দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – প্রশ্ন উত্তর সাজেশন | WBBSE Class 10th Geography Suggestion

0
52

দশম শ্রেণী ভূগোল সাজেশন – WBBSE Class 10th Geography Suggestion

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ - প্রশ্ন উত্তর সাজেশন | WBBSE Class 10th Geography Suggestion
দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – প্রশ্ন উত্তর সাজেশন | WBBSE Class 10th Geography Suggestion

দশম শ্রেণী ভূগোল সাজেশন – WBBSE Class 10th Geography Suggestionভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – প্রশ্ন উত্তর   দেওয়া হল নিচে। এই WBBSE Class 10th (X) Madhyamik Geography Suggestion – মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর ভূগোল সাজেশন – ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – প্রশ্ন উত্তর  গুলি আগামী সালের পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য খুব ইম্পর্টেন্ট। আপনারা যারা মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর ভূগোল পরীক্ষার সাজেশন খুঁজে চলেছেন, তারা নিচে দেওয়া প্রশ্নপত্র ভালো করে পড়তে পারেন। এই পরীক্ষা তে কোশ্চেন গুলো আসার সম্ভাবনা খুব বেশি।

ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত, রোচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর (MCQ, SAQ, Short, Descriptive Question and Answer) | মাধ্যমিক দশম শ্রেণী ভূগোল সাজেশন – WBBSE Class 10th Madhyamik Geography Suggestion

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর [MCQ]:[প্রতিটি প্রশ্নের মান-1]

1. যে পর্বতকে হিমালয়ের উত্তর-পশ্চিম প্রান্ত হিসেবে ধরা হয়—
[A] গডউইন অস্টিনকে     [B] নাঙ্গা পর্বতকে [C] কাঞ্চনজঙ্ঘাকে     [D] অন্নপূর্ণাকে

উত্তরঃ [B] নাঙ্গা পর্বতকে

2. শ্রীনগর ও জম্মুর মধ্যে সংযােগ রক্ষা করেছে—
[A] জোজিলা পাস।     [B] নাথুলা পাস [C] বানিহাল পাস     [D] সােলারগড় পাস

উত্তরঃ [C] বানিহাল পাস

3. কোঙ্কন উপকূল অবস্থিত যে সাগরের তীরে –
[A] আরবসাগর     [B] বঙ্গোপসাগর   [C] ভারতমহাসাগর [D] চিন সাগর

উত্তরঃ [A] আরবসাগর

4. কৃয়া নদীর বদ্বীপের পূর্বভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূল ভাগকে বলা হয়—
[A] ওড়িশা উপকূল     [B] অন্ত্র উপকূল [C] করমণ্ডল উপকূল      [D] উত্তর সরকার উপকূল

উত্তরঃ [D] উত্তর সরকার উপকূল

5. ভারতের বৃহত্তম নদী বাঁধ হল-
[A] নাগার্জুন সাগর      [B] ম্যাসানজোর [C] হীরাকুঁদ     [D] আক্রা-নাঙ্গাল

উত্তরঃ [D] আক্রা-নাঙ্গাল

6. ভারতের উচ্চতম লবণাক্ত জলের হ্রদ হল—
[A] প্যাংগং     [B] ডাল [C] সাততাল     [D] মিকির

উত্তরঃ [A] প্যাংগং

7. শিবালিক ও মধ্য হিমালয়ের মাঝে অবস্থিত ‘দুন উপত্যকা অবস্থিত
[A] হিমাচল প্রদেশে     [B] অরুণাচল প্রদেশে [C] উত্তরাখণ্ডে     [D] কাশ্মীরে

উত্তরঃ [C] উত্তরাখণ্ডে

8. মহারাষ্ট্রের উপকূল অঞ্চলকে বলে—
[A] করমণ্ডল উপকূল     [B] মালাবার উপকূল [C] কোঙ্কন উপকূল     [D] তামিলনাড়ু উপকূল

উত্তরঃ [C] কোঙ্কন উপকূল

9. পশ্চিম উপকূলের উপহ্রদগুলিকে বলা হয়—
[A] কয়াল     [B] ভাবর [C] ধান্দ।     [D] তাল

উত্তরঃ [A] কয়াল

10. ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহটি হল-
[A] জেমু     [B] সিয়াচেন     [C] চেমায়ুংদুং   [D] গঙ্গোত্রী

উত্তরঃ [B] সিয়াচেন

14. মহারাষ্ট্রের নাসিকের কাছে ত্র্যম্বক উচ্চভূমি থেকে যে নদীটির উৎপত্তি হয়েছে, সেই নদীর নাম-
[A]গােদাবরী      [B] কৃয়া [C] সরাবতী     [D] কাবেরী

উত্তরঃ [A]গােদাবরী

11. ভারতের পশ্চিম উপকূলের ভেনাদ কয়াল অবস্থিত-
[A] কোঙ্কনে      [B] মালাবারে [C] গুজরাতে      [D] রাজস্থানে

উত্তরঃ [B] মালাবারে

12. আরাবল্লি পর্বত থেকে উৎপন্ন হওয়া নদীটির নাম
[A] কাবেরী     [B] চম্বল। [C] সবরমতী     [D] লুনি

উত্তরঃ [C] সবরমতী

13, জব্বলপুরের কাছে ধুয়াধর জলপ্রপাতটি যে নদীর ওপর অবস্থিত সেটি হল-
[A] তাপ্তী      [B] নর্মদা [C] কাবেরী      [D] তুঙ্গভদ্রা

উত্তরঃ [B] নর্মদা

14. ভারতের একটি অন্তর্বাহিনী নদী হল—
[A] সবরমতী      [B] নর্মদা [C] লুনি     [D] কাবেরী

উত্তরঃ [C] লুনি

15. যমুনােত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে গঙ্গার উপনদী যমুনা’ যে শহরের কাছে গঙ্গার সঙ্গে মিলিত হয়েছে-
[A] লখনউ     [B] আগ্রা [C] রাজমহল     [D] এলাহাবাদ

উত্তরঃ [D] এলাহাবাদ

16. গাৱসােপ্পা বা যােগ জলপ্রপাতটি যে নদীর ওপর অবস্থিত সেটি হল—
[A] কৃয়া     [B] সরাবতী [C] কাবেরী     [D] গােদাবরী

উত্তরঃ [B] সরাবতী

17. মৌসুমি কথার উৎপত্তি ‘মৌসিন’ শব্দ থেকে। এটি একটি
[A] বাংলা শব্দ     [B] মালয়ালাম শব্দ     [C] আরবি শব্দ [D] ফারসি শব্দ।

উত্তরঃ [C] আরবি শব্দ

18. পূর্ব ভারতে কালবৈশাখী দেখা যায়-
[A] মার্চ-মে মাসে     [B] জুন-জুলাই মাসে [C] সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে     [D] ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে

উত্তরঃ [A] মার্চ-মে মাসে

19. আবৃষ্টি দেখা যায়-
[A] পূর্ব ভারতে     [B] দক্ষিণ ভারতে [C] উত্তর ভারতে     [D] উত্তর-পশ্চিম ভারতে

উত্তরঃ [B] দক্ষিণ ভারতে

20. কার্পাস চাষের পক্ষে খুব ভালাে—
[A] কৃয়মৃত্তিকা     [B] এঁটেল মৃত্তিকা   [C] পডসল মৃত্তিকা [D] নবীন পলি মৃত্তিকা

উত্তরঃ [A] কৃয়মৃত্তিকা

21. ভারতের প্রায় 46% অঞ্চল জুড়ে আছে যে মৃত্তিকা
[A] রেগুর মৃত্তিকা     [B] ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা     [C] পডসল মৃত্তিকা [D] পলি মৃত্তিকা

উত্তরঃ [D] পলি মৃত্তিকা

22. তরাই অঞলের মৃত্তিকার অপর নাম-
[A] ভাবর     [B] ভুর [C] ভাঙ্গার     [D] খাদার

উত্তরঃ [A] ভাবর

23. প্লাবনভূমিতে গঠিত নবীন পলিমাটিকে বলে—
[A] ভুর     [B] ভাঙ্গার     [C] খাদার [D] ভাবর

উত্তরঃ [C] খাদার

24. ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা দেখা যায়—
[A] গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলে     [B] ছােটোনাগপুর মালভূমি অঞ্জলে     [C] রাজস্থানের মরু অঞ্চলে [D] পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অঞ্চলে।

উত্তরঃ [B] ছােটোনাগপুর মালভূমি অঞ্জলে

25. মার্চ-এপ্রিল মাসে নিম্নচাপজনিত ঝড় অসমে যে নামে পরিচিত
[A] বরদাইছিলা     [B] নরওয়েস্টার   [C] কালবৈশাখী [D] আঁধি

উত্তরঃ [A] বরদাইছিলা

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-]

1. সােনালি তন্তু ____________ কে বলা হয়।

উত্তর : পাট।

2. একটি লৌহ-সংকর ধাতুর নাম ।

উত্তর : ইস্পাত।

3. পশ্চিমবঙ্গের একটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হল প্রকল্প।

উত্তর : জলঢাকা।

4. _______________ শিল্পকে ভারতে ‘আধুনিক শিল্প’ বলা হয়।

উত্তর : পেট্রো-রসায়ন।

5. ভারতের নবীনতম রাজ্য হল ________ ।

উত্তর : তেলেঙ্গানা।

6. গুজরাতের প্রধান বন্দর _____________

উত্তর : কান্ডালা।

7.____________ কে হ্রদের শহর বলা হয়।
উত্তর : হায়দরাবাদ।

৪, ভারতের সর্বাধিক জনঘনত্বপূর্ণ রাজ্যটি হল ______________ –

উত্তর : পশ্চিমবঙ্গ।

9. সর্বাধিক সাক্ষর রাজ্যটির নাম ________________ ।

উত্তর : কেরালা।

10. ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহের নাম

উত্তর : সিয়াচেন।

11. যে সম্পদ শুধুমাত্র পৃথিবীর একটি স্থানেই আছে, তাকে বলে _______________ সম্পদ।

উত্তর : অদ্বিতীয়।

12. সম্পদ সৃষ্টির উপাদান অনুসারে সম্পদ প্রকার ______________ ।

উত্তর : তিন।

13, যে সব সম্পদ ক্রমাগত ব্যবহার করলেও নিঃশেসিত হয় না, তাদের ___________ সম্পদ বলে।

উত্তর : প্রবহমান।

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – একটি বা দুটি শব্দে উত্তর দাও

1. সিপকিলা, লিপুলেখ ও নাথুলা কী?

উত্তর : সিপকিলা, লিপুলেখ ও নাথুলা হল—হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের তিনটি গিরিপথ।

2. ভূস্বর্গ’ বা ‘প্রাচ্যের নন্দনকানন কাকে বলে ?

উত্তর : অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জন্য কাশ্মীর উপত্যকাকে ‘ভূস্বর্গ’ বা ‘প্রাচ্যের নন্দনকানন বলা হয়।

3. ভারতের সর্বোচ্চ জলপ্রপাতটির নাম কী?

উত্তর : ভারতের সর্বোচ্চ জলপ্রপাতটির নাম গেরসােপ্পা বা যােগ জলপ্রপাত।

4. ভারতের সর্বোচ্চ মালভূমিটির নাম কী?

উত্তর : ভারতের সর্বোচ্চ মালভূমিটির নাম লাডাক মরুভূমি।

5. ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহ কোনটি?

উত্তর : ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহটির নাম সিয়াচেন হিমবাহ।

6. ভারতের জীবন্ত আগ্নেয়গিরিটির নাম কী?

উত্তর : ভারতের জীবন্ত আগ্নেয়গিরিটির নাম ব্যারেন দ্বীপ।

7. ভারতের নবগঠিত রাজ্য কোনটি?

উত্তর : ভারতের নবগঠিত রাজ্যটির নাম তেলেঙ্গানা (2014-2,জুন)।

৪. ভারত পাকিস্তান সীমারেখা কী নামে পরিচিত?

উত্তর : ভারত পাকিস্তান সীমারেখা র্যাডক্লিফ লাইন ও LoC নামে পরিচিত।

9. হিমালয় কী জাতীয় পর্বত?

উত্তর : হিমালয় ভঙ্গিল জাতীয় পর্বত।

10. Fন কাকে বলে?

উত্তর : কুমায়ুন হিমালয়ের মধ্যে হিমালয় পর্বতশ্রেণি এবং শিবালিক পর্বতশ্রেণির মধ্যবর্তী অংশে যে দীর্ঘ উপত্যকা রয়েছে তাকে দুন বলে।

11. পশ্চিম হিমালয়ের একটি উয় প্রস্রবণের নাম করাে।

উত্তর : পশ্চিম হিমালয়ের একটি উয় প্রস্রবণ হল কাশ্মীরের ভেরনাগ।

12. ‘বসুধার ধবল শীর্ষ’ কাকে বলে?

উত্তর : কারাকোরাম পর্বতশ্রেণিকে ‘বসুধার ধবল শীর্ষ’ বলে।

13. ভারতের কোন শহরে মৃত্তিকা গবেষণাগার স্থাপিত হয়েছে?

উত্তর : ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে মৃত্তিকা গবেষণাগার স্থাপিত হয়েছে।

14. মৃত্তিকা সংরক্ষণের প্রধান উপায় কী?

উত্তর : মৃত্তিকা সংরক্ষণের প্রধান উপায় হল বৃক্ষরােপণ।

15. তিনটি চিরসবুজ বৃক্ষের নাম লেখাে।

উত্তর : তিনটি চিরসবুজ বৃক্ষ হল—শিশু, গর্জন ও তুন।

16. ভারতের কোন রাজ্যে বনভূমির পরিমাণ সর্বাধিক?

উত্তর : ভারতের মধ্যপ্রদেশে বনভূমির পরিমাণ সর্বাধিক।

17, ভারতের মরু অঞলে কোন ধরনের উদ্ভিদ জন্মায়?

উত্তর : ভারতের মরু অঞ্চলে ক্যাকটাস বা ফণিমনসা, বাবলা, ঘাস, খেজুর প্রভৃতি বিভিন্ন মরু উদ্ভিদ বা জেরােফাইটিক প্ল্যান্টস জন্মায়।

18. ভারতের একমাত্র ভাসমান অভয়ারণ্যের নাম কী?

উত্তর : ভারতের একমাত্র ভাসমান অভয়ারণ্যের নাম মণিপুর রাজ্যের কইরুল লামজা।

19. ভারতে মােট বনভূমির পরিমাণ কত?

উত্তর : ভারতের মােট বনভূমির পরিমাণ মাত্র 21.05%।

20. একটি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের নাম লেখাে।

উত্তর : একটি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের নাম হল গরান।

21, ধান চাষের জন্য কত ডিগ্রি তাপমাত্রার প্রয়ােজন হয় ?

উত্তর : ধান চাষের জন্য 20° সে থেকে 30° সেন্টিগ্রেড উয়তার প্রয়ােজন হয়।

22. ভারতে ধান গবেষণাগার কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?

উত্তর : ভারতে ধান গবেষণাগার কেন্দ্রটি ওড়িশার কটকে অবস্থিত।

23. হটিকালচার কাকে বলে?

উত্তর : বাগানের মধ্যে বিভিন্ন শাকসবজি, ফল প্রভৃতির উৎপাদনকে হর্টিকালচার বলে। হর্টিকালচারকে বলে বাজার বাগান বা উদ্যান কৃষি।

24. গম উৎপাদনে ভারতের কোন রাজ্য প্রথম স্থান অধিকার করে?

উত্তর : গম উৎপাদনে ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্য প্রথম স্থান অধিকার করে।

25. ভারতের গম গবেষণাগার কেন্দ্রটি কোথায় অবস্থিত?

উত্তর : ভারতের গম গবেষণাগার কেন্দ্রটি দিল্লির কাছে পুষায় অবস্থিত।

26. কোন ধরনের মাটিতে গম চাষ ভালাে হয় ?

উত্তর : দো-আঁশ মাটিতে গম চাষ ভালাে হয়।

27. ভারতের দুটি প্রধান তন্ত্রশস্যের নাম লেখাে।

উত্তর : ভারতের দুটি প্রধান তন্ত্রশস্যের নাম হল-(i) পাট ও (i) তুলাে।

28, কয়েকটি উন্নতফলনশীল তলােৰীজের নাম করাে।

উত্তর : কয়েকটি উন্নতফলনশীল তুলােবীজের নাম হল-সুজাতা, MCU-4, MCU-5।

29. তুলাে চাষের জন্য কী পরিমাণ বৃষ্টিপাত ও উয়তার প্রয়ােজন হয় ?

উত্তর : তুলাে চাষের জন্য 50 সেমি থেকে 100 সেমি বৃষ্টিপাত ও 20° সেলসিয়াস থেকে 25° সেলসিয়াস উয়তার প্রয়ােজন হয়।

30. তুলাে চাষের জন্য কীরকম মাটির প্রয়ােজন?

উত্তর : তুলাে চাষের জন্য চুন মেশানাে উর্বর দো-আঁশ মাটি বা কৃয় মৃত্তিকার প্রয়ােজন হয়।

31. বাণিজ্য ফসল কাকে বলে?

উত্তর : প্রধানত রপ্তানি বা বাণিজ্যের জন্য যে সব ফসল উৎপাদন করা হয়, সেগুলিকে বাণিজ্য ফসল বলে।

ভারতের ভূ-প্রকৃতি

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-2]

1. ‘দুন’ বলতে কী বােঝাে?

উত্তর : হিমাদ্রি হিমালয় ও হিমাচল হিমালয় থেকে উৎপন্ন নদীগুলি শিবালিকের উত্তরদিকে যে উপত্যকা গঠন করেছে তাকে দুন উপত্যকা বলে। এই উপত্যকা উর্বর হওয়ায় কৃষিকার্য ভালাে হয় এবং জনবসতি ঘন। উত্তরাখণ্ড রাজ্যের দেরাদুন ভারতের বৃহত্তম দুন।

2. ‘কয়াল’ কী?

উত্তর : উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রতরঙ্গ বাহিত নুড়ি, বালি প্রভৃতি সঞ্চয়ে পুরােদেশীয় বাঁধ গঠিত হয়। পুরােদেশীয় বাঁধের পশ্চাতে আবদ্ধ লবণাক্ত জলাভূমিকে কয়াল বলে। কেরালার ভেম্বনাদ একটি কয়াল।

3. মরুস্থলী’ কী?

উত্তর : ভারতীয় মরু অঞ্চলের সর্ব পশ্চিম অংশে অবস্থিত উদ্ভিদহীন বালুকাময় যে মরুভূমি অঞ্চলটিকে মরুস্থলী। মরুস্থলী’ শব্দটির অর্থ ‘মৃতের দেশ। অতি অল্প বৃষ্টিপাতের কারণে এই অঞ্চলে জীবনের অস্তিত্ব প্রায় নেই। এখানে বেলে ও চুনা পাথর গঠিত ছােটো ছােটো টিলা দেখা যায়।

4, পূর্বাচল কী?

উত্তর : ভারতের উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের উত্তর পূর্ব দিকের প্রসারিত অঞলটি পূর্বাঞ্চল নামে পরিচিত। ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে পূর্বাঞ্চল গঠিত। এই অঞ্চলের গড় উচ্চতা 1500-4000 মি.। পাটকাই, নাগা, লুসাই, মিশনি এখানকার উল্লেখযােগ্য পর্বতশ্রেণি।

5. ডেকানট্টাপ’ কী?

উত্তর : ডেকান শব্দটির অর্থ দাক্ষিণাত্য এবং ‘টাপ’ শব্দটির অর্থ ‘সিঁড়ি’। মহারাষ্ট্রের লাভা গঠিত মালভূমিটি ডেকানট্রাপ নামে পরিচিত। প্রায় 6-7 কোটি বছর পূর্বে ভূ-ত্বকের প্রশস্ত ফাটল দিয়ে তরল ম্যাগমা বেরিয়ে এটি সিঁড়ি মত গঠন তৈরি করেছে। প্রাচীন ভূ-খণ্ড গন্ডােয়ানাল্যান্ডের অংশবিশেষ।

6. কারেওয়া কী?

উত্তর : উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলে কাশ্মীর উপত্যকায় পাহাড়ের ধাপযুক্ত ঢালু অংশকে বলা হয় কারেওয়া।

7. মালনাদ ও ময়দান কী?

উত্তর : মহারাষ্ট্র মালভূমির দক্ষিণে অবস্থিত কর্ণাটক মালভূমি গ্রানাইট ও নিস শিলা দ্বারা গঠিত। এই মালভূমির বেশি উচ্চতাসম্পন্ন দক্ষিণ পশ্চিমাংশ মালনাদ ও কম উচ্চতাসম্পন্ন উত্তর পূর্বাংশ ময়দান নামে পরিচিত। মালদ বন্ধুর ও পর্বতময়। ময়দান তরঙ্গায়িত।

৪. আকসাই চিন কী?

উত্তর : ট্রান্স হিমালয়ের অন্তর্গত লাউক মালভূমির উত্তরপূর্বে একটি পর্বতবেষ্টিত উচ্চ মালভূমি আকসাই চিন নামে পরিচিত। এই অঞলের উচ্চতা 4500-6000 মি.। এই মালভূমি অঞ্চলে কয়েকটি লবণাক্ত হ্রদ আছে, যার মধ্যে লিং-জিং-টন উল্লেখযােগ্য।

9. তরাই কাকে বলে?

উত্তর : ভাবর অঞ্চলের দক্ষিণ প্রান্তে ভূ-গর্ভস্থ নদীগুলি যেখানে আত্মপ্রকাশ করেছে, সেখানকার 15 থেকে 30 কিমি প্রশস্ত সাতস্যাতে জলাভূমিকে সাধারণভাবে তরাই বলা হয়। এই অঞ্চলটি উত্তর পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ পূর্ব দিকে ঢালু হয়ে গেছে।

10. কচ্ছের রণ বলতে কী বােঝায়?

উত্তর : গুজরাত রাজ্যের উত্তরাংশে, তিনদিকে জলভাগ বেষ্টিত কচ্ছ উপদ্বীপের বিস্তীর্ণ, অগভীর, লবণাক্ত জলাভূমিকে কচ্ছের রণ বলে। এই অঞ্চলটি সম্পূর্ণ শুষ্ক, উদ্ভিদহীন ও সাদা লবণে ঢাকা বালুকাময় সমভূমিতে পরিণত হয়েছে।

11. ভাবর কাকে বলে?

উত্তর : উত্তর ভারতের অন্যতম ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগ গঙ্গা সমভূমি। এই সমভূমি অঞ্চলের উত্তর প্রান্তের ভূমির নাম ভাবর। অঞ্চলটি হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চলে অবস্থিত।

12. তাল কাকে বলে?

উত্তর : কুমায়ুন হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদগুলিকে স্থানীয় ভাষায় তাল বলা হয়। যেমন—নৈনিতাল, সাততাল, ভীমতাল ইত্যাদি।

13. বাগার অল কাকে বলে?

উত্তর : থর মরু অঞ্চলের পূর্বপ্রান্তে আরাবল্লী পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত অল্প বালুকাময় অলটি হল বাগার অল। এই অঞ্চলটি প্রকৃতপক্ষে মরুভূমি ও সমভূমি অঞ্চলের মধ্যবর্তী অঞ্চল। এখানকার অধিকাংশ অল ঘাসে ঢাকা। রাজস্থান খাল এই অঞ্চলে কৃষি প্রসারে সাহায্য করেছে।

14. ‘থালি’ কী?

উত্তর : রাজস্থানের লুনির উত্তরে বালি গঠিত সমভূমি হল থালি।

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]

1. মালনাদ ও ময়দানের মধ্যে পার্থক্য আলােচনা করাে।

উত্তর : মালনাদ ও ময়দানের মধ্যে পার্থক্য –

বিষয়    মালদান    ময়দান
(i) অবস্থান    কর্ণাটক মালভূমির পশ্চিমে অবস্থিত।    কর্ণাটক মালভূমির পূর্বে অবস্থিত।
(ii) অর্থ    মালনাদ’ শব্দের অর্থ ‘পাহাড়ি দেশ।    ময়দান’ শব্দের অর্থ অনুচ্চ ভূমিভাগ।
(iii) ভূপ্রকৃতি    এটি একপ্রকার ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি।    এটি এক প্রকার সময় মালভূমি।
(iv) উচ্চতা    মালনাদের উচ্চতা ময়দানের চেয়ে বেশি।    ময়দানের উচ্চতা মালনাদের চেয়ে কম।

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – রচনাধর্মী উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]

1. উত্তরপূর্ব হিমালয়ে পাহাড়ি অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি আলােচনা করাে।

উত্তর : উত্তরপূর্ব পাহাড়ি অঞ্চল :

অবস্থান : ভারতের উত্তর পূর্বাংশে মেঘালয়, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে উত্তর পূর্বের পাহাড়ি অঞ্চল অবস্থিত। এই উচ্চভূমিটি হিমালয় থেকে চুলের কাটার মতাে বাঁক নিয়ে উত্তর দক্ষিণে বিস্তৃত হয়েছে। ভূ-প্রকৃতি : উত্তর পূর্ব পাহাড়ি অঞ্চলকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়। নিম্নে তা। আলােচনা করা হল-

(a) পূর্বাঞ্চল : এই অংশে কতকগুলি ভঙ্গিল পর্বতশ্রেণি উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত রয়েছে। এগুলির মধ্যে পাটকই, নাগা, লুসাই, মিরিক, মিশমি, কোহিমা প্রভৃতি প্রধান। মিশমি পাহাড়ের দাফাকুম (4579 মি.) পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। অন্যদিকে নাগা পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সরামতী শৃঙ্গ (3,826 মি.)। এই অঞ্চলের পাহাড়গুলির গড় উচ্চতা 1500-3000 মিটার। পূর্বাঞ্চলের মণিপুর রাজ্যের লােকটাক হ্রদটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র হ্রদ। মণিপুরের ইম্ফল উপত্যকা পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তম উপত্যকা।

(b) মেঘালয় মালভূমি : বর্তমানে মেঘালয়ের মালভূমিটিকে উত্তরপূর্ব পাহাড়ি অঞ্চলের অংশ ধরা হয়। প্রাচীনকালে এই অঞ্চলটি ছােটোনাগপুর মালভূমির অন্তর্গত ছিল। এই অংশের ক্ষয়প্রাপ্ত পাহাড় যেমন—গারাে, খাসি, জয়ন্তিয়া প্রভৃতি পশ্চিম থেকে পূর্বে অবস্থান করছে। এখানে শিলা পাহাড়ের শিলং শৃঙ্গ (1961 মি.) মেঘালয় মালভূমির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। এই মালভূমির পশ্চিমে অবস্থিত গারাে পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ নরেক (1412 মি.)। এই মালভূমির দক্ষিণে অবস্থিত চুনাপাথরে গঠিত চেরা মালভূমি।

2. উত্তর ভারতের সমভূমির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। অথবা, উত্তরের সমভূমি অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতির বিবরণ লেখাে।

উত্তর : উত্তর ভারতের সমভূমি অঞ্চল : উত্তরে হিমালয় পর্বতমালা ও দক্ষিণে উপদ্বীপীয় মালভূমির মধ্যবর্তী অবনমিত অংশে এই বিশাল সমভূমি অঞ্চল অবস্থান করছে। আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে এই সমভূমিটি প্রধান তিনটি ভাগে বিভক্ত। নিম্নে আলােচনা করা হল।

(a) পশ্চিমের সমভূমি : উত্তর ভারতের সমভূমির একেবারে পশ্চিমে এই সমভূমিটি অবস্থিত। এটি দুটি ভাগে বিভক্ত। (i) রাজস্থানের শুষ্ক সমভূমি—আরাবল্লী পর্বতের পূর্বাংশে একসময় নদীর পলিসঞ্চয়ে এই সমভূমির সৃষ্টি হয়। (ii) পাঞ্জাব হরিয়ানা সমভূমি—শতদ্র, বিপাশা, ইরাবতী প্রভৃতি নদীবাহিত পলিসগুয়ে এই সমভূমি গঠিত।

(b) গাঙ্গেয় সমভূমি : গঙ্গা নদীর প্রবাহ পথে উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে পলি সয়ে সৃষ্ট সমভূমি গাঙ্গেয় সমভূমি নামে পরিচিত। এই সমভূমির তিনটি ভাগে বিভক্ত। (i) উচ্চ গাঙ্গেয় সমভূমি—উত্তরপ্রদেশে যমুনার বামতীর থেকে এলাহাবাদ শহর পর্যন্ত বিস্তৃত। গড় উচ্চতা 100 মিটার থেকে 300 মিটার। (ii) মধ্যগাঙ্গেয় সমভূমি-পশ্চিমে এলাহাবাদ শহর থেকে পুর্বে রাজমহল পাহাড় পর্যন্ত বিস্তৃত। গড় উচ্চতা 25-100 মিটার। (iii) নিম্নগাঙ্গেয় সমভূমি-রাজমহল থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অংশ নিম্নগাঙ্গেয় সমভূমি নামে পরিচিত। এই সমভূমি উত্তরবঙ্গের সমভূমি (তরাই, তিস্তা, মহানন্দার সমভূমি), রাঢ় সমভূমি ও ব-দ্বীপ সমভূমিতে (পরিণত, মৃতপ্রায় ও সক্রিয়) বিভক্ত।

(c) ব্রহ্মপুত্র সমভূমি : অসম রাজ্যের প্রায় 56,000 বর্গ কিমি অঞ্চল ব্যাপী ব্রম্মপুত্র ও তার একাধিক উপনদীর পলি সঞ্জয়ে গঠিত এই ব্রম্মপুত্র সমভূমি। এই অংশের গড় উচ্চতা 50-100 মিটার। নদীর গতিপথে স্বাভাবিক বাঁধ, বালুচড়া, জলাভূমি, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ প্রভৃতি দেখা যায়।

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-2]

1. দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ নদী পূর্ববাহিনী কেন?

উত্তর : গােদাবরী, মহানদী, কৃয়া, কাবেরী প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য নদীগুলি পূর্ববাহিনী। কারণ— (i) দক্ষিণ ভারতের ভূমিভাগের ঢাল পশ্চিম থেকে পূর্বে। (ii) পশ্চিমদিক থেকে আগত আরবসাগরীয় পাতের চাপ প্রতিরােধ করতে গিয়ে দাক্ষিণাত্য মালভূমি ভূভাগ পশ্চিম থেকে পূর্বে ঢালু হয়ে গিয়েছে।

2. দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ নদী পূর্বাহিনী কিন্তু নর্মদা ও তাপ্তী নদী পশ্চিমবাহিনী কেন?

উত্তর : পূর্ব পশ্চিমে বিস্তৃত সাতপুরা পর্বতের উত্তর ও দক্ষিণে চ্যুতির ফলে দুটি গ্রস্ত উপত্যকা সৃষ্টি হয়েছে। নর্মদা ও তাপ্তী নদী ওই দুটি অবনমিত ভূমির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার জন্য দাক্ষিণাত্য মালভূমির সাধারণ ঢাল নিরপেক্ষ হয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয়েছে।

3. জলবিভাজিকা ব্যবস্থাপনা বা জলবিভাজিকা উন্নয়ন বলতে কী বােঝাে?

উত্তর : কোনাে নদী অববাহিকা অঞ্চলের জলবিভাজিকা সামগ্রিক ও বিজ্ঞানসম্মত উন্নয়নই হল জলবিভাজিকা উন্নয়ন বা ব্যবস্থাপনা। এই উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে কোনাে নদী অববাহিকা অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র, পরিবেশের উপাদান এবং সম্পদের স্থায়ী উন্নয়ন করা সম্ভব হয়।

4. জলসংরক্ষণ কী? এর গুরুত্ব আলােচনা করাে।

উত্তর : ভবিষ্যতে জলসংকট থেকে মুক্তি পেতে জলকে সংরক্ষণ করে রাখাই হল জলসংরক্ষণ। (i) দূষণ থেকে জলকে রক্ষা, (ii) জলের সুষম বণ্টন, (iii) ভৌম জলের যথাযথ ব্যবহার, (iv) জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, (v) জলসেচের আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার, (vi) বনভূমির বৃদ্ধির মাধ্যমে জলসংরক্ষণ করা যায়।

5. GAP কী?

উত্তর : গঙ্গার দূষণ প্রতিরােধে গঙ্গা অ্যাক্সন প্লান (GAP) গঠিত হয়। 1985 খ্রিস্টাব্দে “সেন্ট্রাল গঙ্গা অথরিটি’ নামে একটি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার অধীনে ‘GAP পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। যেসব শহরগুলি গঙ্গা দূষণের জন্য সর্বাধিক দায়ী সেখানে পরিকল্পনা মাফিক নিকাশি ব্যবস্থা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

6. Dvc কী?

উত্তর : 1948 সালে কেন্দ্রীয় সরকার, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, বিহার সরকারের উদ্যোগে দামােদর পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হয় ‘দামােদর ভ্যালি কর্পোরেশন। 1955 সালে এর কাজ শেষ হয়। বন্যা প্রতিরােধ, জলসেচের সুবিধা, কলকাতার নাব্যতা বৃদ্ধি ও অনান্য সমস্যা সমাধানে দামােদর পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]

1. দক্ষিণ ভারতে পশ্চিমবাহিনী নদী মােহানায় ব-দ্বীপ নেই কেন?

উত্তর : পশ্চিমবাহিনী নদী মােহনায় ব-দ্বীপ না গড়ে ওঠার কারণগুলি হল—(i) নদীগুলির দৈর্ঘ্যে ছােটো তাই পলি কম থাকে জলে। (ii) নদীগুলিতে জলের স্রোত বেশি থাকায় মােহানায় পলি সঞ্চিত হতে পারে না। (iii) নদীগুলির উপনদীর সংখ্যা কম থাকায় পলি বেশি থাকে না। (iv) মােহানা অংশে ভূমির ঢাল বেশি থাকায় পলি সঞ্চিত হতে পারে না। (v) সর্বোপরি আরব সাগর ও খাম্বত উপসাগর বেশ গভীর তাই তা পলি সঞ্চয়নের ক্ষেত্রে প্রতিকূল।

2. ব্রক্ষ্মপুত্র নদে প্রতিবছর বন্যা হয় কেন? অথবা, অসমে প্রতিবছর বন্যা হয় কেন?

উত্তর : ব্রম্মপুত্র নদের প্রভাবে অসমে প্রতিবছর বন্যার কারণগুলি হল—(i) পার্বত্য অঞ্চল থেকে আনা বস্তুর অসমের সমভূমির ওপর সঞ্চিত হয়ে নদীগর্ভ অগভীর করে তােলে, ফলে অতিরিক্ত জল বন্যার কারণ হয়। (i) বরফগলা জলে পুষ্ট হওয়ায় এবং বৃষ্টির জলে সমৃদ্ধ হওয়া এই নদে জল খুব বেশি, তাই উপত্যকা অঞ্চলে বর্ষার সময় অধিক জল বহন করতে না পেরে দুকূল ছাপিয়ে বন্যার সৃষ্টি করে।

3. দক্ষিণ ভারতে জলাশয়ের মাধ্যমে জলসেচ অধিক প্রচলিত কেন?

উত্তর : এর কারণগুলি হল—(i) কঠিন ও অপ্রবেশ্য শিলাস্তরের অবস্থানের জন্য দক্ষিণ ভারতে কূপ খনন করে জলসেচ করা অসুবিধাজনক। (ii) এখানকার ভূমিভাগ বন্ধুর ও তরঙ্গায়িত হওয়ায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নদীর উপর বাঁধ দিয়ে জলাশয় তৈরি করা সুবিধাজনক। (iii) বর্ষার জলে পুষ্ট হওয়ায় সারাবছর জলসেচ সম্ভব হয় না।

4. গঙ্গার উপনদীগুলির পরিচয় দাও।

উত্তর : (i) মধ্যগতিতে মিলিত হওয়া উপনদী : রামগঙ্গা, গােমতী, ঘর্ঘরা, গণ্ডক, বুড়িগণ্ডক, কোশি হল বামতীরের উপনদী। যমুনা ও শােন ডানতীরস্থ উপনদী। (i) নিম্নগতিতে মিলিত হওয়া উপনদী : বাঁশলই, ব্রাত্মণী, দ্বারকা, ময়ূরাক্ষী, অজয়, দামােদর, রূপনারায়ণ, কংসাবতী ও রসুলপুর হল ডানতীরস্থ উপনদী। জলঙ্গী, মাথাভাঙ্গা ও চূর্ণী হল গঙ্গার বামতীরস্থ উপনদী।

5. দামােদর পরিকল্পনার (DvC) সুবিধাগুলি আলােচনা করাে।

উত্তর : (i) বন্যারােধ : পশ্চিবঙ্গের দামােদর উপত্যকা অনেকটা অংশ বন্যামুক্ত হয়েছে। (i) বিদ্যুৎ উৎপাদন : 4টি বড়াে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং 11টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। (ii) জলসেচ : জলসেচ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে ফলে রবি ফসলের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। (iv) পরিবহন : দুর্গাপুর থেকে খাল কেটে কলকাতা যুক্ত করা হয়েছে। (v) মৃত্তিকা ক্ষয় রােধ সম্ভব হয়েছে। (vi) মাছ চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। (vi) নতুন বনভূমি স্থাপন হয়েছে। সার্বিকভাবে দামােদর অববাহিকা অঞ্চলের উন্নয়ন সাধন হয়েছে।

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – রচনাধর্মী উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]

1, গঙ্গা নদীর গতিপথের বিবরণ দাও।

উত্তর : তিনটি গতি স্পষ্ট বলে গঙ্গাকে আদর্শ নদী বলে। গঙ্গা নদীর মােট দৈর্ঘ্য 2510 কিমি, তবে ভারতে প্রবাহ পথ 2071 কিমি।

(a) উৎস : গঙ্গার উৎস হল উত্তরাখণ্ডের কুমায়ুন হিমালয়ের গােমুখ গুহার গঙ্গোত্রী হিমবাহ।

(b) প্রবাহ পথ : সর্বপ্রথম গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে ভাগীরথী নামে একটি সংকীর্ণ জলধারা গিরিখাতের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে দেবপ্রয়াগের নিকট অলকানন্দার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। মূলক পিন্ডার, মন্দাকিনি ও ধৌলিগঙ্গার মিলিত প্রবাহই হল অলকানন্দা। দেব প্রয়াগের পর ভাগীরথী ও অলকানন্দার মিলিত প্রবাহ গঙ্গা নামে পরিচিত।

(c) গতিপথ : (i) উচ্চগতি : উৎপত্তি স্থল বা দেবপ্রয়াগ থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত গঙ্গার উচ্চগতি। উৎস থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত গঙ্গার উচ্চগতি হল 280 কিমি।

(ii) মধ্যগতি : হরিদ্বার থেকে বিহারের রাজমহল পাহাড় পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পথ মধ্যগতির অন্তর্গত।

(iii) নিম্নগতি : রাজমহল থেকে মােহানা পর্যন্ত গতিপথ (520 কিমি) হল নিম্নগতি। মুরশিদাবাদের ভগবানগােলায় গঙ্গা দুটি শাখায় ভাগ হয়ে প্রধান শাখা পদ্মা নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং অপর শাখাটি প্রথমে ভাগীরথী এবং নবদ্বীপের পর হুগলি নাম নিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এই অংশে অজয়, দামােদর, ময়ুরাক্ষী প্রভৃতি ভাগীরথী ও হুগলির উপনদী।

ভারতের জলবায়ু

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-2]

1. মৌসুমি বিস্ফোরণ কী?

উত্তর : ভারতে গ্রীষ্মকালের শেষদিকে উত্তর পশ্চিমভাগে এক গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এর ফলে ভারতমহাসাগর থেকে আগত জলীয়বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। এই বায়ু আরবীয় ও বঙ্গোপসাগরীয় দুটি শাখায় বিভক্ত করে ভারতে প্রবেশ করে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। মৌসুমি বায়ুর আগমনজনিত হঠাৎ বৃষ্টিপাতের ঘটনাকে মৌসুমি বিস্ফোরণ বলে।

2. পশ্চিমী ঝঞা কী?

উত্তর : শীতকালে ভারতে স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত উত্তর পূর্ব মৌসুমি বায়ু জলীয়বাষ্পহীন থাকায় ভারতে তেমন বৃষ্টিপাত হয় না। এই সময় মাঝে মাঝে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ভুত ঘূর্ণবাত ভারতের উত্তর পশ্চিম অংশ দিয়ে প্রবেশ করে। ফলে উত্তরভারতে ঝড় ঝঞা হয়। এই পশ্চিমী নিম্নচাপ বিশিষ্ট ঘূর্ণবাত উত্তরভারতে শীতের শান্ত আবহাওয়াকে বিঘ্নিত করে বলে একে পশ্চিমী ঝঞ্চা বলে।

3. আবৃষ্টি বলতে কী বােঝাে?

উত্তর : দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক, কেরালা ও তামিলনাড়ুতে গ্রীষ্মকালে স্থানীয় নিম্নচাপের প্রভাবে যে, বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাত ঘটে, তাকে আবৃষ্টি বলে। এই বৃষ্টিপাতের ফলে দক্ষিণ ভারতে আমের ফলন ভালাে হয় বলে এই বৃষ্টিকে আবৃষ্টি বা Mango Shower বলে।

4. কালবৈশাখী কী?

উত্তর : গ্রীষ্মকালে প্রখর সূর্যকিরণে স্থলভাগ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এপ্রিল মে মাসে গ্রীষ্মকালে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও অসমের স্থলভাগের উয় বাতাস ও সমুদ্র থেকে আগত জলীয়বাষ্পপূর্ণ শীতল বাতাসের সংঘর্ষে ফলে বিকেলে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় বৃষ্টি হয়, যা কালবৈশাখী নামে পরিচিত।

5. মৌসুমি বায়ুর বিরতি বা ছেদ বলতে কী বােঝাে?

উত্তর : মৌসুমি বায়ুর নিষ্ক্রিয় অবস্থায় এই বায়ুর গতিবেগ, গভীরতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত কমে যায়। এই সময় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত অবিরাম না হয়ে সাময়িক বিরতি দেখা যায়। বৃষ্টিহীন এই অবস্থাকে মৌসুমী বায়ুর ছেদ বলে। এই বিরতি 3-10 দিন থাকে।

6. বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল কাকে বলে?

উত্তর : জলীয়বাষ্পপূর্ণ আর্দ্রবায়ু পর্বতের প্রতিবাত ঢালে বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে যখন পর্বতের বিপরীত ঢালে বা অনুবাত ঢালে এসে পৌঁছায় তখন জলীয়বাষ্পের অভাবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হ্রাস পায়। অনুবাত ঢালে অবস্থিত বৃষ্টিহীন বিস্তীর্ণ অঞ্চলটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল নামে পরিচিত। উদাহরণ—ভারতের শিলং একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল।

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]

1. লু কী?

উত্তর : গ্রীষ্মকালে ভারতের উত্তর পশ্চিমে রাজস্থান, গুজরাত, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ প্রভৃতি স্থানে ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরালে যে উয় ও শুদ্ধ বায়ু পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়, তাকে স্থানীয় ভাষায় ‘লু’ বলে। এটি অত্যন্ত উম্ন বায়ু (40°C – 50°C)।‘লু’-র প্রভাবে মানুষ ও গবাদি পশু মারা যায়।

2. ‘আঁধি’ কাকে বলে?

উত্তর : গ্রীষ্মকালে রাজস্থানের মরুভূমি অঞলে যে প্রবল ধূলিঝড়ের সৃষ্টি হয়, তাকেই স্থানীয় ভাষায়, আঁধি বলা হয়। আঁধির গতিবেগ 50-60 কিমি/ঘন্টা। মেঘের সার ঘটে না বলে এই ঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টি হয় না। তাই প্রবল ধুলাে ওড়ে। তবে এই ঝড়ের প্রভাবে উয়তা কিছুটা কমে।

3. ‘আশ্বিনের ঝড়’ কাকে বলে?

উত্তর : প্রত্যাগমনকারী মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে সামুদ্রিক বায়ুর সংঘর্ষে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরীয় উপকূলের রাজ্যগুলিতে প্রবল ঝড় বৃষ্টি হয়। একে সাইক্লোন বলে। পশ্চিমবঙ্গে এই ঝড় যেহেতু আশ্বিন মানে দেখা যায়, তাই তা আশ্বিনের ঝড় নামে পরিচিত।

4. তামিলনাড়ু (করমণ্ডল) উপকূলে বছরে দুবার বর্ষাকাল হয় কেন?

উত্তর : তামিলনাড়ু উপকূলে মৌসুমি বায়ুর আগমনের সময় জুন মাসে বৃষ্টি হয়, আবার অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে উঃ পূঃ ভারত থেকে প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় জলীয়বাষ্প সংগ্রহ করে ফেরেল সূত্রানুসারে ডানদিকে বেঁকে করমণ্ডল উপকুলে প্রবেশ করে এবং পূর্বঘাটে বাধা পেয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

5. ভারতে খরার কারণগুলি আলােচনা করাে।

উত্তর : (i) বিলম্বিত আগমন : দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু নির্ধারিত সময়ের পরে ভারতীয় ভূখণ্ডে এলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে খরার সৃষ্টি করে।

(ii) অগ্রিম প্রত্যাবর্তন : দঃ পঃ মৌসুমি বায়ু নির্ধারিত সময়ের আগে ফিরে গেলে বৃষ্টিপাত কম হবার দরুন খরা হয়।

(iii) বৃষ্টিপাতের সাময়িক বিরতি : কোনাে কোনাে বছর বর্ষাকালের মাঝে দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত হয় না, ফলে খরার প্রাদুর্ভাব লক্ষ করা যায়।

(iv) পরিবেশ দূষণ : পরিবেশ দূষিত হলে বায়ুমণ্ডলের গড় উষ্মতা বেড়ে যায় এবং জলীয়বাষ্প ঘনীভূত না হলে বৃষ্টিপাত হয় না। ফলে খরা হয়।

6. ভারতে প্রায়ই বন্যা হয় কেন?

উত্তর : (i) অগ্রিম আগমন : নির্ধারিত সময়ের বহু পূর্বে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন ঘটলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত বন্যার সৃষ্টি করে।

(ii) বিরামহীন বৃষ্টি : বছরে কোনাে কোনাে সময় বিরামহীন বৃষ্টি বন্যার কারণ হয়।

(iii) বর্ষাকালের অধিক স্থায়ীত্ব : বর্ষাকালের স্থায়ীত্ব বেশি হলে ভারি বর্ষণের ফলে বন্যা দেখা দেয়।

(iv) নিম্নচাপের স্থায়ীত্ব : দীর্ঘক্ষণ নিম্নচাপ অবস্থান করলে ভারী বৃষ্টি বন্যার কারণ।

(v) নদীর গভীরতা হ্রাস : নদীর গভীরতা হ্রাসের ফলে অধিক বৃষ্টিতে দুকূল ছাপিয়ে বন্যা হয়।

7. ভারতে শীতকাল শুল্ক কেন?

উত্তর : (i) উয়তার অবনমন : 22 ডিসেম্বর তারিখে সূর্য দক্ষিণ গােলার্ধে মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় উত্তর গােলার্ধে উয়তার অবনমন ঘটে।

(ii) উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর আগমন : এশিয়ার উত্তরাংশে সাইবেরিয়া অংশ থেকে আগত শুষ্ক ও শীতল মৌসুমি বায়ু স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জলীয়বাষ্পের পরিমান অনেক কম থাকে। এই কারণে শীতকাল বৃষ্টিহীন ও শুষ্ক প্রকৃতির হয়।

৪. মনেক্স (Monex) কী?

উত্তর : Monex হল Monsoon Experiment বা মৌসুমি গবেষণা। বিশ্ব বায়ুমণ্ডল গবেষণা প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে মৌসুমি জলবায়ু গবেষণার যে বিশেষ কার্যক্রম স্থির করা হয়, তাকে Monex বলে।

9. থর মরুভূমির সৃষ্টির কারণ কী?

উত্তর : দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরব সাগরীয় শাখাটি খাম্বা উপসাগরের ওপর দিয়ে কাথিয়াবাড় হয়ে গুজরাত ও পশ্চিম রাজস্থানে প্রবেশ করলেও মৌসুমি বায়ুকে প্রতিহত করার মতাে কোনাে উচ্চভূমি না থাকায় বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলার ফলে অনাবৃষ্টির কারণে ভারতে পশ্চিমে রাজস্থানের পশ্চিমাংশে থর মরুভূমির সৃষ্টি হয়েছে। এই অঞলে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ 20 cm এর কম।

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর :[প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]

1. ভারতের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব আলােচনা করাে।

উত্তর : ভারতের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অপরিসীম। তাই ভারতকে মৌসুমি জলবায়ুর দেশ বলা হয়। এর প্রভাবগুলি নীচে আলােচনা করা হল।

(a) আর্দ্র পরিবর্তন ও শুষ্ক শীতকাল : ভারতে গ্রীষ্মকালে আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌমুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং শীতকাল উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শুষ্ক থাকে।

(b) ঋতু পরিবর্তন : মৌসুমি বায়ুর আগমণ ও প্রত্যাগমন-এর ওপর নির্ভর করে। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীত প্রশ্ন চারটি ঋতু চক্রাকারে আবর্তিত হয়।

(C) বৃষ্টিপাত : মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারতে 90% বৃষ্টিপাত হয়।

(d) উয়তা : দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমণে গ্রীষ্মকালের শেষে বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে উয়তা কিছুটা হ্রাস করে। ও উত্তপূর্ব মৌসুমি বায়ুর ফলে শীতের প্রভাব বৃদ্ধি পায়।

(e) প্রাকৃতিক দুর্যোগ : মৌসুমি বায়ুর অনিয়মিত ও অনিশ্চয়তার জন্য অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির কারণে কোথাও বন্যা আবার কোথাও খরা সৃষ্টি হয়।

(f) ঘূর্ণাবাত সৃষ্টি : শরৎকালে মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাগমণের সময় এবং সমুদ্রবায়ুর সংঘর্ষে বঙ্গোপসাগরে বা আরবসাগরে ঘূর্ণবাত সৃষ্টি হয়।

(g) বৃষ্টিপাতের অসমবন্টন : মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পশ্চিম উপকূল, উত্তর পূর্ব ভারত, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ প্রভৃতি স্থানে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটে। অপরদিকে রাজস্থানের মরু অঞ্চল ও পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্বটালে বৃষ্টিচ্ছায় অল স্থানে বৃষ্টির পরিমাণ কম। তাই মৌসুমি বায়ুর প্রভাব ভারতের জলবায়ুতে বৃষ্টিপাতে অসমবণ্টন লক্ষ করা যায়।

ভারতের মৃত্তিকা

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-2]

1. ‘রেগুর’ কী?

উত্তর : ভারতের মধ্য প্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের পশ্চিমাংশ এবং গুজরাত, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশ তথা উপদ্বীপীয় মালভূমির ডেকানট্রাপ অঞ্চলে ব্যাসল্ট শিলা থেকে উদ্ভূত যে কালাে বর্ণের মৃত্তিকা দেখা যায়, তাকে কৃয় মৃত্তিকা বা রেগুর বলে। বিভিন্ন খনিজ সমৃদ্ধ এই মৃত্তিকা খুব উর্বর।

2. ব্যাডল্যান্ড’ কী?

উত্তর : অত্যধিক খাতক্ষয়ের ফলে ভূমিভাগ এবড়ােখেবড়াে হয়ে যায়। এর ফলে ভূমিভাগ কৃষিকাজের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। এই ধরনের কৃষিকাজে অনুপযুক্ত বন্ধুর ভূ-ভাগকে ব্যাডল্যান্ড বলে। মধ্যপ্রদেশের বদভূমি অঞ্চলে ব্যাডল্যান্ডের আধিক্য দেখা যায়।

3. ‘রাঙাইন ক্ষয় কী?

উত্তর : জলনালিকা ও খেয়াই আরও গভীরভাবে ক্ষয় পাবার ফলে তা গভীর খাড়া পাড়যুক্ত খাত তৈরি করে। এটি হল র্যাভাইন ক্ষয়। এর মাধ্যমে মাটি ক্ষয় খুব বেশি পরিমাণে ঘটে।

4, ‘ভর’ কী?

উত্তর : গাঙ্গেয় সমভূমির নিম্ন অঞ্চলে (বিশেষত উত্তর প্রদেশ রাজ্যে পশ্চিমাংশের দোয়াব অঞ্চলে) কলি মিশ্রিত অতিসুক্ষ্ম মৃত্তিকা গঠিত তরঙ্গায়িত উচ্চভূমি দেখা যায়। যা ‘ভুর” নামে পরিচিত।

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]

1. ঝুমচাষ মৃত্তিকা ক্ষয়কে কীভাবে তরান্বিত করে?

উত্তর : ভারতের উত্তর-পূর্ব পাহাড়ি অঞ্চলের আদিম সম্প্রদায় ঝুমচাষ প্রথায় কৃষিকাজ করে থাকে। এটি একটি আদিম ও অবৈজ্ঞানিক কৃষি পদ্ধতি। এক্ষেত্রে বনজঙ্গল কেটে, পুড়িয়ে সাফ করে কয়েকবছর পর চাষ করে যখন ওই স্থানের মাটির উর্বরতা কমে যায় তখন ওই স্থানকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে অন্যত্র গিয়ে এই পদ্ধতি চাষ করা শুরু করে। এর ফলে সমস্ত অঞ্চলটি প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষভাবে ভূমিক্ষয়ের কবলে পড়ে।

2. সমােন্নতি চাষ কাকে বলে?

উত্তর : সমােন্নতিরেখা বরাবর বাঁধ দিয়ে জলের গতিকে বাধা দিয়ে আটকে দিলে মৃত্তিকা ক্ষয়রােধ করার জন্য কৃষিকাজ করা হয় এবং গাছ লাগানাে হয়। এবং আটকে রাখা জলের সাহায্যে জলসেচও করা হয়। যথােন্নতি রেখা বরাবর এই কৃষিকাজকে বলে সমােন্নতি চাষ।

3. কৃয় মৃত্তিকা সম্পর্কে লেখাে।

উত্তর : ভারতের উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চলে ব্যাসল্ট শিলাদ্বারা গঠিত টাইটানিয়াম অক্সাইড ও জৈব যৌগ সমৃদ্ধ মৃত্তিকাকে কৃয় মৃত্তিকা বলে। এই মাটির রং কালাে। কৃয় মৃত্তিকা বা রেগুর তুলা চাষের পক্ষে বিশেষ উপযােগী। পলি ও কাদার ভাগ (50%-80%) বেশি থাকায় গ্রহণ মাঝারি বলে জলধারণ ক্ষমতা খুব বেশি। বিভিন্ন খজিন সমৃদ্ধ যেমন—অ্যালুমিনা, চুন, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রণ অক্সাইড থাকায় মাটি খুব উর্বর।

4. কারেওয়া কী?

উত্তর : বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাচীন কোনাে হ্রদ ভরাট হয়ে কাশ্মীর উপত্যকার সৃষ্টি হয়েছে। এই উপত্যকার মধ্য দিয়ে ঝিলাম নদী প্রবাহিত হয়েছে এবং প্রায় সমতল উপত্যকার ধাপযুক্ত ভূমিভাগ বা কারেওয়া কৃষিকাজের জন্য বিখ্যাত।

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – রচনাধর্মী উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]

1. মৃত্তিকা সংরক্ষণের পদ্ধতিগুলি আলােচনা করাে।

উত্তর : ভূমি বা মৃত্তিকা ক্ষয়ের কারণ অনুসন্ধান করে বিজ্ঞানসম্মত সমাধান করাই হল মৃত্তিকা ক্ষয় বা ভূমিক্ষয় রােধের যথাযথ পন্থা। নিম্নে আলােচনা করা হলাে।

(a) যান্ত্রিক পদ্ধতি : (i) ঢালু জমিতে বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়ােজনীয়। (ii) সমােন্নতি রেখা ভিত্তিক বাঁধ নির্মাণ দরকার। (iii) উঁচু-নীচু, ভূ-ভাগের সমতলীকরণ প্রয়ােজন।

(b) জৈবিক পদ্ধতি : (i) ঢালু জমিতে তৃণভূমি তৈরী। (ii) মরুভূমি প্রসার রােধে বায়ু প্রবাহের দিকে অরণ্য সৃষ্টি। (iii) শস্যাবর্তন পদ্ধতির ব্যবহার মৃত্তিকা ক্ষয়ের রােধে সাহায্য করে। (iv) পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়ােজন। (v) সামাজিক বণসৃজন এবং বনমহােৎসব পালনের মাধ্যমে মৃত্তিকা রােধের ব্যবস্থা।

(c) বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি : (i) স্থানান্তর কৃষি বা ঝুম চাষের বিলােপসাধন অত্যাবশকীয়। (ii) পার্বত্য বা উচ্চভূমি অংশে ধাপ বা সােপান কৃষির প্রচলন। (iii) স্বল্পোন্নত ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রয়ােগ। (iv) সরকারি উদ্যোগে গবেষণাকেন্দ্র (দেরাদুন, আগ্রা, যােধপুর) স্থাপন। (v) প্রচার মাধ্যম দ্বারা জনসচেতনতার বৃদ্ধি।
ভূ-বিজ্ঞানী বিনেটের মতে সর্বোচ্চ বা জাতীয় স্তরে ভূমি সংরক্ষণের জন্য কৃষিজমির বৈজ্ঞানিক ব্যবহার ও উপযুক্ত ভূমি ব্যবহার বিধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদ

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-2]

1. সামাজিক বনসৃজন বলতে কী বােঝাে?

উত্তর : কৃষি ও সামাজিক পদ্ধতিতে গাছের চারা রােপণ করে নতুন বনভূমি সৃষ্টি করা হয়, তাকে সামাজিক বনসৃজন বলে। এর ফলে স্থানীয় বন সম্পদের জোগান বজায় রাখা যায় এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। গ্রামের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহায়ক।

2. কৃষি বনসৃজন কাকে বলে ?

উত্তর : বিজ্ঞানী ফোলে ও বানার্ড-এর মতে, কৃষক তার কৃষিজমি বা পতিত জমিতে ফসল উৎপাদনের সঙ্গে কাঠ, ভেষজ ওষুধ, ফলমূল ইত্যাদি উৎপাদনের জন্য গাছ ও লতা গুল্ম রােপন করে যে বনভূমি গড়ে তােলে, তাকে কৃষি বনসৃজন বলে।

3. সিলভিকালচার কী?

উত্তর : পার্বত্য অঞ্চলে বাণিজ্যিক হারে কাঠের সরবরাহ বর্জ্য রাখার জন্য যখন বিশাল অঞ্চল জুড়ে বনভূমি তৈরি করা হয়। তাকেই সিলভিকালচার বলে।

ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]

1. যৌথ বন ব্যবস্থাপনা (Joint Forest Management বা JFM) কী ?

উত্তর : বনসৃজন এবং বনভূমির সংরক্ষণের জন্য রাজ্যের বন দফতর ও স্থানীয় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণকে যৌথ বন ব্যবস্থাপনা বলে। এই প্রকল্প অনুসারে অরণ্যের আদিবাসীরা অরণ্যকে পশুচারণ ও দাবানলের হাত থেকে রক্ষা করেন, তবে বনভূমির জমি স্থানান্তরের অধিকার তাদের নেই। পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার আড়াআড়ি গ্রামে প্রথম যৌথ বন ব্যবস্থাপনা রূপায়িত করা হয়।

2. সামাজিক বনসৃজন এবং কৃষি বনসৃজনের পার্থক্যগুলি লেখাে।

উত্তর : সামাজিক বনসৃজন এবং কৃষি বনসৃজনের মধ্যে পার্থক্য –

ভারতের কৃষি

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-2]

1. শস্যাবর্তন কাকে বলে?

উত্তর : কৃষি ব্যবস্থায় একই জমিতে বছরের বিভিন্ন সময় অথবা বিভিন্ন বছরে ভিন্ন প্রকার কৃষি ফসল উৎপন্ন করে জমির সাধারণ উর্বরতা শক্তি বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়, তাকে শস্যাবর্তন বলে

2. জায়িদ শস্য কী?

উত্তর : শীতের শেষে ও গ্রীষ্মের শুরুতে যে ফসল চাষ করা হয় এবং বর্ষার পূর্বে ফসল কাটা হয়, তাকে জায়িদ শষ্য বলে। যেমন—শশা, তরমুজ ইত্যাদি।

3. বাগিচা কৃষি কী?

উত্তর : পৃথিবীর ক্রান্তীয় ও উপক্ৰান্তীয় অঞ্চলের বিশেষ কতকগুলি স্থানে উপযুক্ত ভূ-প্রকৃতি, মৃত্তিকা ও জলবায়ুর ওপর নির্ভর করে ছােটো, বড়াে ও মাঝারি বাগান তৈরি করে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে যে কৃষিকার্য করা হয়, তাকে বাগিচা কৃষি বলে। উদাহরণ—চা ও কফি হল বাগিচা ফসল। রপ্তানি বা বাণিজ্যের জন্যই এই প্রকার কৃষিকার্য করা হয়।

4. অর্থকরী ফসল কাকে বলে?

উত্তর : নিজ বা পরিবারের ব্যবহারের জন্য নয়, বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে যে ফসল উৎপাদন করা হয় তা হল অর্থকরী ফসল। যেমন—পাট, আখ, কার্পাস ইত্যাদি।

5. চা-এর শ্রেণিগুলি লেখাে।

উত্তর : চা হল ক্যাফিনযুক্ত মাদক বর্জিত মৃদু উত্তেজক পানীয়। বিভিন্ন ধরনের চাগুলি হল : (i) কালাে সেঁকা চা—ভারতে এটি জনপ্রিয়। (ii) সবুজ চা-চিনে জনপ্রিয়, (iii) ইস্টক চা-রাশিয়ায় জনপ্রিয়। (iv) ওলং চা—তাইওয়ানে জনপ্রিয়।

6, টেন’ কী?

উত্তর : প্রথমবার আখ কাটার পর আখের যে চারা জন্মায়, তাকে বলা হয় রেটুন। আখ ভারতে রেটুন হিসাবে প্রধানত উৎপন্ন হয়।

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]

1. ভারতের পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় কৃষি তথা গম চাযের উন্নতির কারণগুলি লেখাে।

উত্তর : এই অঞ্চলে কৃষি তথা গম চাষের উন্নতির কারণগুলি লেখাে-
      (i) বিস্তীর্ণ সমভূমি ও উর্বর মৃত্তিকা : সিন্ধুনদের পাঁচটি উপনদী বিধৌত বিস্তীর্ণ সমভূমি এবং উর্বর পলিমাটি কৃষির উন্নতির অন্যতম কারণ।
      (ii) ভাকরা-নাঙ্গল প্রকল্প : এই প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমানে 14.6 লক্ষ হেক্টর। জমিতে জলসেচ সম্ভবপর হয়েছে।
      (iii) উচ্চ ফলনশীল বীজের ব্যবহার : উচ্চ ফলনশীল গমবীজ, যেমন- সােনারা-64, কল্যাণ সােনা ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।
      (iv) আধুনিক কৃষি পদ্ধতি : আধুনিক কৃষি পদ্ধতির সাথে রাসায়নিক সার এবং কীটনাশকের ব্যবহার করা হয়। সুলভ শ্রমিকের অভাব হয় না।
      (v) চাহিদা : মানুষের খাদ্য হিসাবে গমের ব্যবহার হওয়ায় বিপুল চাহিদা এই অঞ্চলে।

2. ভারতীয় কৃষির সমস্যাগুলি আলােচনা করাে।

উত্তর : ভারতের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় কৃষি পদ্ধতি বর্তমানে প্রাচীন ও অনুন্নত। ভারতীয় কৃষি সমস্যাগুলি হল—(i) যথাসময়ে জলের অভাব, জমির উর্বরতা শক্তির অভাবে হেক্টর প্রতি উৎপাদন কম। (ii) ভারতের কৃষি জোতগুলি আয়তনে ক্ষুদ্র ও অখণ্ডিত কৃষি-জোত। (iii) প্রাকৃতিক দুর্যোগ। (iv) কৃষিতে প্রাচীন পদ্ধতির প্রচলন। (v) যথেচ্ছ বনভূমি ধ্বংসের ফলে ভূমিক্ষয় অধিক। (vi) সীমিত জলসেচ। (vii) সর্বোপরি ভারতীয় কৃষকদের শিক্ষার অভাব থাকায় বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করা সম্ভবপর হচ্ছে না।

3. দক্ষিণ ভারতে কফি চাষের উন্নতির কারণ কী?

উত্তর : দক্ষিণ ভারতের কেরালা, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু রাজ্যের পার্বত্য অঞ্চলে কফি চাষ উন্নতিলাভ করেছে। কারণ—(i) দক্ষিণ ভারতের গড় উয়তা (18°-28°C) কফি চাষের আদর্শ। (ii) 140-200 cm বৃষ্টি হয় যা কফি চাশের ক্ষেত্রে উপযােগী। (iii) দক্ষিণ ভারতের মাটি লােহা, পটাশ, নাইট্রোজেন ও হিউমাস সমৃদ্ধ হওয়ায় কফি চাষ ভালাে হয়। (iv) কফি চাষের অনুকুল ভূ-প্রকৃতি দক্ষিণ ভারতে বিদ্যমান। (v) তুষারপাত না হওয়ায় দক্ষিণ ভারত কফি চাষের আদর্শ অঞ্চল।

4. সবুজ বিপ্লবের সুফলগুলি কী কী?

উত্তর : কৃষি বিজ্ঞানী নরম্যান বােরলােগ ও ভারতীয় কৃষিবিজ্ঞানীদের সহায়তায় কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি সবুজ বিপ্লব নামে পরিচিত। সবুজ বিপ্লবের ফলে (i) শস্য উৎপাদন বিশেষত গমের উৎপাদনে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। (ii) শস্যাবর্তন পদ্ধতির প্রয়ােগে শুরু হয়। (iii) নতুন করে ভারতীয় কৃষির ভিত্তি স্থাপন হয়। (iv) উন্নতসার, কীটনাশক প্রয়ােগে হেক্টর প্রতি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। (v) ভূমি সংস্কার ও পরিকাঠামােগত উন্নতি সাধন হয়।

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – রচনাধর্মী উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর :[প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]

1. চা-চাযের অনুকূল পরিবেশ বর্ণনা করাে।

উত্তর : চাষের অনুকূল পরিবেশ নিয়ে আলােচনা করা হল-

   A. প্রাকৃতিক অবস্থা :
      (i) উয়তা : গড়ে 21°c-27°C উয়তা ও রৌদ্রকরােজ্জ্বল আবহাওয়ার প্রয়ােজন।
      (ii) বৃষ্টিপাত : প্রতিমাসের নিয়মিত বৃষ্টিপাত উপযােগী। বার্ষিক 200cm-250cm বৃষ্টিপাত প্রয়ােজন।
      (iii) মৃত্তিকা : লৌহমিশ্রিত উর্বর দোঁয়াশ মাটি এবং অধিক জৈবপদার্থ সমৃদ্ধ পার্বত্য মৃত্তিকা বিশেষ উপযােগী।
      (iv) ভূমির প্রকৃতি : চা গাছের গােড়ায় জল দাঁড়ানাে ক্ষতিকর, তাই চা বাগিচার জন্য ঢালু জমির প্রয়ােজন।
      (v) তুষারপাত : কিছুটা তুষারপাত সহ্য করতে পারলেও অধিক তুষারপাত চা গাছ সহ্য করতে পারে না।
      (vi) ছায়া-প্রদানকারী বৃক্ষ : প্রখর সূর্যকিরণ চা গাছের জন্য ক্ষতিকারক। তাই চা বাগিচার মাঝে মাঝে ছায়া প্রদানকারী গাছ লাগানাে দরকার।
   B. অ-প্রাকৃতিক বা অর্থনৈতিক পরিবেশ :
      (i) শ্রমিক : চা বাগিচা থেকে পাতা ও কুঁড়ি সংগ্রহ, ডাল ছাঁটা প্রভৃতি কাজের জন্য প্রচুর শ্রমিকের প্রয়ােজন। মহিলা শ্রমিক বেশি দরকার।
      (ii) মূলধন : সমস্ত কিছু ব্যবস্থাপনার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে মূলধন আবশ্যক।
      (iii) পরিবহণ : অন্তর্দেশীয় বাজার ও রপ্তানিকারী বন্দরগুলির সাথে যােগাযােগের জন্য উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা দরকার।
      (iv) চাহিদা : সর্বোপরি মৃদু উত্তেজক পানীয় রূপে অভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চায়ের ব্যাপক চাহিদা বা বাজারে চা চাষকে প্রভাবিত করে।

2. ইক্ষু চাষের অনুকূল অবস্থাগুলি বর্ণনা করাে।

উত্তর : ইক্ষু চাষের অনুকূল অবস্থা নিয়ে আলােচনা করা হলাে-

   A. প্রাকৃতিক অবস্থা :
      (i) উয়তা : ইক্ষু উয়ুমণ্ডলের ফসল হওয়ায়, ইক্ষু চাষে গড় মাসিক 21°c-27°c উয়তা প্রয়ােজন হয়।
      (ii) বৃষ্টিপাত : ইক্ষু উৎপাদনের জন্য বার্ষিক 125-200 সেমি বৃষ্টিপাতের প্রয়ােজন হয়।
      (iii) মৃত্তিকা : ইক্ষু চাষের জন্য চুন ও লবণমিশ্রিত উর্বর দোঁয়াশ মাটি আদর্শ। এই কারণে সমুদ্র তীরবর্তী স্থানে ইক্ষুর চাষ ভালাে হয়।
      (iv) ভূমির প্রকৃতি : সামান্য ঢালযুক্ত সমতলভুমিই ইক্ষু চাষের পক্ষে ভালাে।
      (v) তুহিন ও কুয়াশা : তুহিন ও কুয়াশা দুইই ইক্ষু চাষের পক্ষে ক্ষতিকর। ভারত ক্রান্তীয় মণ্ডলের অন্তর্গত হওয়ায় এখানকার সমভূমি অঞ্চলে তুষারপাত হয়
   B. অ-প্রাকৃতিক বা অর্থনৈতিক পরিবেশ :
      (i) শ্রমিক : ইক্ষু চারারােপণ, পরিচর্যা, ফসল কাটার জন্য পর্যাপ্ত সুলভ শ্রমিকের প্রয়ােজন হয়। এই কারণে ঘন বসতিপূর্ণ অল ইক্ষু চাষের সহায়ক পরিবেশ।
      (ii) মূলধন : ইক্ষু চাষের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে মূলধনের প্রয়ােজন।
      (iii) পরিবহণ : ইক্ষু উৎপাদক অঞ্চলে সুনদ্র পরিবহণ ব্যবস্থার প্রয়ােজন কারণ ইক্ষু কাটার 24 ঘণ্টার মধ্যে তা থেকে রস নিষ্কাশ না করলে রসের পরিমাণ হ্রাস পায়। এই কারণেই ইক্ষু কলগুলি উৎপাদন ক্ষেত্রের নিকটেই গড়ে ওঠে।
      (iv) বাজার বা চাহিদা : ইক্ষু গুদামজাত করে রাখা যায় না। ভাটার একদিন পর থেকেই এর রসের পরিমাণ কমতে থাকে। এই কারণে ইক্ষুর জন্য পর্যাপ্ত নির্ভরযােগ্য বাজার থাকার প্রয়ােজন।

ভারতের শিল্প

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-2]

1. অনুসারী শিল্প কাকে বলে?

উত্তর : বৃহদায়তন শিল্পে উৎপাদিত দ্রব্যকে কাচামাল রূপে ব্যবহার করে যে-সব ক্ষুদ্র আয়তন শিল্প গড়ে ওঠে তাদের অনুসারী বা Downstream Industry বলে। উদাহরণ : পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে উৎপাদিত প্লাস্টিক বা PVC কে ব্যবহার করে মগ, বালতি, চেয়ার, টেবিল ইত্যাদি তৈরি করা হয়।

2. পূর্ত শিল্প কাকে বলে? অথবা, ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প বলতে কী বােঝাে?

উত্তর : ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, দস্তা প্রভৃতি ধাতব পদার্থ এবং রবার, প্লাস্টিক, কাঠ প্রভৃতি পদার্থকে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করে উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে যে শিল্পে নানা ভারি ও হালকা যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করা হয় তাকে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প বলে। পূর্ত শিল্প হল যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ নির্মাণ শিল্প।।

3. সহায়ক (Ancillary Industry) শিল্প বলতে কী বােঝাে?

উত্তর : যে সমস্ত ছােটো ছােটো শিল্প অন্য কোনাে বড়াে শিল্পকে তাদের প্রয়ােজনীয় কাঁচামাল হিসাবে নিজেদের উৎপাদিত পণ্যের জোগান দেয়, সেই সমস্ত ছােটো শিল্পকে সহায়ক শিল্প বলে। উদাহরণ—মােটর গাড়ি নির্মাণ শিল্পের সহায়ক শিল্প হল কাচ, কাঠ, ব্যাটারি, টায়ার, টিউব শিল্প ইত্যাদি।

4. দুর্গাপুরকে কেন ‘ভারতের রূঢ় বলা হয় ?

উত্তর : বুঢ় যেমন পশ্চিম জার্মানির বিখ্যাত লৌহ ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র তেমনি দুর্গাপুর পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষের বিখ্যাত লৌহ-ইস্পাতকেন্দ্র। রূঢ় শিল্পাঞ্চলের ওয়েস্টফেলিয়া খনির বিটুমিনাস কয়লা, আয়ারল্যান্ডের লৌহ আকরিক ব্যবহৃত হয়। তেমন দুর্গাপুরে রানিগঞ্জের কয়লা, নােয়ামুন্ডি ও বাদাম পাহাড়ের লৌহ আকরিক ব্যবহৃত হয়। উক্ত সাদৃশ্যের কারণে দুর্গাপুরকে ভারতের রূঢ় বলা হয়।

5. পণ্যসূচক কাকে বলে?

উত্তর : বিশুদ্ধ ও অবিশুদ্ধ কাঁচামাল দিয়ে পণ্যসুচক নির্ধারিত হয়। শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল এবং উৎপাদিত দ্রব্যের অনুপাত হল পণ্যসূচক। এর মান যদি 1 হয় তাহলে বুঝতে হবে বিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল ব্যবহূত হয়েছে। এবং 1 এর বেশি হলে অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়।

6. আউট সাের্সিং বলতে কী বােঝাে?

উত্তর : মানের উন্নতি, দক্ষতা বৃদ্ধি, খরচ কম, দ্রুত কাজ সম্পন্ন ইত্যাদি কারণে কোনাে একটি সংস্থা বাইরের অন্য কোনাে সংস্থার মাধ্যমে কাজ করিয়ে নেয় তা হল আউট সাের্সিং (Outsourcing) । এবং এই কাজ যখন অন্য দেশ থেকে করিয়ে নেওয়া হয় তখন তা ‘অফ সাের্সিং (off-Sourcing)।

7. মােটর গাড়ি বা অটোমাবাইল শিল্প কাকে বলে?

উত্তর : বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য উপকরণ, যেমন—টায়ার, টিউব, প্লাস্টিক, গ্লাস, ফোম ইলেকট্রিক তার ইত্যাদি সংযােজনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নির্মাণ শিল্পকে অটোমােবাইল শিল্প বলে। বিভিন্ন ধরনের অসংখ্য দ্রব্য সযােজনের মাধ্যমে মােটর গাড়ি নির্মিত হয় বলে মােটরগাড়ি নির্মাণ শিল্পকে সংযােজনভিত্তিক শিল্প বলে।

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]

1. পেট্রোরসায়ন শিল্পকে উদীয়মান শিল্প বলা হয় কেন?

উত্তর : কারণ—(i) তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা কালে 1966 সালে এই শিল্পের সূত্রপাত হয়। সর্বসাকুল্যে এর বয়স 43 বছর হলেও এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উজ্জ্বল। (ii) এই শিল্পের অগ্রগতি অতি দ্রুত হচ্ছে এবং শিল্পগুচ্ছের আকারে গড়ে উঠেছে। (iii) পেট্রোরসায়ন শিল্পের ওপর নির্ভর করে ভারতে বহু বৃহদায়তন শিল্পের বিকাশ হয়েছে। (iv) এই শিল্পের কাঁচামাল অন্যান্য শিল্পের ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সহযােগী শিল্পের বিকাশ ঘটেছে।

2. TISCO কী?

উত্তর : 1907 খ্রিস্টাব্দের 25 আগস্ট ভারতের জামশেদপুরে জামশেদজি টাটার উদ্যোগে TISCO বা Tata Iron and Steel Company স্থাপিত হয়। ঝাড়খণ্ডের সিংভূম জেলার জামশেদপুরে সুবর্ণরেখা ও খরকাই নদীর সংগমস্থলে এই বেসরকারি কারখানাটি স্থাপিত হয়। এটি লৌহ ও কয়লাখনির মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – রচনাধর্মী উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]

1. পশ্চিমভারতে পেট্রোরাসায়নিক শিল্পের কেন্দ্রীভবনের কারণগুলি আলােচনা করাে।

উত্তর : ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে পেট্রোরাসায়নিক শিল্পের কারণগুলি হল—
      (i) খনিজ তেলের প্রাচুর্য : বােম্বে হাই, আলিয়াবেত, বাসিন, কাম্বে প্রভৃতি অঞ্চল। থেকে খনিজতেল পাওয়া যায়। যা এই শিল্পের প্রধান কাচামাল হিসাবে ব্যবহৃত।
      (ii) খনিজতেল শােধনাগারের অবস্থান : গুজরাতের জামনগর ও কয়ালি এবং মহারাষ্ট্রের ট্রম্বেতে খনিজ তৈল শােধনাগারের অবস্থান।
      (iii) বন্দরের সুবিধা : মুম্বাই, কান্ডালা, নবসেবা, সুরাত, পােরবন্দর দিয়ে অপরিশােধিত খনিজ তেল, পলিমার ও যন্ত্রপাতি আমদানি ও উৎপাদিত শিল্পদ্রব্য রপ্তানির সুবিধা রয়েছে।
      (iv) পর্যাপ্ত জল : নর্মদা, তাপ্তী, মাহী, সবরমতী নদী থেকে পর্যাপ্ত জলের সুবিধা।
      (v) বাজার : মুম্বাই, পুনে, আমেদাবাদ, ভাদোদরা প্রভৃতি অঞ্চলে অসংখ্য অনুসারী শিল্প গড়ে ওঠায় উৎপাদিত পণ্য যেমন বস্ত্র, ওষুধ, প্লাস্টিক, সার প্রভৃতির সারা দেশব্যাপী বৃহৎ বাজার সৃষ্টি হয়েছে।
      (vi) পরিবহণ : রেলপথ-পশ্চিম, মধ্য, কোঙ্কন, দক্ষিণ-মধ্য, জাতীয় সড়কপথ (NH- 3, 4, 6, 7, 8, 9, 15, 17) দ্বারা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও (vii) মফতলাল, রিলায়েন্স শিল্প গােষ্ঠী ও বহুজাতিক সংস্থার মূলধন। বিনিয়ােগ, (viii) সুলভ দক্ষ শ্রমিক, দক্ষ পরিচালন ব্যবস্থা, (ix) দুই রাজ্য সরকারের অনুকূল প্রগতিশীল শিল্পনীতি পশ্চিমাঞ্চলের পেট্রোরাসায়নিক শিল্পের উন্নতিতে অনুঘটকের কাজ করছে।

2. ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে দ্রুত উন্নতি লাভের কারণগুলি ব্যাখ্যা করাে

উত্তর : ভারত তথ্য প্রযুক্তি শিল্পে দ্রুত উন্নতি লাভের কারণগুলি হল—
      (i) মানব সম্পদ : মানুষের উচ্চমেধা জ্ঞান তথ্য প্রযুক্তি শিল্পের প্রধান সম্পদ। সারা ভারত জুড়ে উন্নত মেধা সম্পন্ন মানব সম্পদের প্রাচুর্য রয়েছে।
      (ii) প্রশিক্ষণ কেন্দ্র : সারা ভারত জুড়ে বহু উচ্চমানের তথ্য প্রযুক্তির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। যেমন-(i) IT রয়েছে 16টি স্থানে (রুকি, নিউ দিল্লি, কানপুর, খল্লাপুর)। এছাড়াও অনেক উচ্চমানের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন-(i) Indian Institute of Science-Bengaluru (ii) Indian Institute of Science Education and Research-Kolkata, Pune প্রভৃতি।
      (iii) উন্নত পরিকাঠামাে : উন্নত যাতায়াত ও যােগাযােগ ব্যবস্থা। বিদ্যুৎ পরিসেবা, নিরপত্তা, 24×7 কর্মের পরিবেশ প্রভৃতি বিষয়ে উন্নত পরিকাঠামােগত সুযােগ করে দিচ্ছে।
      (iv) বিপুল চাহিদা ও বাজার :কৃষি, শিল্প, পরিবহণ-যােগাযােগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, সরকারি, বেসরকারি পরিসেবা প্রদান প্রভৃতি ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির বহুল ব্যবহার ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলিতে বিশাল বাজার তৈরি করেছে।
      (v) মূলধনের প্রাচুর্য : উদারীকরণ ও বিশ্বায়নের মধ্য দিয়ে ভারতের এই উদীয়মান শিল্পটিতে দেশীয় ও বহুজাতিক সংস্থাগুলি বিপুল অর্থ বিনিয়ােগ করায় শিল্পটি বিকশিত হচ্ছে।

ভারতের কয়েকটি।T হাব হল—(i) বেঙ্গালুরু, (i) চেন্নাই, (ii) হায়দরাবাদ, (iv) কলকাতা, (v) দিল্লি-গুরগাঁও-নয়ডা (vi) পুনে (vii) ত্রিবান্দ্রম এবং (viii) তিরুবন্তপুরম।

ভারতের জনসংখ্যা

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-2]

1. জনবিস্ফোরণ কাকে বলে?

উত্তর : কোনাে অঞ্চলে জন্মহার ও প্রবাসনের তুলনায় মৃত্যুহার হ্রাস ও অভিবাসন বৃদ্ধি পেলে মােট জনসংখ্যার পরিমাণের ব্যাপক বৃদ্ধিকে জন-বিস্ফোরণ বলে। কোনাে দেশে বার্ষিক জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার 2% এর বেশি বৃদ্ধি পেলে সেই দেশে জনবিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

2. শূন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি কাকে বলে?

উত্তর : কোনাে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনাে দেশে জন্মহার ও মৃত্যুহার প্রায় সমান হলে তাকে শূন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি বা Zero Popolation Growth বলে। জীবিত শিশু ও অভিবাসন জনসংখ্যা এবং মৃত ও প্রবাসন জনসংখ্যা প্রায় সমান হলে শুন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে।

3. মহানগর বা মেগাসিটি কাকে বলে ?

উত্তর : যখন কোনাে জনপদ বিশাল অঞ্চল জুড়ে বিস্তারলাভ করে এবং অত্যাধুনিক পরিসেবা প্রদান করে, তখন তাকে মহানগর বা মেগাসিটি বলে। 2011 খ্রিস্টাব্দের আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতে মেগাসিটির সংখ্যা ৪টি। উদাহরণ—মুম্বাই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, আহমেদবাদ, বৃহত্তর কলকাতা, বৃহত্তর চেন্নাই, বৃহত্তর সুরাত প্রভৃতি।

4. কোন রাজ্যে জনঘনত্ব সবথেকে কম এবং কেন?

উত্তর : ভারতের অরুণাচল প্রদেশের জনঘনত্ব সবথেকে কম। প্রতি বর্গকিমিতে 13 জন বাস করে। কারণ—(i) দুর্গম পার্বত্য ভূ-ভাগ, (ii) প্রতিকুল জলবায়ু, (iii) গভীর বনভূমি, (iv) কৃষি, শিল্প নগরায়ণের অভাব, (v) খনিজ ও শক্তি সম্পদের অভাব এই অতি জনবিরলতার কারণ।

5. সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতের সর্বাধিক ও সর্বনিম্ন জনসংখ্যা বিশিষ্ট রাজ্য দুটির নাম লেখাে।

উত্তর : সর্বাধিক জনসংখ্যা বিশিষ্ট রাজ্য—ভারতের সর্বাধিক জনসংখ্যা বিশিষ্ট রাজ্য হল উত্তর প্রদেশ। মােট জনসংখ্যা 16.62 কোটি।
সর্বনিম্ন জনসংখ্যা বিশিষ্ট রাজ্য—ভারতের সর্বনিম্ন জনসংখ্যা বিশিষ্ট্য রাজ্য হল সিকিম। মােট জনসংখ্যা—5,40,493 জন।

6. পরিব্রাজন বলতে কী বােঝাে?

উত্তর : যখন কোনাে দেশের বা কোনাে অঞ্চলের জনসাধারণের এক অংশ কোনাে বিশেষ পরিব্রাজন বলে। পরিব্রাজনে আকর্ষণজনিত কারণগুলি হল—(i) উন্নততর শিক্ষালাভ ও গবেষণা, (ii) সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, (iii) মনােরম আবহাওয়া ও পরিবেশ, (iv) নতুন সম্পদ বা নতুন ভূখণ্ড আবিষ্কার ইত্যাদি। এবং Push Factor গুলাে হল-(i) রাজনৈতিক অস্থিরতা, (ii) কর্মসংস্থানের অভাব, (iii) যুদ্ধবিগ্রহ, দেশভাগ (iv) সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনে অস্থিরতা, (i) জনসংখ্যা বৃদ্ধি, (ii) উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা করার সুযােগের অভাব ইত্যাদি বিষয়ের আকর্ষণে অথবা বিকর্ষণজনিত কারণে অন্যত্র গমন করে থাকে।

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]

1. ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণগুলি আলােচনা করাে।

উত্তর : (i) বৃদ্ধির হার : ভারতের উচ্চ জন্মহার ও নিম্নমৃত্যুহার জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ।
     (ii) বিবাহ : বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, বিধবা বিবাহ, সর্বজনীন বিবাহ জনসংখ্যা বাড়ায়।
     (iii) শিক্ষা : স্বল্প শিক্ষা, অশিক্ষা, কুসংস্কার, নারীশিক্ষার অভাব জনসংখ্যা বৃদ্ধি করে।
     (iv) অনুপ্রবেশ : অনুপ্রবেশ ও উদ্বাস্তু সমস্যা জনসংখ্যা বাড়ায়।
     (v) সামাজিক মর্যাদা : নারীদের স্বল্প সামাজিক মর্যাদা জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ।
     এছাড়াও (i) যৌথ পরিবার প্রথা, (ii) পুত্রসন্তানের আশঙ্কা এবং (ii) কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি জনসংখ্যা বাড়ায়।

2. ভারতের অধিক জন্মহারের কারণগুলি কী কী?

উত্তর : (i) আধুনিক চিকিৎসা ব্যবহার উন্নতি ভারতের মৃত্যুহারকে অনেকাংশে কমিয়েছে। (ii) দুর্ভিক্ষ, খরা, বন্যা রােধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা, ত্রাণ মৃত্যুহার কমিয়েছে। (iii) পুষ্টিকর সুষম খাদ্যের সরবরাহ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মহামারি নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। (iv) আধুনিক যােগাযােগ ও পরিবহণ ব্যবস্থা মৃত্যুহার কমিয়েছে। (v) মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, সন্তান প্রতিপালনের আর্থিক স্বচ্ছলতা, সুশিক্ষা মৃত্যুহার কমিয়ে দিয়েছে।

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – রচনাধর্মী উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]

1. ভারতের অসম জনসংখ্যা বণ্টনের কারণগুলি আলােচনা করাে :

উত্তর : ভারতের মােট জনসংখ্যা 121.02 কোটি (2011 খ্রীঃ) হলেও সর্বত্র জনসংখ্যা সমান হারে বন্টিত হয়নি। ভারতে অসম জনসংখ্যা বন্টনের কারণগুলি হল নিম্নরূপ-

      প্রাকৃতিক কারণ :
     (a) ভূ-প্রকৃতি : উচ্চ পার্বত্য অঞলে খাড়া ঢাল, বাসযােগ্যতার অভাব, পরিবহন যাতায়াত ব্যবস্থার অসুবিধার দরুণ জনজাতি তুলনামূলক কম। মালভূমি অঞ্চলে খনিজ ও শিল্পের সমৃদ্ধির জন্য জনবসতি মাঝারি। এবং পৃথিবীর প্রায় 90% মানুষ সমভূমি অঞ্চলে বাস করে সমস্ত সুযােগ সুবিধা পাওয়া যায় বলে।
     (b) জলবায়ু : উমরু অঞ্চলে জলবায়ু চরমভাবাপন্ন, উয়, পার্বত্য অঞ্চলে হিমশীতল জলবায়ু ও বৃষ্টিবহুল পরিবেশের কারণে জনবসতি বিরল। অন্যদিকে উপকূলীয় এবং সমভূমি অঞলে সমভাবাপন্ন মনােরম জলায়ুর কারণে জনঘনত্ব অধিক।
     (c) নদ-নদী : নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় ভারতের অধিকাংশ শহারল নদী তীরবর্তী অণ্ডলে গড়ে উঠেছে।
     (d) মৃত্তিকা : মৃত্তিকার গুণাগুণের ওপর কৃষির সাফল্য নির্ভর করে। উর্বর মৃত্তিকাযুক্ত অণ্ডলে ঘনবসতি দেখা যায়। অপরদিকে অনুর্বর মৃত্তিকায় বিরল জনবসতি দেখা যায়।
     (e) বনভূমি : বনভূমির প্রকৃত ও বনভূমির বন্টনের উপর জনসংখ্যার তারতম্য নির্ভরশীল।

      II অর্থনৈতিক কারণ :
     (a) কৃষি : ভারত কৃষি নির্ভর দেশ। তাই কৃষির সুবিধাযুক্ত অঞ্চলে জনঘনত্ব অর্ধেক।
     (b) শিল্প : শিল্পাঞ্চলে কর্ম সংস্থানের সুযােগ থাকায় জনঘনত্ব বেশি হয়।
     (c) পরিবহণ ও যােগাযােগ : ভারতের উন্নত পরিবহণ ও যােগাযােগ ব্যবস্থা সম্পন্ন স্থানে জনঘনত্ব বেশী। অপরদিকে এই স্বসুবিধা না থাকায় সেখানে বিরল জনবসতি।
     (d) ধর্ম : ধর্মীয় আচার আচরণকে কেন্দ্র করে ধর্মতীর্থস্থলগুলিকে জনসংখ্যা বেশি।
     (e) শিক্ষা ও সংস্কৃতি : শিক্ষা দীক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্পকলা সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলােতে জনঘনত্ব অনেক বেশি। সেখানে এই সকল সুযােগ কম সেখানে জনঘনত্ব অনেক কম।

      III রাজনৈতিক কারণ :ভারত বিভাজন ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পর্বে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে অনুপ্রবেশের কারণে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, পশ্চিমবঙ্গ, অসম রাজ্যগুলিতে জনসংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলিতে অধিক কর্মসংস্থানের জন্য শহুরে জনসংখ্যার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তুলনামূলক ভাবে গ্রামাঞ্চলে কম।
উপরিউক্ত কারণগুলির জন্য ভারতে অসম জনসংখ্যা বন্টন লক্ষ করা যায়।

ভারতের পরিবহণ ও যােগাযােগ ব্যবস্থা

1. ইন্টারনেট বা আন্তর্জাল কী?

উত্তর : সমগ্র পৃথিবীর সমস্ত কম্পিউটারকে মডেমের সাহায্যে টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে একসূত্রে যােগ করার নামই হল ইন্টারনেট বা অন্তর্জাল। 1963 খ্রিস্টাব্দে ইন্টারনেট হল সমগ্র বিশ্ব জুড়ে হাজার হাজার নেটওয়ার্কের ইন্টারনেট বা অন্তর্জাল সূচনা : হয় মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের উদ্যোগে।

2. ই-মেল (E-mail) কী?

উত্তর : ই-মেল-এর অর্থ হল Electronic mail বা বৈদ্যুতিক বার্তা। কম্পিউটার ইন্টারনেট ব্যবস্থায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ পদ্ধতিতে অতি অল্প সময়ে পৃথিবীর যে কোনাে প্রান্তে যেখানে ইন্টারনেট ব্যবস্থা আছে, সেখানে ডিজিটাল তথ্য পাঠানাে যায়।

3. ব্যাক ওয়াটার্স ৰা পশ্চাদভূমি বলতে কী বােঝাে?

উত্তর : ভারতের মালাবার উপকূলে অসংখ্য কয়াল বা উপহদ আছে, এগুলিকে ব্যাকওয়াটার্স বলে। এগুলি জলপথরূপে ব্যবহৃত হয়। আলেপ্পি থেকে কোচিন পর্যন্ত ভেম্বনাদ কয়ালের মধ্য দিয়ে স্টিমারে যাতায়াত করা যায়। তাছাড়া তিরুবন্তপুরম থেকে উত্তরে কেপুর পর্যন্ত জলপথে যাওয়া যায়।

4. শিপিংলেন কাকে বলে?

উত্তর : মহাসাগরের বিস্তৃতি হলেও তারতম্যের জন্য কিছু নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করে জাহাজ চলাচল করে। জাহাজ সমুদ্রে যে নির্দিষ্ট পথে চলে তাকে শিপিংলেন বলে।

5. শিপিং লাইন কী?

উত্তর : জলপথ পণ্য ও যাত্রী পরিবহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সমুদ্রপথ পরিবহণে কোম্পানির জাহাজ সমুদ্রে চলাচল করে, সেই কোম্পানিকে শিপিং লাইন বলে।

6, পুনঃ রপ্তানিবন্দর কাকে বলে?

উত্তর : যে বন্দরের মাধ্যমে পণ্যদ্রব্য, আমদানি, আমদানিকৃত পণ্য সঞ্চয় অথভা ব্যবসা করার পর পুনরায় রপ্তানি করা হয়, তাকে বলা হয় পুনঃরপ্তানিবন্দর। যেমন- কেরলের কোলাম বন্দর।

7. বুলেট ট্রেন কী ?

উত্তর : বুলেট ট্রেন হল প্রচণ্ড গতিসম্পন্ন ট্রেন। জাপানে টোকিও-ওসাকার শহরের মধ্যে 1964 সালে প্রথম এই ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ভারতের 2014-15 অথবর্যে রেল বাজেটে মুম্বাই থেকে আমেদাবাদের মধ্যে বুলেট ট্রেন চালানাের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : (প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]

1. ‘জলপথ হল উন্নয়নের রূপরেখা’-ব্যাখ্যা করাে।

উত্তর : সমুদ্র, হ্রদ, নদী, খাল প্রভৃতি দিয়ে পণ্য ও যাত্রী পরিবহণকে জলপথ পরিবহণ ব্যবস্থা বলে। পথ নির্মামে খরচ কম (কখনাে খরচ লাগে না), পরিহণ পদ্ধতি সহজ ও সরল ও কমব্যয়বহুল, একসাথে প্রচুর পণ্য বহন করা যায় এবং শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটে বলে জলপথ হল উন্নয়নের রূপরেখা।

2. ইস্ট-ওয়েস্ট করিডোের এবং নর্থ সাউথ করিড়াের কী?

উত্তর : পশ্চিমে গুজরাতের পােরবন্দর থেকে পূর্বে আসামের শিলচর (NH27-3507 কিমি), এবং উত্তরে জম্মু কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারী (NH44, 3745 কিমি) 4-6 লেনের অতিদ্রুতগামী সড়কপথ হল পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর দক্ষিন করিডাের (EW-NS)। মােট 7252 কিমি দৈর্ঘ্যের এই সড়কপথ বর্তমানে অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – রচনাধর্মী উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]

1. পরিবহণ (Transport) এবং যােগাযােগ (Communication) ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য লেখাে।

উত্তর : পরিবহণ এবং যােগাযােগ ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য –

ভিত্তি    ভাবর    তরাই
1. প্রকৃতি    পরিবহণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কেবল পণ্যসামগ্রী ও যাত্রী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবাহিত হয়।    যােগাযােগ ব্যবস্থার মাধ্যমে কেবল সংবাদ ও তথ্যের আদান-প্রদান হয়।
2. মাধ্যম    এর মাধ্যমগুলি হল—সড়কপথ,রেলপথ, জলপথ, আকাশপথ,রজ্জুপথ, পাইপলাইন, পাতাল রেল।    এর মাধ্যমগুলি হল ইন্টারনেট, ই-মেল মােবাইল ফোন, টেলিগ্রাফ ইত্যাদি।
3. সময়    পরিবহণ ব্যবস্থায় যাত্রী বা পণ্যদ্রব্য এক স্থান থেকে অপরস্থানে পৌঁছাতে অনেক বেশি সময় লাগে।    যােগাযােগ ব্যবস্থায় তথ্য বা সংবাদ পৃথিবীর যে কোন স্থানে মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যেতে পারে।
4. ব্যয়    পরিবহণ ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ।    অপেক্ষাকৃত কম ব্যয়বহুল।

আরোও দেখুন:-
WBBSE Class 10th Geography Suggestion Click here
বিনামূল্যে ডাউনলোড করুন:-
দশম শ্রেণী ভূগোল সাজেশন | WBBSE Class 10th Geography Suggestion Click here

Info : WBBSE Class 10th Geography Suggestion | West Bengal Madhyamik Geography Qustion and Answer.

দশম শ্রেণী ভূগোল | মাধ্যমিক ভূগোল – ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – প্রশ্ন উত্তর 

” মাধ্যমিক  ভূগোল – ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – প্রশ্ন উত্তর  “ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ টপিক মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik / WB Madhyamik / MP Exam / West Bengal Board of Secondary Education – WBBSE Madhyamik Exam / Madhyamik Class 10th / Class X / Madhyamik Pariksha) এবং বিভিন্ন চাকরির (WBCS, WBSSC, RAIL, PSC, DEFENCE) পরীক্ষায় এখান থেকে প্রশ্ন অবশ্যম্ভাবী । সে কথা মাথায় রেখে BhugolShiksha.com এর পক্ষ থেকে মাধ্যমিক (দশম শ্রেণী) ভূগোল পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর এবং সাজেশন (WBBSE Class 10th Geography Suggestion / West Bengal Board of Secondary Education – WBBSE Geography Suggestion / Madhyamik Class 10th Geography Suggestion / Class X Geography Suggestion / Madhyamik Pariksha Geography Suggestion / Geography Madhyamik Exam Guide / MCQ , Short , Descriptive  Type Question and Answer. / WBBSE Class 10th Geography Suggestion FREE PDF Download) উপস্থাপনের প্রচেষ্টা করা হলাে। ছাত্রছাত্রী, পরীক্ষার্থীদের উপকারেলাগলে, আমাদের প্রয়াস মাধ্যমিক (দশম শ্রেণী) ভূগোল পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নোত্তর এবং সাজেশন (WBBSE Class 10th Geography Suggestion / West Bengal Board of Secondary Education – WBBSE Geography Suggestion / Madhyamik Class 10th Geography Suggestion / Class X Geography Suggestion / Madhyamik Pariksha Geography Suggestion / WBBSE Class 10th Geography Exam Guide / MCQ , Short , Descriptive  Type Question and Answer. / WBBSE Class 10th Geography Suggestion FREE PDF Download) সফল হবে।

WBBSE Class 10th Geography | মাধ্যমিক ভূগোল – ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – প্রশ্ন উত্তর 

WBBSE Class 10th Geography (মাধ্যমিক ভূগোল) – ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – প্রশ্ন উত্তর 

WBBSE Class 10th Geography Suggestion | দশম শ্রেণী ভূগোল – ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – প্রশ্ন উত্তর 

WBBSE Class 10th Geography Suggestion (দশম শ্রেণী ভূগোল) – ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – প্রশ্ন উত্তর 

WBBSE Class 10th Geography Question and Answer | মাধ্যমিক ভূগোল প্রশ্ন ও উত্তর – ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – প্রশ্ন উত্তর 

WBBSE Class 10th Geography Question and Answer (মাধ্যমিক ভূগোল প্রশ্ন ও উত্তর) – ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – প্রশ্ন উত্তর 

WB WBBSE Class 10th Geography Suggestion | দশম শ্রেণী ভূগোল – ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – প্রশ্ন উত্তর 

WB WBBSE Class 10th Geography Suggestion (দশম শ্রেণী ভূগোল) – ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – প্রশ্ন উত্তর 

West Bengal WBBSE Class 10th Geography Suggestion | দশম শ্রেণী ভূগোল – ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – প্রশ্ন উত্তর 

West Bengal WBBSE Class 10th Geography Suggestion (দশম শ্রেণী ভূগোল) – ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – প্রশ্ন উত্তর 

WBBSE Class 10th WBBSE Class 10th Geography Suggestion | দশম শ্রেণী ভূগোল | মাধ্যমিক ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – প্রশ্ন উত্তর 

WBBSE Class 10th WBBSE Class 10th Geography Suggestion | দশম শ্রেণী ভূগোল | মাধ্যমিক ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – প্রশ্ন উত্তর 

West Bengal Madhyamik  Geography Suggestion Download. WBBSE WBBSE Class 10th Geography short question suggestion. WBBSE Class 10th Geography Suggestion  download. Madhyamik Question Paper Geography. WB Madhyamik 2019 Geography suggestion and important questions. Madhyamik Suggestion  pdf.পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্ন উত্তর ও শেষ মুহূর্তের সাজেশন ডাউনলোড। মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য সমস্ত রকম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

Get the WBBSE Class 10th Geography Suggestion by BhugolShiksha.com

 West Bengal WBBSE Class 10th Geography Suggestion  prepared by expert subject teachers. WB Madhyamik Geography Suggestion with 100% Common in the Examination.

West Bengal Board of Secondary Education (WBBSE) 

will organize Madhyamik (Madhyamik)  Examination on the last week of February and continue up to the middle of March. Like every year Team BhugolShiksha.com published Madhyamik  All subjects suggestion.

West Bengal Madhyamik Geography Syllabus PDF

The Following document gives the topic wise complete syllabus for West Bengal Madhyamik exams for both Class 9 and 10. Candidates can refer to this PDF for any doubts regarding the syllabus. 

Madhyamik WBBSE Class 10th Geography complete syllabus Click Here to Download

WBBSE Geography Suggestion | West Bengal Madhyamik Exam

WBBSE Class 10th Geography Suggestion  Download PDF: WBBSE Madhyamik Class 10th Geography Suggestion is provided here. WB Madhyamik  Geography Suggestion Questions Answers PDF Download.

Class 10th Geography Suggestion

Class 10th Geography Suggestion  has been provided here. Class 10th Geography Suggestion questions are very much common for the upcoming WBBSE Class 10th Geography examination. Download the solved Class 10th (X) question paper of Geography Subject Provided here. These common questions can be downloaded free. Moreover, you can easily check West Bengal মাধ্যমিক ভূগোল expected common questions for upcoming Madhyamik 10th Exam.

WBBSE Class 10th Geography Suggestion

WB WBBSE Class 10th Geography Suggestion Question and answer. The questions you should practice repeatedly however we can not guarantee that the questions will be 100% common. Hence, you should read the textbook of class 10th thoroughly for 100% sure suggestions. We also advise the WBBSE Madhyamik Students for  year that they read their textbook multiple times and solve the questions.

    স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ডিজিটাল মাধ্যম BhugolShiksha.com । এর প্রধান উদ্দেশ্য পঞ্চম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক) সমস্ত বিষয় এবং গ্রাজুয়েশনের শুধুমাত্র ভূগোল বিষয়কে  সহজ বাংলা ভাষায় আলোচনার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের কাছে সহজ করে তোলা। এছাড়াও সাধারণ-জ্ঞান, পরীক্ষা প্রস্তুতি, ভ্রমণ গাইড, আশ্চর্যজনক তথ্য, সফল ব্যাক্তিদের জীবনী, বিখ্যাত ব্যাক্তিদের উক্তি,  প্রাণী জ্ঞান, কম্পিউটার, বিজ্ঞান ও বিবিধ প্রবন্ধের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মননকে বিকশিত করে তোলা।
        আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সময় করে আমাদের এই (দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ – প্রশ্ন উত্তর সাজেশন | WBBSE Class 10th Geography Suggestion) পােস্টটি পড়ার জন্য। এই ভাবেই ভূগোল শিক্ষা – BhugolShiksha.com ওয়েবসাইটের পাশে থাকুন। বিভিন্ন বিষয়ের যেকোনো প্ৰশ্ন উত্তর জানতে এই ওয়েবসাইট টি ফলাে করুন এবং নিজেকে  তথ্য সমৃদ্ধ করে তুলুন , ধন্যবাদ।
নিচের বাটনে ক্লিক করে শেয়ার করেন বন্ধুদের মাঝে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here