯ ডিসেম্বর পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশ গঠিত হয়।

5. কে পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য গঠনের দাবিতে অনশন করেন?

Answer : গান্ধিজি নেতা শ্রীরামালু পৃথক অপ্রদেশ রাজ্য গঠনের দাবিতে অনশন করেন।

6. মাহানওয়াজ ভুট্টো কে ছিলেন?

Answer : জুনাগড় রাজ্যের দেওয়ান ছিলেন।

7, অল জম্মুকাশ্মীর ন্যাশানাল কনফারেন্সের সভাপতি কে ছিলেন?

Answer : সেখ আবদুল্লা।

৪. হায়দরাবাদ কবে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতে যােগদান করে?

Answer : ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ২৬শে জানুয়ারি।

9. ভি. পি. মেনন কে ছিলেন?

Answer : ভি. পি. মেনন ছিলেন একজন স্বরাষ্ট্রসচিব।

10. কার নেতৃত্বে কবে গােয়া, দমন, দিউ দখল করা হয়?

Answer : ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দের ১৮-১৯ ডিসেম্বর জেনারেল জয়ন্ত চৌধুরীর নেতৃত্বে গােয়া, দমন, দিউ দখল করা হয়।

10. লৌহ মানব কাকে বলা হত?

Answer : সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে লৌহ মানব বলা হত।

11. ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে কটি ছােটো রাজ্য ছিল?

Answer : ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে আদমশুমারি অনুযায়ী ৫৬৫টি ছােটো রাজ্য ছিল।

12. সারাভারত রাজ্য জনসভা কবে গঠিত হয়?

Answer : সারাভারত রাজ্য জনসভা ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে গঠিত হয়।

13. রাজ্য জনসভার প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করেন?

Answer : রাজ্য জনসভার প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন দেওয়ান বাহাদুর এম চন্দ্র রাই।

14. কাশ্মীরের রাজা কে ছিলেন?

Answer : কাশ্মীরের রাজা ছিলেন হরি সিং।

15. কবে জম্মু কাশ্মীরকে ভারতভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ?

Answer : ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ২৬ অক্টোবর জম্মুকাশ্মীরকে ভারতভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া। হয়েছিল।

16. কে কবে হায়দরাবাদ দখল করেন?

Answer : জহরলাল নেহরু সেনাবাহিনীর সাহায্যে ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে হায়দ্রাবাদ দখল করেন।

17. পেপসু কী?

Answer : পাতিয়ালা ও পূর্বপাঞ্জাব নিয়ে গড়ে উঠেছিল পেপসু।

18. ভীষ্ম সাহানির লেখা গ্রন্থটির নাম কী?

Answer : ভীষ্ম সাহানির লেখা গ্রন্থটির নাম তমস’।

19. A train to Pakistan গ্রন্থটি কার রচনা?

Answer : A train to Pakistan গ্রন্থটি খুশবন্ত সিং-এর লেখা।

20. প্রান্তিক মানব গ্রন্থটি কে রচনা করেন?

Answer : প্রান্তিক মানব গ্রন্থটি প্রফুল্ল চক্রবর্তী রচনা করেন।

শূন্যস্থান পূরণ করাে : একটি বাক্যে উত্তর দাও

(ক) রাজ্য পুনর্গঠন আইন পাশ হয় – খ্রিস্টাব্দে।

Answer : (ক) ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে।

(খ) নিজস্ব – নামে সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তােলাে।

Answer : (খ) রাজকার

(গ) ব্রিটিশ শাসনের প্রত্যক্ষ শাসনে ছিল — কোটি মানুষ।

Answer :(গ) ৩৯ কোটি।

(ঘ) জুনাগড় রাজ্যে মােট প্রজার – শতাংশ মানুষ ছিল হিন্দু।

Answer : (ঘ) ৮০%

দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন | উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত – সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : | প্রতিটি প্রশ্নের মান-2]

1. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন কী?

Answer : ভাষার ভিত্তিতে ভারতীয় রাজ্যগুলির সীমানা পুনর্গঠনের জন্য একটি কমিশন গঠন করা হয়। ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে জহরলাল নেহরু গঠন করেন। এই কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন সৈয়দ ফজল আলি। এই কমিশন রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন নামে পরিচিত।

2. প্রথম ভাষা কমিশন কবে ও কী উদ্দেশ্যে গঠিত হয় ?

Answer : ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে বিজিবরের সভাপতিত্বে প্রথম ভাষা কমিশন গঠিত হয়েছিল। হিন্দিকে সরকারি ভাষা রূপে গ্রহণ করা হবে কিনা এই বিষয়ে আলােচনার জন্য কমিশন গঠিত হয়েছিল।

3. কবে কার নেতৃত্বে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাের্তুগিজ উপনিবেশগুলি দখল করে ?

Answer : ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে ১৮-১৯ ডিসেম্বর জেনারেল জয়ন্ত চৌধুরীর নেতৃত্বে ভারতীয় সেনাবাহিনী গােয়া, দমন, দিউ অর্থাৎ সবকটি পাের্তুগিজ উপনিবেশ দখল করে নেয়।

4. দেশভাগ ও উদ্বাস্তু সমস্যা সম্পর্কে জানা যায় এমন দুটি গ্রন্থের নাম লেখাে ?

Answer : দেশভাগ ও উদ্বাস্তু সমস্যা সম্পর্কে জানা যায় এমন দুটি গ্রন্থ হল— (i) খুশবন্ত সিং-এর A train to Pakistan. (ii) প্রফুল্ল চক্রবর্তীর প্রান্তিক মানব।

5. রাজ্য পুনর্গঠন সম্পর্কিত কমিশনের সদস্যদের নাম উল্লেখ করাে।

Answer : রাজ্য পুনর্গঠন সম্পর্কিত কমিশনের দুই সদস্য ছিলেন কে, এম, পানিক্কর এবং হৃদয়নাথ কুরু।

6. ভারত শাসন আইন কাকে বলে?

Answer : ভারতে সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ে একটি কার্যকারী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে স্যার স্যামুয়েল হাের ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্স-এ সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ক বিল উপস্থাপন করেন। কিছু সংশােধনের। পর ২ আগস্ট বিলটি রাজার সম্মতি লাভ করে এটাকেই ভারত শাসন আইন। বলে।

7. ভারতের স্বাধীনতা লাভের সময় কী কী সমস্যা ছিল?

Answer : ভারতের স্বাধীনতা লাভের সময় বহুবিধ সমস্যায় ভারত জর্জরিত ছিল। ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এবং পূর্বাঞ্চলে দাঙ্গা দেখা দিয়েছিল। এই দাঙ্গায় বহুসংখ্যক মানুষের মৃত্যু ঘটেছিল। এর ফলে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছিল। যা কাম্য ছিল না।

৪. ঔপনিবেশিক ভারত Princely State বলতে কী বােঝাে?

Answer : কোম্পানির শাসনের অবসানের পর ব্রিটিশ শাসনের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে বাইরের বেশ কয়েকটি স্বশাসিত রাজ্য গড়ে উঠেছিল। এইগুলিকে বলা হয় Princely State|

9. জুনাগড়ের নবাব পাকিস্তানে চলে যায় কেন?

Answer : জুনাগড়ের নবাব মুসলিম হলেও এখানকার বেশিরভাগ মানুষই ছিল হিন্দু। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে এক নির্দেশনামা মারফত জুনাগড়ের মানুষ ভারত ইউনিয়নে যােগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে নবাব ভারত ছেড়ে পাকিস্তানে চলে যান।

10. রাজপ্রমুখ কী?

Answer : হায়দরাবাদের ভারতভুক্তির পর সেখানকার নিজামকে রাজপ্রমুখ অর্থাৎ রাজ্যের অনুষ্ঠানিক শাসক হিসাবে রাখা হয়। তাকে পাঁচ লক্ষ টাকা ভাতা দেওয়ারও বন্দোবস্ত করা হয়।

11. উক্ত সমস্যা কী?

Answer : ব্রিটিশরা ভারত ত্যাগ করার আগে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের সৃষ্টি করে যায়। দেশভাগের ফলে পাঞ্জাব ও বাংলাদেশের ছিন্নমূল পরিবারগুলি তাদের স্ব স্ব দেশে ফিরে যেতে থাকে। এই ছিন্নমূল মানুষকে বলা হয় উদ্বাস্তু।।

দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন | উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-4]

1. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির সংক্রান্ত সমস্যা ?

Answer : স্বাধীনতা লাভের পর ভারত যেসব কঠিন জটিল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম হল দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতমুক্তিজনিত সমস্যা। এর কারণগুলি

       (i) বিক্ষিপ্ত চিড়িয়াখানা : স্বাধীনতার প্রাককালে দেশীয় রাজ্যের সংখ্যা ছিল ৬০। এই রাজ্যগুলি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিল। এরকম বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা রাজ্যগুলির মধ্যে ভূপাল, হায়দরাবাদ, জুনাগড়, কাশ্মীরসহ বেশ কিছু রাজ্য।

       (i) জাতীয়তাবাদি আদর্শে বাধা : অখণ্ড ভারতীয় জাতীয়তাবাদের আদর্শ দ্বারা। পরিচালিত। ভারতের জাতীয় কংগ্রেসে দেশীয় রাজ্যগুলির স্বাধীন মনােভাবে। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় কংগ্রেস জানিয়ে দেয় যে ভারতের ভৌগােলিক সীমার কোনাে দেশীয় রাজ্যের স্বাধীন অস্তিত্ব স্বীকার করা হবে না।

       (ii) প্রজাবিদ্রোহের আশাজ্ঞা : দেশীয় রাজ্যগুলি রাজতান্ত্রিক, স্বৈরতান্ত্রিক ও পশ্চাদপদ ছিল। তাই দেশীয় রাজ্যের প্রজারা গণতান্ত্রিক ও উন্নত ভারতের সঙ্গে যােগ দিতে ইচ্ছুক ছিল। ফলে দেশীয় রাজ্যগুলিতে প্রজা বিদ্রোহের আশঙ্কা দেখা যায়।

       (iv) বিশেষ সমস্যা : ১৯৪৮ এর জানুয়ারি মাসের মধ্যে অধিকাংশ দেশীয় রাজ্যে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হলেও হায়দরাবাদ, জুনাগড় ও কাশ্মীর নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ভারতভুক্তি দলিলে স্বাক্ষর করেনি। ফলে ব্যতিক্রমী। ওই তিনটি রাজ্য নিয়ে জটিল সমস্যা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন জটিলতার কারণে সমগ্র কাশ্মীরকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে ভারত সরকার ব্যর্থ হয়। উপসংহার : উপরােক্ত সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভাই প্যাটেল কূটনীতি ও সামরিক শক্তির প্রয়ােগ ঘটিয়ে দেশীয় রাজ্যগুলি ভারতের অন্তর্ভুক্ত করেন।

2. টীকা লেখাে : কাশ্মীর সমস্যা।

Answer : স্বাধীনতা লাভের পর ভারতের অন্যতম প্রধান সমস্যা ছিল দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির সমস্যা-এর মধ্যে সবচেয়ে জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয় কাশ্মীরের ভারতভুক্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলি। যে সমস্যার সমাধান আজও সম্ভব হয়নি। সমস্যার সূচনা : কাশ্মীরের মহারাজা হরি সিংহ হিন্দু হলেও তখনকার সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রজা ছিল মুসলিম। এই অবস্থায় মহারাজা হরি সিংহ কাশ্মীরের স্বাধীন অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা করলে পাকিস্তান ও ভারত উভয় রাষ্ট্রই কাশ্মীরকে নিজ নিজ রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করে ফলে সৃষ্টি হয় কাশ্মীর সমস্যা।

       পাকিস্তানের কাশ্মীর আক্রমণ : ১৯৪৭ এর ২২ মে অক্টোবর পাকিস্তানের মদতপুষ্ট বাহিনী কাশ্মীরে প্রবেশ করে হত্যা, লুণ্ঠন ও নির্যাতনসহ ব্যাপক হিংসাত্মক কার্যকলাপ শুরু করেন। ওই অবস্থায় মহারাজা হরি সিংহ ২৮শে অক্টোবর ভারতের কাছে সামরিক সাহায্যের প্রার্থনা করেন।

       ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর : মহারাজা হরি সিংহের সামরিক সাহায্যের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার জানিয়ে দেয় যে মহারাজা ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করলে তবেই ভারত কাশ্মীরে সেনা পাঠাবে। ওই অবস্থায় ২৬শে অক্টোবর হরি সিংহ ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করলে কাশ্মীর ভারত এর অন্তর্ভুক্ত হয়।

       ভারতের সামরিক অভিযান : হরি সিংহ ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করার পরের দিন ভারতীয় সেনা কাশ্মীরে অভিযান চালায় এবং দ্রুত কাশ্মীরে অংশগ্রহণ করে ভূভাগ দখল করে নেয়। ৩১শে অক্টোবর কাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা শেখ আবদুল্লা কাশ্মীরের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করেন।

       উপসংহার : ১৯৪৮ সালের ৩১শে ডিসেম্বর নিরাপত্তা পরিষদ যুদ্ধবিরতি ঘােষণা করে এবং ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি যুদ্ধ বিরােধী সীমারেখা (LOC) চিহ্নিত করে। ফলে পাক হানাদার অধিকৃত কাশ্মীর পাকিস্তানের দখলে চলে যায়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত কাশ্মীর সমস্যার কোনাে সমাধান হয়নি।

3. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির ব্যাপারে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকা আলােচনা করাে।

Answer : স্বাধীনতা লাভের পর ভারত যেসব জটিল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম হল দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তিজনিত সমস্যা। এক্ষেত্রে ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে।

       (i) প্যাটেলের কঠোর মনােভাব : ভারতের ভৌগােলিক সীমানায় অবস্থিত দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতভুক্তি দলিলে স্বাক্ষর করাতে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের কঠোর ও অনমনীয় মনােভাব গ্রহণ করে।

       (ii) সামরিক হুমকি : প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে প্যাটেল দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানায় কিন্তু তাঁর আহ্বানে যেসব দেশীয় রাজ্যগুলি স্বাক্ষর করেননি ভারতভুক্তির দলিলে, তাদেরকে তিনি সামরিক অভিযান চালানাের ভয় দেখিয়ে ভারতে যােগদানে বাধ্য করেন।

       (iii) কূটনৈতিক চাপ : বিভিন্ন দেশীয় রাজ্যকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্যে বল্লভভাই প্যাটেল নানা কুটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেন। তিনি তাঁর স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সচিব ডি. পি. মেননকে বলেন যে, দ্রুততার সঙ্গে কার্যকরী পদক্ষেপ না গ্রহণ করতে পারলে কষ্টার্জিত স্বাধীনতা দেশীয় রাজ্যগুলির দরজা দিয়ে অদৃশ্য হয়ে। যেতে পারে।

       (iv) সামরিক অভিযান : ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে জানুয়ারি মাসের মধ্যে হায়দ্রাবাদ, জুনাগড় ও কাশ্মীর ব্যতীত সমগ্র দেশীয় রাজ্য ভারতভুক্তি হয়। তাই ভারতে যােগদানে অনিচ্ছুক তিনটি রাজ্যের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বল্লভভাই প্যাটেল সামরিক অভিযান প্ররণ করে না ফলে রাজ্যগুলি ভারতে অন্তর্ভুক্ত হয়। উপসংহার : বল্লভভাই প্যাটেলের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও অনমনীয় মনােভাব, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সচিব ডি. পি. মেনন তার কূটনৈতিক এবং লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনের সহযােগিতায় দেশীয় রাজ্যগুলি ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।

4, টীকা লেখাে : রাজ্য পুনর্গঠন আইন।

Answer : দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতে অন্তর্ভুক্ত করে ভারতভুক্তিজনিত সমস্যার সমাধান করা হলেও ১৯৫০ এর দশকে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুর্ণগঠন করার সমস্যার উদ্ভব হয়। তাই এই উদ্দেশ্যে গঠিত হয় রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন ও আইন। রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন : ১৯৫৩ সালে প্রধানমন্ত্রী জহওরলাল নেহরু রাজ্য পূণর্গঠন কমিশন গঠন করেন। এই কমিশন গঠিত হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সভাপতিত্বে।

       ১৯৫৫ সালে কমিশন তার রিপাের্ট পেশ করে। ওই রিপাের্টে ভারতকে ১৫টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়। ওই কমিশন ভাষার ভিত্তিতে রাজ্যে পূণর্গঠনের কথা বললেও বােম্বাই ও পাঞ্জাব বিভাজনের বিরােধিতা করেন। রাজ্যপণর্গঠন আইন : রাজ্য পুণর্গঠন আইনের সুপারিশ ভারতকে ১৪টি প্রদেশ ও ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিভক্তি করা হয়।

       (i) হায়দরাবাদ থেকে তেলেঙ্গানাকে বিচ্ছিন্ন করে অন্ধ্রপ্রদেশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
       (i) মালাবার, কোচিন, ত্রিবাঙ্কুর যুক্ত হয়ে গঠিত হয় কেরালা রাজ্য।
       (ii) মধ্যপ্রদেশ নামে একটি নতুন হিন্দিভাষি রাজ্য গঠিত হয়।

       উপসংহার : ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের ফলে ভারতের রাজনৈতিক ঐক্য সুদৃঢ় হয় এবং জাতীয় সংহতি শক্তিশালী হয়। এদিক থেকে বিচার করলে ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুণর্গঠন কমিশন ও আইনের গুরুত্ব অপরিসীম।

দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন | উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত – রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর :[প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]

1. কাশ্মীরের সমস্যা সম্পর্কে আলােচনা করাে। অথবা কাশ্মীরকে কীভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয় তা লেখাে।

Answer : ভূমিকা : ১৯৪৭ খ্রিঃ ভারত স্বাধীনতা লাভ করার পর ব্রিটিশরা ভারত ত্যাগ করে তারপর ভারতীয় ভূখণ্ডে অন্তত ৫০০টি স্বাধীন দেশীয় রাজ্যর অস্তিত্ব ছিল। ভারতের স্বাধীনতা আইনের দ্বারা এই রাজ্যগুলি নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখার অথবা ভারত ও পাকিস্তানের যে কোনাে একটি রাষ্ট্রে যােগদানের অধিকার পায়। “লৌহ মানব’ নামে খ্যাত ভারতের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের চাপের ফলে অধিকাংশ দেশীয় রাজ্যই ভাতা ও অন্যান্য সুযােগ-সুবিধার বিনিময়ে “Instrument of Accession” নামক ভারত ভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করে ভারতরে অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু যে তিনটি ব্যতিক্রমী রাজ্য ভারতভুক্তির বিষয়ে বিশেষ সমস্যা সৃষ্টি করেছিল সেগুলির মধ্যে অন্যতম হল কাশ্মীর। কাশ্মীরের ভারতভুক্তি নিয়ে যে জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল তার সমাধান আজও হয়নি।

       কাশ্মীরের স্বাধীনতা রক্ষার চেষ্টা : ভারতের স্বাধীনতা লাভের সময় কাশ্মীরের রাজা ছিলেন হরি সিং। ভারত ও পাকিস্তান নিজ নিজ দেশে হরি সিংকে যােগদানের আবেদন জানান। কিন্তু মহারাজা হরি সিং কোনাে দেশে যােগদান না করে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র থাকার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। অপরদিকে কাশ্মীরের প্রধান রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্স’ এর নেতা শেখ আবদুল্লা কাশ্মীরের ভারত ভূক্তির জন্য আন্দোলন করেন।

       কাশ্মীরে পাক আক্রমণ ও ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর : কাশ্মীরের রাজা হরি সিং স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেন। ভারতও এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বিরােধী ছিল। কাশ্মীরের প্রধান রাজনৈতিক দল ও তার প্রাণপুরুষ এক্ষেত্রে কাশ্মীরের ভারতভুক্তি সম্পর্কে জনমত গঠন করতে থাকেন। কিন্তু যেহেতু মুসলিমদের সংখ্যা বেশি সেজন্য পাকিস্তান এই রাজ্যটিকে নিজের অধীনে আনতে উদ্যোগী হন। এই অস্থায় ১৯৪৭ খ্রীঃ ২২শে অক্টোবর পাকিস্তানের মদতপূর্ণ হানাদার বাহিনী কাশ্মীরে প্রবেশ করে হত্যা, লুঠ, ও নির্যাতন সহ ব্যাপক হিংসাত্মক কার্যকলাপ শুরু করে। এই অবস্থায় মহারাজা হরি সিং রাজধানী শ্রীনগর থেকে পালিয়ে যান এবং ২৫ অক্টোবর ভারত সরকারের কাছে সাময়িক সাহায্য প্রার্থনা করেন। ভারত সরকার জানায় যে, মহারাজা ভারতভুক্তির দলিলে সাক্ষর করলে তবে ভারত কাশ্মীরে সেনা পাঠাবে। তারপর মহারাজা হরি সিং ২৬ অক্টোবর ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করেন এবং অবস্থায় মহারাজা হরি সিং রাজধানী শ্রীনগর থেকে পালিয়ে যান এবং ২৫ অক্টোবর ভারত সরকারের কাছে সাময়িক সাহায্য প্রার্থনা করেন। ভারত সরকার জানায় যে, মহারাজা ভারতভুক্তির দলিলে সাক্ষর করলে তবে ভারত কাশ্মীরে সেনা পাঠাবে। তারপর মহারাজা হরি সিং ২৬ অক্টোবর ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করেন এবং কাশ্মীরের জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল তা সমর্থন করে। পরদিন ভারত সেনাবাহিনী শ্রীনগরে প্রবেশ করে এবং কাশ্মীরের ১/৩ অংশ দখল করে নেয়।

       উপসংহার : পাকিস্তান পূর্ণাঙ্গ কাশ্মীর পেয়ে তখন থেকে মাঝে মাঝেই কাশ্মীরে আক্রমণ চালায়। এর ফলে কাশ্মীরের উপর আধিপত্য প্রতিস্থানকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্য দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ও বিরােধ চলছে। এই বিরােধকে কেন্দ্র করে উভয় দেশের মধ্যে ১৯৪৭, ১৯৬৫, ১৯৭১ ও ১৯৯৯ খ্রীঃ বড় ধরনের যুদ্ধ সংগঠিত হয়।

2. ভারতের স্বাধীনতালাভের পর নবগঠিত ভারতের প্রধান সমস্যাগুলি কী তা আলােচনা করাে?

Answer : ভূমিকা : ১৯৪৭ খ্রিঃ ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারত স্বাধীন। হয়। স্বাধীনতা লাভের পর নবগঠিত ভারত নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়। এই সমস্ত সমস্যার সমাধান করার জন্য ভারত সরকারকে কয়েক বছর ধরে আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে হয়। ডঃ সর্বপল্লী গােপাল স্বাধীনতা লাভের সূচনালগ্নে এই সংকটকে বিপন্ন প্রভাত বলে অভিহিত করেছেন।

       সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা : ১৯৪৬ খ্রিঃ ভারতের বিভিন্ন দাঙ্গা তীব্রতর হয়ে ওঠে। স্বাধীনতা লাভের পরও ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এই দাঙ্গা অব্যাহত থাকে। দাঙ্গায় অন্তত ৫ লক্ষ মানুষ নিহত হয়ে বলে জি ভি খােলসা উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া ব্যাপক লুণ্ঠন, গৃহে অগ্নি সংযােগ, ধর্ষণ ধর্মান্তকরণ প্রভৃতি অব্যাহত থাকে। দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তি : স্বাধীনতা লাভের প্রাক মুহূর্তে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রায় ৬০০টি দেশীয় রাজ্যর অস্তিত্ব ছিল। এগুলির মধ্যে কাশ্মীর, হায়দরাবাদ—জুনাগড় সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপুর্ণ দেশীয় রাজ্য নবগঠিত ভারতে যােগ দিতে অস্বীকার করে। এই সব রাজ্য স্বাধীন থাকতে বা পাকিস্তানের সঙ্গে যােগ দিতে আগ্রহী হলে ভারতের জাতীয় সংহতির পক্ষে তা ছিল যথেষ্ট বিপজ্জনক। দেশভাগ ও উদ্বাস্তু সমস্যা : দেশ ভাগের ফলে সৃষ্ট উদ্বাস্তু সমস্যা নবগঠিত ভারতে তীব্র সংকট সৃষ্টি করে। পূর্ব পাকিস্তান থেকে লক্ষ লক্ষ হিন্দু এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে লক্ষ লক্ষ হিন্দু ও শিখ নিজেদের সর্বস্ব হারিয়ে এবং মাতৃভূমি ছেড়ে উদ্বাস্তু হয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এই বিপুল সংখ্যা উদ্বাস্তুর খাদ্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা সরকারের পক্ষে মুশকিল হয়ে পড়ে। উদ্বাস্তু সমস্যা ভারতের সামাজিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করে। পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা, পাঞ্জাব প্রভৃতি রাজ্যে উদ্বাস্তু সমস্যা তীব্র হয়ে ওঠে।

       খাদ্য সংকট : দেশ ভাগের ফলে ভারতে খাদ্য উৎপাদন কমে যাবার ফলে খাদ্যের মুল্য যথেষ্ট বৃদ্ধি পায়। এবং তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার ঊর্ধ্বে চলে যায়। ফলে নবগঠিত ও দেশে খাদ্যাভাব তীব্র হয়ে ওঠে।

       অর্থনৈতিক সংকট : নবগঠিত ভারতের অর্থনৈতিক শক্তি ছিল অত্যন্ত দুর্বল। দেশকে নতুন করে গড়ে তােলার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়ােজন ছিল। সরকারের হাতে তা না থাকায় কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য, অর্থনীতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে তীব্র সংকট দেখা দেয়। দেশ ভাগের পর বহু শিল্প কারখানা ভারতে থাকলেও শিল্পের প্রয়ােজনীয় পাট ও তুলা উৎপাদক অঞ্চলগুলি পাকিস্তানের ভাগে পড়ায় শিল্প উৎপাদনে ব্যাহত হয়।

       জাতীয় সংহতি সমস্যা : নবগঠিত ভারতে বিভিন্ন জাতি, বর্ণ, ভাষা ও জনগােষ্ঠীর মধ্যে আঞ্চলিকতা ও সাংস্কৃতিক ভেদাভেদ তীব্র হয়ে ওঠে। ভাষা ও জাতিভিত্তিক পৃথক রাজ্যের দাবিতে বিভিন্ন অঞ্চলে আন্দোলন ছাড়িয়ে পড়ে। উপসংহার : দেশের সাধারণ মানুষ ভারতের স্বাধীনতা লাভের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের যে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিল তা নবগঠিত ভারতের বিভিন্ন সমস্যার ফলে ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। তাই দরিদ্র ভারতীয় অনেকেই বলতে শুরু করে—“ইয়ে আজাদি ঝুটি হ্যায়।

FILE INFO : WBBSE Class 10th History Suggestion with PDF Download for FREE | দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন বিনামূল্যে ডাউনলোড | উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত – প্রশ্ন উত্তর – MCQ প্রশ্নোত্তর, অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নউত্তর, ব্যাখ্যাধর্মী, প্রশ্নউত্তর

File Details:
PDF Name : দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন – উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত – সমস্ত প্রশ্ন উত্তর | WBBSE Class 10th History Suggestion PDF
Language : Bengali
Size : 651.7 kb
No. of Pages : 11
Download Link : Click Here To Download

পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক  ইতিহাস পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্ন উত্তর ও শেষ মুহূর্তের সাজেশন ডাউনলোড। দশম শ্রেণী ইতিহাস পরীক্ষার জন্য সমস্ত রকম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। West Bengal Madhyamik  History Suggestion Download. WBBSE Madhyamik History short question suggestion. WBBSE Class 10th History Suggestion download. Madhyamik Question Paper History. WB Madhyamik 2019 History suggestion and important questions. WBBSE Class 10th History Suggestion  pdf.

Get the WBBSE Class 10th History Suggestion by winexam.in

 West Bengal WBBSE Class 10th History Suggestion  prepared by expert subject teachers. WB Madhyamik  History Suggestion with 100% Common in the Examination.

Class 10th History Suggestion

West Bengal Madhyamik  History Suggestion Download. WBBSE Madhyamik History short question suggestion. WBBSE Class 10th History Suggestion  download. Madhyamik Question Paper History.

বিষয় দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন – উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত – প্রশ্ন উত্তর |  WB Madhyamik History Suggestion

দশম শ্রেণী ইতিহাস (Madhyamik History) উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত – প্রশ্ন উত্তর

দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন | উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত

দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক বোর্ডের (WBBSE) সিলেবাস বা পাঠ্যসূচি অনুযায়ী  দশম শ্রেণির ইতিহাস বিষয়টির সমস্ত প্রশ্নোত্তর। সামনেই মাধ্যমিক পরীক্ষা, তার আগে winexam.in আপনার সুবিধার্থে নিয়ে এল দশম শ্রেণী ইতিহাস সাজেশান – উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত – প্রশ্ন উত্তর । ইতিহাসে ভালো রেজাল্ট করতে হলে অবশ্যই পড়ুন । আমাদের দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন

দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন | উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত

আমরা WBBSE মাধ্যমিক পরীক্ষার ইতিহাস বিষয়ের – উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত – প্রশ্ন উত্তর – সাজেশন নিয়ে উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত – প্রশ্ন উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। আপনারা যারা এবছর দশম শ্রেণী ইতিহাস পরীক্ষা দিচ্ছেন, তাদের জন্য আমরা কিছু প্রশ্ন সাজেশন আকারে দিয়েছি. এই প্রশ্নগুলি পশ্চিমবঙ্গ দশম শ্রেণী ইতিহাস পরীক্ষা  তে আসার সম্ভাবনা খুব বেশি. তাই আমরা আশা করছি Madhyamik ইতিহাস পরীক্ষার সাজেশন কমন এই প্রশ্ন গুলো সমাধান করলে আপনাদের মার্কস বেশি আসার চান্স থাকবে।

WiN EXAM Institute

 এই (দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন – উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত – সমস্ত প্রশ্ন উত্তর | WBBSE Class 10th History Suggestion PDF) পোস্টটি থেকে যদি আপনার লাভ হয় তাহলে আমাদের পরিশ্রম সফল হবে। আরোও বিভিন্ন স্কুল বোর্ড পরীক্ষা, প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষার সাজেশন, অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রোচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর (All Exam Guide Suggestion, MCQ Type, Short, Descriptive Question and answer), প্রতিদিন নতুন নতুন চাকরির খবর (Job News in History) জানতে এবং সমস্ত পরীক্ষার এডমিট কার্ড ডাউনলোড (All Exam Admit Card Download) করতে winexam.in ওয়েবসাইট ফলো করুন, ধন্যবাদ।
Tags:History ix, History x, History class ix, History class x, History ix and x, History nine and ten, History nine, History ten, History class nine, History class ten, History class nine and ten, class ix geograpgy, class x History, class ix and x History, wbbse, syllabus, madhyamik History, madhyamik Itihas, Itihas madhyamik, class x Itihas, madhyamiker Itihas, madhyomik Itihas, madhyomik History, nobom shreni Itihas, doshom shreni Itihas, nobom and doshom shreni Itihas, nabam shreni Itihas, dasham shreni Itihas, exam preparation, examination preparation, gr D preparation, group D preparation, preparation, rail, net, set, wbcs, psc, ssc, csc, upsc, poriksha prostuti, pariksha prastuti, দশম শ্রেণী ইতিহাস, দশম শ্রেণী ইতিহাস, মাধ্যমিক মাধ্যমিক, নবম শ্রেণি ইতিহাস, দশম শ্রেণি ইতিহাস, নবম শ্রেণি ইতিহাস, দশম শ্রেণি ইতিহাস, ক্লাস টেন ইতিহাস, মাধ্যমিকের ইতিহাস, ইতিহাস মাধ্যমিক – উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত, দশম শ্রেণী – উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত, মাধ্যমিক ইতিহাস উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত, ক্লাস টেন উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত, Madhyamik History – উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত, Class 10th উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত, Class X উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত, হিস্ট্রি/হিস্টোরি, মাধ্যমিক হিস্ট্রি/হিস্টোরি, পরীক্ষা প্রস্তুতি, রেল, গ্রুপ ডি, এস এস সি, পি, এস, সি, সি এস সি, ডব্লু বি সি এস, নেট, সেট, চাকরির পরীক্ষা প্রস্তুতি, Madhyamik Suggestion, Madhyamik Suggestion , Madhyamik Suggestion , West Bengal Secondary Board exam suggestion, West Bengal Secondary Board exam suggestion , WBBSE,  WBBSE , মাধ্যমিক সাজেশান, মাধ্যমিক সাজেশান , মাধ্যমিক সাজেশান , মাধ্যমিক সাজেশন, দশম শ্রেণী ইতিহাস সাজেশান , দশম শ্রেণী ইতিহাস সাজেশান , দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন , দশম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, Madhyamik Suggestion History , WBBSE Class 10th History Suggestion , WBBSE Class 10th History Suggestion

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here