বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন | Madhyamik Bengali Suggestion PDF

0
বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ - মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন | Madhyamik Bengali Suggestion PDF
বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ - মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন | Madhyamik Bengali Suggestion PDF

বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন

Madhyamik Bengali Suggestion PDF

মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন – বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ সাজেশন – Madhyamik Bengali Suggestion PDF : বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ও অধ্যায় ভিত্তিতে প্রশ্নোত্তর নিচে দেওয়া হল।  এবার পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষায় বা মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষায় ( WB Madhyamik Bengali Suggestion PDF  | West Bengal Madhyamik Bengali Suggestion PDF  | WBBSE Board Class 10th Bengali Question and Answer with PDF file Download) এই প্রশ্নউত্তর ও সাজেশন খুব ইম্পর্টেন্ট । আপনারা যারা আগামী মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার জন্য বা মাধ্যমিক বাংলা – বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ | Madhyamik Bengali Suggestion PDF  | WBBSE Board Madhyamik Class 10th (X) Bengali Suggestion  Question and Answer খুঁজে চলেছেন, তারা নিচে দেওয়া প্রশ্ন ও উত্তর ভালো করে পড়তে পারেন। 

মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন | পশ্চিমবঙ্গ দশম শ্রেণীর বাংলা সাজেশন/নোট (West Bengal Class 10th Suggestion PDF / Madhyamik Bengali Suggestion) | বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – MCQ, SAQ, Short, Descriptive Question and Answer

পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর বাংলা সাজেশন (West Bengal Madhyamik Bengali Suggestion PDF / Notes) বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – প্রশ্ন উত্তর – MCQ প্রশ্নোত্তর, অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ), সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (Short Question and Answer), ব্যাখ্যাধর্মী বা রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (descriptive question and answer) এবং PDF ফাইল ডাউনলোড লিঙ্ক নিচে দেওয়া রয়েছে

বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ 

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন | Madhyamik Bengali Suggestion : 

  1. ‘ সত্যিই যে বিশ্বাস করতে পারছি না’— কী বিশ্বাস করতে পারছে না ?

Answer: ‘ বহুরূপী ‘ গল্প অনুসারে জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগী – রুপী হরিদাকে দেখে লেখকের সত্যিই বিশ্বাস হয় না যে , এই ব্যক্তিটি আসলে হরিদা ।

  1. জগদীশবাবু তীর্থ ভ্রমণের জন্য কত টাকা বিরাগীকে দিতে চেয়েছিলেন ?

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরুপী ‘ গল্প অনুসারে জগদীশবাবু বিরাগী – রূপী হরিদাকে তীর্থ ভ্রমণের জন্য একশো এক টাকা দিতে চেয়েছিলেন ।

  1. ‘ অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না । হরিদার কোন ভুলের কথা এখানে বলা হয়েছে ?

Answer: জগদীশবাবুর দেওয়া প্রণামীর টাকা অবলীলায় ফেরত দিয়ে দেন বিরাগী – রূপী হরিদা । অভাবের সংসারে হঠাৎ পাওয়া এই টাকা ফেরত দেওয়াকেই হরিদার ভুল বলা হয়েছে ।

  1. জগদীশবাবুর বাড়িতে সন্ন্যাসীটি কত দিন ছিলেন ?

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ‘ গল্প অনুসারে , উঁচু দরের সন্ন্যাসীটি জগদীশবাবুর বাড়িতে সাত দিন ছিলেন ।

  1. জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা ‘ উঁচু দরের সন্ন্যাসী ‘ – টি কোথায় থাকেন ?

Answer: ‘ বহুরূপী ‘ গল্প অনুসারে জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা উঁচু দরের সন্ন্যাসী ‘ টি হিমালয়ের গুহাতে থাকেন ।

  1. ‘ একটু পরেই বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ ধমক দেয় । -কেন ধমক দিয়েছিল ?

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ‘ গল্পের হরিদা একদিন চকের বাস স্ট্যান্ডের কাছে পাগল সেজে , হাতে থান ইট তুলে নিয়ে যাত্রীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছিলেন । তখন ভীত ও আতঙ্কিত যাত্রীরা চেঁচিয়ে ওঠায় বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ তাঁকে থামতে বলে ধমক দিয়েছিল ।

  1. ‘ একটু পরেই বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ ধর্মকে দেয় । – ধমক দিয়ে কী বলেছিল ?

Answer: ‘ বহুরূপী ‘ হরিদার পাগলামি দেখে বাসযাত্রীরা ভীত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ায় ড্রাইভার কাশীনাথ বলেছিল , ‘ খুব হয়েছে হরি , এই বার সরে পড়ো । অন্যদিকে যাও ।

  1. ‘ বহুরূপী ‘ গল্প অনুসারে লেখা সারাবছর সন্ন্যাসী কী খান ?

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরুপী ’ গল্পের জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসী সারাবছরে শুধু একটি হরীতকী খান , তা ছাড়া আর কিছুই খান না ।

  1. নইলে আমি শান্তি পাব না- বক্তা কী না – হলে শান্তি পাবেন না ।

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরুপী ‘ গল্পে জগদীশবাবু বিরাগীর বেশধারী হরিদাকে কিছু উপদেশ শুনিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে বলেছিলেন যে , না হলে তিনি শান্তি পাবেন না ।

  1. ‘ অনাদি বলে— এটা কী কাণ্ড করলেন হরিদা ? ‘ এখানে কোন কাণ্ডের কথা বলা হয়েছে ।

Answer: ‘ বহুরূপী ‘ গল্প অনুসারে বিরাগীর বেশধারী হরিদাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে জগদীশবাবু তাকে খাঁটি সন্ন্যাসী ভেবে একশো এক টাকা দিতে চাইলে বিরাগী – রূপী হরিদা তা হেলায় ফেলে দিয়ে চলে আসেন । এখানে সেই কাণ্ডের কথাই বলা হয়েছে । 

  1. কিন্তু সেটাই যে হরিদার জীবনের পেশা / – হরিদার পেশা কী ছিল ? 

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ‘ গল্পের নায়ক হরিদা মাঝে মাঝে বহুরূপী সেজে সামান্য রোজগার করে ভাতের হাঁড়ির দাবি মিটিয়ে দিতে চেষ্টা করেন । এটাই তার পেশা ।

  1. ‘ চমৎকার পাগল সাজতে পেরেছে তো লোকটা —’লোকটা কে ?

Answer: প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশে ‘ লোকটা ‘ বলতে সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ‘ গল্পের নায়ক হরিদাকে বোঝানো হয়েছে । 

  1. জগদীশবাবু কীভাবে সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো নিয়েছিলেন ?

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ‘ গল্প অনুসারে জগদীশবাবু একজোড়া কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে ধরলেন । তখন সন্ন্যাসী নতুন খড়ম পরার জন্য বাধ্য হয়ে পা এগিয়ে দিয়ে তা পরলেন ; আর সেই ফাঁকে জগদীশবাবু পায়ের ধুলো নিয়ে নিলেন ।

  1. পুলিশ সেজে হরিদা কী করেছিল ?

Answer: ‘ বহুরূপী ‘ গল্প অনুসারে হরিদা একবার পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর লিচু বাগানের ভিতরে স্কুলের চারটে ছেলেকে ধরেছিলেন । তারপর স্কুলের মাস্টারমশাই এসে ক্ষমা চেয়ে আট আনা ঘুষ দেওয়ায় নকল পুলিশ হরিদা তাদের ছেড়ে দেন ।

  1. ‘ হরিদার জীবন এইরকম বহু রূপের খেলা দেখিয়েই একরকম চলে যাচ্ছে ।’— কীরকম খেলা দেখিয়ে হরিদার জীবন চলে যাচ্ছে ? 

Answer: হরিদা পেশায় ছিলেন বহুরূপী । তিনি কখনও পাগল সাজতেন , কখনও বাউল , কখনও কাপালিক , আর কখনও – বা বোঁচকা কাঁধে কাবুলিওয়ালা । এইরকম বহুরূপীর খেলা দেখিয়ে হরিদার জীবন চলে যাচ্ছে । 

  1. ‘ সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস— সেই বস্তুটিকে দুর্লভ বলার কারণ কী ? 

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ‘ গল্পের সন্ন্যাসী , জগদীশবাবু ছাড়া আর কাউকেই পায়ের ধুলো নিতে দেননি । তাই সেই বস্তুটিকে দুর্লভ বলা হয়েছে ।

  1. ‘ কী অদ্ভুত কথা বললেন’— অদ্ভুত কথাটি কী ?

Answer: ‘ বহুরূপী ‘ গল্প অনুসারে বিরাগী – রূপী হরিদা , জগদীশবাবুর কাছে টাকা না – নেওয়ার প্রসঙ্গে বলেছিলেন যে , সন্ন্যাসী সেজে টাকা নিলে তার ঢং নষ্ট হয়ে যাবে । এখানে এ কথাটিকেই অদ্ভুত বলা হয়েছে ।

  1. হরিদার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্যটি কী ?

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরুপী ‘ গল্পের নায়ক হরিদার পেশাই হল । বহুরূপী সেজে সামান্য রোজগারকে সম্বল করে অম্লের সংস্থান করা । এটাই তাঁর জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্য ।

  1. হরিদা কোথায় থাকেন ?

Answer: ‘ বহুরূপী ‘ গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদা শহরের সবচেয়ে সবু গলির ভিতরে একটি ছোট্ট ঘরে থাকেন ।

  1. ‘ আমি বিরাগী , রাগ নামে কোনো রিপু আমার নেই – বক্তার এ কথা বলার কারণ কী ?

Answer: এক প্রকৃত সন্ন্যাসী আসলে সমস্ত জৈবিক প্রবৃত্তিকে জয় করে । তখন সে কাম – ক্রোধ – লোভ ইত্যাদি ষড়রিপুর আর বশবর্তী থাকে না । বিরাগী রূপী হরিদা সে কথাই বলেছেন ।

  1. ‘ সেদিকে ভূলেও একবার তাকালেন না বিরাগী – কোন দিকে না তাকাবার কথা বলা হয়েছে ?

Answer: জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকার থলিটি সিঁড়ির ওপরেই পড়ে রইল । বিরাগী – রূপী হরিদা সেদিকে ভুলেও আর একবার ; ফিরে তাকালেন না ।

  1. ‘ বহুরূপী ‘ গল্পের হরিদা কোন সাজ সেজে সবচেয়ে বেশি আয় করেছিলেন ?

Answer: ‘ বহুরূপী ‘ গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদা রূপসি বাইজি সেজে সবচেয়ে বেশি ; মোট আট টাকা দশ আনা রোজগার করেছিলেন ।

  1. বিরাগীর উদ্দেশ্যে জগদীশবাবুর প্রাণের অনুরোধ কী ছিল ?

Answer: ‘ বহুরূপী ‘ গল্প অনুসারে জগদীশবাবু , বিরাগী – রূপী হরিদার পায়ের কাছে একশো এক টাকার থলিটি রেখে , তা গ্রহণ করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন ।

  1. হরিদার কয়েকটি বহুরূপী রূপের উল্লেখ করো ।

Answer: ‘ বহুরূপী ‘ গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদার কয়েকটি বহুরুপী রূপ হল— পাগল , রূপসি বাইজি , বাউল , কাপালিক , কাবুলিওয়ালা , ফিরিঙ্গি কেরামিন সাহেব , পুলিশ ও বিরাগী ।

  1. ‘ হরিদার কাছে আমরাই গল্প করে বললাম , ‘ আমরা ‘ বলতে এখানে কাদের বোঝানো হয়েছে ? 

Answer: উদ্ধৃতিটি সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ‘ গল্পের অংশ । এখানে ‘ আমরা ‘ বলতে স্বয়ং গল্পকার ও তাঁর বন্ধু ভবতোষ , অনাদি ছাড়াও অন্যদের বোঝানো হয়েছে ।

  1. ‘ গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন হরিদা । – হরিদার গম্ভীর হওয়ার কারণ কী ?

Answer: সর্বস্বত্যাগী সন্ন্যাসী সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম ও একশো এক টাকা পেয়ে তৃপ্তির হাসি হাসেন । এ কথা শুনে হরিদার বিশ্বাস । টলে যায় । তিনি গম্ভীর হয়ে যান ।

  1. ‘ কিন্তু ওই ধরনের কাজ হরিদার জীবনের পছন্দই নয় । — কোন ধরনের কাজের কথা বলা হয়েছে ?

Answer: অভাবী হরিদা ইচ্ছে করলেই কোনো অফিসে বা দোকানে একটা কাজ পেতে পারতেন । কিন্তু ঘড়ি ধরে নিয়ম করে রোজ একটা চাকরি করা , হরিদার না – পসন্দ ছিল ।

  1. চকের বাস স্ট্যান্ডে বহুরূপী হরিদা কী রূপে হাজির হয় ? 

Answer: কটকটে লাল চোখ , মুখ থেকে লালা ঝরছে , কোমরে ছেঁড়া কম্বল , গলায় টিনের কৌটোর মালা ঝোলানো এক পাগলের ছদ্মবেশে চকের বাস স্ট্যান্ডে হাজির হন হরিদা । 

  1. ‘ খুব হয়েছে হরি , এইবার সরে পড়ো । অন্যদিকে যাও / – কে , কেন কথাটি বলেছেন ? 

Answer: একদিন দুপুরে চাকের বাস স্ট্যান্ডে হরিদা পাগলের ছদ্মবেশে হাতে থান ইঁট নিয়ে বাসে বসা যাত্রীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছিলেন । সেই প্রেক্ষিতেই বাস ড্রাইভার কাশীনাথের এই উক্তি ।

  1. কিন্তু দোকানদার হেসে ফেলে – হরির কাণ্ড ! -হরির কোন্ কাণ্ড দেখে দোকানদার হেসে ফেলেছিলেন ? 

Answer: এক সন্ধ্যায় বাইজির ছদ্মবেশে হরি শহরের পথে ঘুঙুরের মিষ্টি শব্দ করে হেঁটে চলে । নতুনরা অবাক হলেও দোকানদার হরিকে চিনতে পেরে হেসে ফেলে ।

  1. ‘ এবারের মতো মাপ করে দিন ওদের – এ কথা কে , কাকে বলেছিলেন ?

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ‘ গল্পে দয়ালবাবুর লিচু বাগানে যখন পুলিশের ছদ্মবেশে হরিদা স্কুলের চারটে ছেলেকে ধরেছিলেন , তখন স্কুলের মাস্টারমশাই এ কথা বলেছিলেন । 

  1. ‘বা , সত্যি , খুব চমৎকার পুলিশ সেজেছিল হরি ! —কে , কখন এ কথা বলেছিলেন ? 

Answer: দয়ালবাবুর লিচু বাগানে স্কুলের মাস্টারমশাই পুলিশের কাছে ক্ষমা চেয়ে আট আনা ঘুষ দিয়ে ছেলেদের ছাড়িয়ে আনার পরে পুলিশের আসল পরিচয় জানতে পেরে তখনই এই প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেন ।

  1. জগদীশবাবুর বাড়িতে খেলা দেখাবার জন্য হরিদার এত উৎসাহ জেগে উঠেছিল কেন ?

Answer: হরিদার সারাদিন নানান ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়িয়েও দু – তিন টাকার বেশি রোজগার হয় না । তাই মোটা টাকা আদায়ের জন্য হরিদার মধ্যে এই উৎসাহ জেগেছিল ।

  1. ‘ আমাদের সন্দেহ মিথ্যে নয় ।’— কোন্ সন্দেহ মিথ্যে নয় বলে মনে করেছেন বক্তা ?

Answer: সন্ন্যাসীর খবর শুনে হরিদা গম্ভীর হয়ে যাওয়ায় কথক ও তাঁর বন্ধুরা বুঝেছিলেন যে , হরিদার মাথায় কোনো মতলব এসেছে । এই প্রসঙ্গেই কথকের এই উক্তিটির অবতারণা । 

  1. ‘ বড়ো চমৎকার আজকে এই সন্ধ্যার চেহারা । সন্ধ্যার চেহারাটির বর্ণনা দাও ।

Answer: সেই সন্ধ্যায় চাঁদের আলোর একটা স্নিগ্ধ ও শান্ত উজ্জ্বলতা চারদিকে ফুটে উঠেছিল । ফুরফুর করে বাতাস বইছিল । জগদীশবাবুর বাগানের গাছের পাতাগুলো ঝিরঝির শব্দ করছিল ।

  1. চমকে উঠলেন জগদীশবাবু / – জগদীশবাবুর চমকে ওঠার কারণ কী ?

Answer: আদুড় গায়ে , সাদা উত্তরীয় জড়ানো , ছোটো সাদা থান , মাথায় সাদা চুল , পায়ে ধুলো মাখা বিরাগীকে দেখে জগদীশবাবু চমকে উঠলেন ।

  1. ‘ আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো ? —কথাটি বন্ধা কেন বলেছেন ।

Answer: বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে এলে জগদীশবাবু বিরাগীকে দূর থেকে অভ্যর্থনা জানান । এর পরিপ্রেক্ষিতেই বিরাগী উত্ত মন্তব্যটি করেছেন ।

  1. ‘ আমার অপরাধ হয়েছে । কোন অপরাধের কথা বলা হয়েছে ?

Answer: বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদাকে দেখে মুগ্ধ জগদীশবাবু নেমে এসে বিরাগীকে অভ্যর্থনা না জানানোয় বিরাগী অসন্তুষ্ট হন । সেই অসন্তোষকে শান্ত করতেই জগদীশবাবুর এমন উক্তি ।

  1. ‘ না না , হরিদা নয় । হতেই পারে না । বস্তুা ও তার সঙ্গীদের এই বিশ্বাসের কারণ কী ? 

Answer: বিরাগীর গলার স্বর , মুখের ভাষা ও চোখের দৃষ্টির সঙ্গে হরিদার কোনো মিল না থাকায় বিরাগীকে বক্তা ও তার বন্ধুদের হরিদা বলে মনে হয়নি ।

  1. পরমসুখ বলতে বিরাগী কী বুঝিয়েছেন ?

Answer: ‘ বহুরূপী ‘ গল্পে বিরাগীর মতানুসারে , সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে অনন্তের সাধনায় আত্মনিয়োগ করতে পারলেই ‘ পরমসুখ ’ লাভ করা যায় ।

  1. জগদীশবাবুকে বিরাগী কী উপদেশ দেন ?

Answer: বিরাগী জগদীশবাবুকে বলেন , ধন – জন – যৌবন আসলে মোহময় বঞ্চনা । মন – প্রাণ দিয়ে একজনের আপন হতে চেষ্টা করলে সৃষ্টির সব ঐশ্বর্যই লাভ করা যায় ।

  1. তীর্থযাত্রা সম্পর্কে বিরাগীর অভিমত কী ছিল ?

Answer: জগদীশবাবু তীর্থভ্রমণের জন্য বিরাগীকে একশো টাকা দিতে চাইলে বিরাগী বলেন , মানুষের অন্তরেই ঈশ্বরের বাস , সকল তীর্থের মিলনস্থল । তাই আলাদাভাবে তীর্থদর্শনের প্রয়োজনীয়তা নেই ।

  1. ‘ চমকে ওঠে ভবতোষ । — ভবতোষের চমকে ওঠার কারণ কী ?

Answer: হরিদার বাড়িতে ঢুকে তার পোশাক ইত্যাদি দেখে ভবতোষরা বুঝতে পারল যে , হরিদাই আসলে বিরাগী । তখন তারা চমকে ওঠে । 

  1. ‘ তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যাবে । -বক্তা কোন্ প্রসঙ্গে উক্তিটি করেছেন ?

Answer: এক্ষেত্রে বক্তা হলেন হরিদা । জগদীশবাবু বিরাগী – বেশী হরিদাকে প্রণামী দিতে গেলে তিনি তা নেন না । কারণ সে বিরাগীর ছদ্মবেশে টাকা নিলে তাতে অভিনয়ের ঢং নষ্ট হয় ।

  1. হরিদার কাছে লেখক ও তাঁর বন্ধুরা কী গল্প করেছিলেন ? 

Answer: হিমালয়ের এক উঁচুদরের সন্ন্যাসী জগদীশবাবুর বাড়িতে সাত দিন ছিলেন । তাঁর বয়স হাজার বছরেরও বেশি । তিনি বছরে একটি মাত্র হরীতকী খান । সেই গল্পই লেখক ও তাঁর বন্ধুরা করেছিলেন ।

  1. ‘ আক্ষেপ করেন হরিদা – হরিদার এই আক্ষেপের কারণ কী ছিল ? 

Answer: হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসীর মাহাত্ম্যের কথা শুনে তাঁর পায়ের ধুলো নিতে চান । কিন্তু সন্ন্যাসী চলে যাওয়ায় হরিদার সেই ইচ্ছা আক্ষেপে পরিণত হয় ।

  1. ‘ বাঃ , এ তো বেশ মজার ব্যাপার ! ‘ — মজার ব্যাপারটি কী ? 

Answer: মজার ব্যাপারটি হল সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো দুর্লভ হলেও কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে তাঁর পায়ের কাছে ধরতেই তিনি পা বাড়িয়ে দিলেন । সেই ফাঁকে জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো নিয়েছিলেন ।

MCQ প্রশ্ন ও উত্তর | বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন | Madhyamik Bengali Suggestion :

  1. হরিদার মতে সব তীর্থ—(A) মানুষের বুকের ভিতর (B) গভীর অরণ্যে(C) শূন্য আকাশে (D) হিমালয়ের চূড়ায়

Answer: (A) মানুষের বুকের ভিতর 

  1. ভবতোষ চেঁচিয়ে উঠেছিল—(A) হরিদার বাঘ সাজা দেখে (B) জগদীশবাবুর টাকার পরিমাণ শুনে (C) বকশিশের কথা শুনে (D) হরিদার টাকা ত্যাগ করার কথায় 

Answer: (C) বকশিশের কথা শুনে

  1. হরিদা পুলিশ সেজে দাঁড়িয়েছিলেন— (A) লিচু বাগানে (B) দালানে (C) বাস স্ট্যান্ডে 

Answer: (A) লিচু বাগানে

  1. লিচু বাগানে নকল পুলিশ স্কুলের যে ক – টি ছেলেকে ধরেছিলেন , তার সংখ্যা হল – (A) পাঁচ (B) চার (C) আট(D) ছয় 

Answer: (B) চার

  1. নকল পুলিশকে ঘুষ দিয়েছিলেন— (A) জগদীশবাবু(B) ড্রাইভার কাশীনাথ (C) হরিদা (D) স্কুলের মাস্টারমশাই

Answer: (D) স্কুলের মাস্টারমশাই

  1. জগদীশবাবু কেমন স্বভাবের মানুষ ছিলেন ? (A) উদার (B) কৃপণ(C) কপট(D) বিকৃত

Answer: (B) কৃপণ

  1. বড়ো চমৎকার ছিল কোন সময়ের চেহারা ? (A) রাতের(B) সকালের(C) সন্ধ্যার(D) ভোরের

Answer: (C) সন্ধ্যার

  1. বিরাগীরুপী হরিদার গায়ে ছিল কেবলমাত্র একটি— (A) জামা (B) পাঞ্জাবি (C) শাল(D) উত্তরীয়

Answer: (D) উত্তরীয়

  1. বিরাগীর ঝোলার ভিতর যে – বইটি ছিল , সেটি হল—  (A) গীতা (B) কোরান(C) মহাভারত (D) উপনিষদ 

Answer: (A) গীতা

  1. জগদীশবাবুর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল— (A) বারো লক্ষ টাকার (B) কুড়ি লক্ষ টাকার (C) আঠারো লক্ষ টাকার(D) এগারো লক্ষ টাকার 

Answer: (D) এগারো লক্ষ টাকার

  1. রাগ হল এক ধরনের—(A) অনুভূতি (B) প্রবৃত্তি (C) রিপু (D) আচরণ

Answer: (C) রিপু

  1. লেখকের কানের কাছে ফিশফিশ করে যে – বলেছিল — ‘ না না , হরিদা নয় । হতেই পারে না । ‘ তার নাম হল – (A) ভবতোষ (B) জগদীশ (C) সুবোধ(D) অনাদি

Answer: (A) ভবতোষ

  1. জগদীশবাবু বিরাগীজিকে প্রণামী দিয়েছিলেন— (A) পঞ্চাশ টাকা (B) পঁচিশ টাকা (C) একশো টাকা (D) দেড়শো টাকা 

Answer: (C) একশো টাকা

  1. বিরাগী আসলে ছিলেন -(A) হরিদা (B) জগদীশবাবু (C) সন্ন্যাসী (D) পাগল

Answer: (A) হরিদা

  1. ভবতোষ ভেবেছিল জগদীশবাবু হরিদাকে বকশিশ হিসেবে দেবেন -(A) আট আনা বা দশ আনা (B) দশ আনা বা বারো আনা (C) ছ – আনা বা আট আনা (D) পাঁচ আনা

Answer: (A) আট আনা বা দশ আনা

  1. সপ্তাহে হরিদা বহুরূপী সেজে বাইরে যান— (A) একদিন (B) দু – দিন (C) চার দিন (D) পাঁচ দিন 

Answer: (A) একদিন

  1. সন্ন্যাসী সারাবছর খেতেন— (A) একটি বেল(B) একটি আমলকী (C) একটি বহেড়া (D) একটি হরীতকী

Answer: (D) একটি হরীতকী

  1. ‘ বাসের যাত্রীরা কেউ হাসে , কেউ বা বেশ বিরক্ত হয় কেউ আবার বেশ বিস্মিত ।’— বাসযাত্রীদের এমন প্রতিক্রিয়ার কারণ – (A) বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ বহুরূপী হরিদাকে ধমক দিয়েছে (B) বহুরূপী হরিদার পাগলের সাজটা চমৎকার (C) হরিদা আজ একজন বাউল সেজে এসেছেন (D) কাপালিক সেজে এলেও হরিদা কোনো পয়সা নেন না

Answer: (B) বহুরূপী হরিদার পাগলের সাজটা চমৎকার

  1. ‘ সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস ‘ — দুর্লভ জিনিসটি হল— (A) সন্ন্যাসীর আশীর্বাদ (B) সন্ন্যাসীর সান্নিধ্য (C) সন্ন্যাসীর উপদেশ (D) সন্ন্যাসীর পদধূলি

Answer: (D) সন্ন্যাসীর পদধূলি

  1. হরিদার শীর্ণ শরীরটা দেখে মনে হয়েছিল -(A) মহাপুরুষ(B) অশরীরী (C) অতিমানব (D) বহুরূপী

Answer: (B) অশরীরী

  1. ‘ ঘুষ নিয়ে তারপর মাস্টারের অনুরোধে রক্ষা করেছিলেন সেই নকল – পুলিশ হরিদা’— ঘুষের পরিমাণ কত ? (A) চার আনা (B) আট আনা (C) আট টাকা (D) পঁচিশ টাকা

Answer: (B) আট আনা;

  1. বিরাগীর চোখ থেকে ঝরে পড়েছিল -(A) ক্ষমা (B) অশ্রু (C) জ্যোৎস্না (D) ক্রোধ

Answer: (C) জ্যোৎস্না

  1. সন্ন্যাসী জগদীশবাবুর বাড়িতে ছিলেন – (A) সাত দিন (B) সাত মাস (C) সাত সপ্তাহ (D) সাত বছর

Answer: (A) সাত দিন

  1. সন্ন্যাসীকে বিদায় দেওয়ার সময় জগদীশবাবু তাকে জোর করে দিয়েছিলেন—(A) একটা দশ টাকার নোট (B) একটা পঞ্চাশ টাকার নোট (C) একটা কুড়ি টাকার নোট (D) একটা একশো টাকার নোট 

Answer: (D) একটা একশো টাকার নোট

  1. হরিদার ঘরে আড্ডা দিত— (A) পাঁচ জন(B) চার জন (C) তিন জন (D) ছ – জন 

Answer: (B) চার জন

  1. লেখক ও তার বন্ধুরা কোন কোন সময়ে আড্ডা দিতেন ? (A) রাত্রে (B) সকাল – দুপুরে(C) রাতদিন(D) সকালসন্ধে

Answer: (D) সকালসন্ধে

  1. হরিদার কাছে যা অসম্ভব , তা হল – (A) রোজই ভাত রান্না করা(B) রোজ চা তৈরি করা(C) রোজ বহুরূপী সাজা (D) রোজই একটা চাকরির কাজ করে যাওয়া

Answer: (D) রোজই একটা চাকরির কাজ করে যাওয়া

  1. হরিদার ছোট্ট ঘরটির অবস্থান – (A) শহরের সবচেয়ে সরু গলির ভিতরে (B) চকের বাস স্ট্যান্ডের কাছে (C) দয়ালবাবুর লিচু বাগানে (D) জগদীশবাবুর বাড়ির বাগানে

Answer: (A) শহরের সবচেয়ে সরু গলির ভিতরে

  1. হরিদার জীবনজুড়ে ছিল – (A) ভয়ানক আপত্তি (B) বিচিত্র ছদ্মবেশ (C) করুণ আবেদন (D) নাটকীয় বৈচিত্র্য

Answer: (D) নাটকীয় বৈচিত্র্য

  1. মাঝে মাঝে সত্যিই হরিদা যা করতেন , তা হল – (A) রোজগার (B) বিরাগ (C) উপোস (D) সন্দেহ

Answer: (C) উপোস

  1. যারা বহুরুপীর সাজে হরিদাকে চিনতে পারে তারা বকশিশ দেয় -(A) এক আনা (B) এক পয়সা (C) এক টাকা (D) এক আনা দু – আনা

Answer: (D) এক আনা দু – আনা

  1. দুপুরবেলায় আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠেছিল- (A) শহরের সবচেয়ে সরু গলিটিতে (B) জগদীশবাবুর বাড়ির বাগানে (C) দয়ালবাবুর লিচু বাগানে (D) চাকের বাস স্ট্যান্ডে

Answer: (D) চাকের বাস স্ট্যান্ডে

  1. চাকর বাস স্ট্যান্ডে আতঙ্কের হল্লা বেজে ওঠার কারণ ছিল -(A) একজন বাইজি(B) একটি উন্মাদ পাগল (C) একজন সন্ন্যাসী (D) একজন কাপালিক

Answer: (B) একটি উন্মাদ পাগল

  1. পাগলটা যা হাতে তুলে নিয়ে বাসের যাত্রীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছিল , তা হল -(A) একটা পাথর (B) একটা থান ইট (C) একটা লাঠি (D) একটা ঢিল

Answer: (B) একটা থান ইট

  1. বাসের ড্রাইভারের নাম ছিল – (A) ভবতোষ (B) অনাদি (C) কাশীনাথ (D) জগদীশ

Answer: (C) কাশীনাথ

  1. ‘ খুব হয়েছে হরি , এইবার সরে পড়ো । অন্যদিকে যাও ।’ কথা বলেছে – (A) ভবতোষ (B) অনাদি (C) কাশীনাথ (D) জনৈক বাসযাত্রী

Answer: (C) কাশীনাথ

  1. প্রায় নাচতে নাচতে চলে যাচ্ছিল— (A) একজন কাপালিক (B) একজন সন্ন্যাসী (C) একজন বাইজি (D) একটি পাগল 

Answer: (C) একজন বাইজি

  1. শহরে যারা নতুন এসেছে , তারা -(A) বেশ বিরক্ত হয় (B) ভয়ে কেঁদে ফেলে(C) দু – চোখ বড়ো করে তাকিয়ে থাকে (D) হতাশ স্বরে প্রশ্ন করে ওঠে

Answer: (C) দু – চোখ বড়ো করে তাকিয়ে থাকে

  1. বাইজির ছদ্মবেশে হরিদার রোজগার হয়েছিল— (A) আট টাকা দশ আনা (B) আট টাকা তিন আনা (C) দশ টাকা আট আনা (D) তিন টাকা আট আনা

Answer: (A) আট টাকা দশ আনা

  1. দয়ালবাবুর লিচু বাগানের ভিতরে হরিদা দাঁড়িয়েছিল— (A) ফিরিঙ্গি কেরামিন সাহেব সেজে (B) পুলিশ সেজে (C) স্কুলের মাস্টারমশাই সেজে (D) বাউল সেজে

Answer: (B) পুলিশ সেজে

  1. সন্ন্যাসী থাকেন – (A) হিমালয়ের চূড়াতে (B) মরুভূমিতে(C) হিমালয়ের গুহাতে(D) বনভূমিতে
  2. জগদীশবাবুর বাড়িতে আগত সন্ন্যাসীর বয়স – (A) একশো বছর (B) হাজার বছরের বেশি (C) একশো বছরের বেশি (D) হাজার বছর

Answer: (B) হাজার বছরের বেশি

  1. জগদীশবাবু একজোড়া কাঠের খড়মে যা লাগিয়ে সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে ধরলেন , তা হল -(A) সোনার বোল (B) সোনার মল (C) সোনার আংটি (D) সোনার ঘুঙুর

Answer: (A) সোনার বোল

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন | Madhyamik Bengali Suggestion : 

  1. ‘ অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না। ‘ অদৃষ্ট ‘ বলতে কী বোঝ ? হরিদার সম্পর্কে এমন উক্তি কেন করা হয়েছে ?

Answer: প্রশ্নোদ্ভূত অংশটি সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ‘ গল্প থেকে নেওয়া । এখানে ‘ অদৃষ্ট ‘ বলতে ভাগ্য , কপাল বা বিধির কথা বলা হয়েছে । ” 

   বহুরূপী হরিদার বিরাগী – রূপ দেখে মুগ্ধ ও কৃতার্থ জগদীশবাবু তাঁকে একশো এক টাকা প্রণামী দেন । কিন্তু খাঁটি সন্ন্যাসীর মতোই হরিদা তা প্রশ্নোত উক্তির অবলীলায় ফেলে দিয়ে চলে আসেন । কারণ টাকা নিলে তার ঢং নষ্ট হয়ে যেত । অথচ হরিদা নিতান্ত কারণ দরিদ্র মানুষ । বহু রূপ দেখিয়ে তাঁর যৎসামান্য রোজগারে হরিদার দিন চলে । বেশিরভাগ দিন চাল না থাকায় তাঁর হাঁড়িতে শুধু জলই ফুটে যায় । এমন মানুষের পক্ষে অতগুলো টাকা পেয়েও না – নেওয়ার বিলাসিতা ; ভবিষ্যতে তাঁর দুর্ভোগ বাড়াবে । এ কথা বোঝাতেই উপরোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে ।

  1. ‘ হরিদার উনানের হাঁড়িতে অনেক সময় শুধু জল ফোটে , ভাত ফোটে না । – হরিদার উপার্জনের উপায় কী ছিল ? অনেক সময় তাঁর হাঁড়িতে ভাত না – ফুটে কেবল জল ফোটে কেন ?

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরুপী ‘ গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদা পেশায় ছিলেন বহুরূপী । মাঝে মাঝে বহুরূপী সেজে খেলা দেখিয়ে যা রোজগার হত ; তা দিয়েই তিনি জীবিকানির্বাহ করতেন । 

  হরিদার উপার্জনের উপায় হরিদার বাস্তব জীবন 

হরিদা খুব গরিব মানুষ হলেও , গতে বাঁধা কাজ করায় তাঁর প্রাণের মধ্যেই যেন একটা বাধা ছিল । মনে করলে তিনি কোনো অফিসে বা দোকানে বিক্রিওয়ালার কাজ পেয়ে যেতেন । কিন্তু এ ধরনের কাজ তাঁর পছন্দ ছিল না । ঘড়ির কাঁটার সময় ধরে নিয়মমাফিক রোজ একটা চাকরি করতে যাওয়া হরিদার পক্ষে অসম্ভব ছিল । তাই তাঁর উনানের হাঁড়িতে অনেক সময়েই শুধু জল ফুটলেও ; ভাত ফুটত না । 

  1. ‘ আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো ? কাকে এ কথা বলা হয়েছে ? তাঁকে এ কথা বলা হয়েছে কেন ?

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ‘ গল্পে বিরাগী – বেশী হরিদা জগদীশবাবুকে কথাগুলি বলেছিলেন । 

এক সন্ধ্যায় হরিদা বিরাগীর ছদ্মবেশে জগদীশবাবুর বাড়িতে হাজির হন । জগদীশবাবু তখন বারান্দায় চেয়ারের ওপর বসেছিলেন । বিরাগীকে দেখতে প্রশ্নোস্তৃত কথাটি । পেয়ে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানান । বলার কারণ । তখন বিরাগী আলোচ্য উক্তিটি করে জগদীশবাবুকে জানান , জগদীশবাবু নিশ্চয়ই সম্পত্তির অহংকারে নিজেকে ভগবানের চেয়েও বড়ো মনে করেন । তা না হলে তিনি অবশ্যই বিরাগীকে অভ্যর্থনা জানাতে বারান্দা থেকে নেমে আসতেন । 

  1. ‘ বিরাগীর পায়ের কাছে থলিটাকে রেখে দিয়ে ব্যাকুল স্বরে প্রার্থনা করে জগদীশবাবু— বিরাগী কে ? তার কাছে জগদীশবাবুর প্রার্থনার কারণ কী ?

Answer: ‘ বিরাগী ‘ হলেন সর্বত্যাগী সাধুবেশী বহুরূপী হরিদা । । ধনী ও কৃপণ জগদীশবাবু সাধুসঙ্গ করে পুণ্য অর্জন করতে চান । ছদ্মবেশী বিরাগীকে দেখে ও তাঁর মুখে দার্শনিক উক্তি শুনে তিনি মুগ্ধ হয়ে যান । বিরাগীকে নিজের বাড়িতে কয়েকদিন থাকতে জগদীশবাবুর প্রার্থনা অনুরোধ জানিয়েও যখন লাভ হয় না , তখন জগদীশবাবু তাঁকে একশো এক টাকা প্রণামী দিতে চান । এই প্রণামী যাতে বিরাগী তীর্থ ভ্রমণের খরচ হিসেবে গ্রহণ করেন , তাই তিনি ব্যাকুল মনে প্রার্থনা করতে থাকেন ।

  1. ‘ অনাদি বলে — এটা কী কাণ্ড করলেন , হরিদা ? -কোন্ কার্ডের কথা বলা হয়েছে ? কাণ্ডটি বিস্ময়কর কেন ?

Answer: কাণ্ডটি হল জগদীশবাবু হরিদাকে সত্যি সত্যিই বিরাগী ভেবে একশো এক টাকা প্রণামী দিতে চাইলেও বিরাগী – বেশী হরিদা তা নিতে অস্বীকার করেন । 

  হরিদা ছিলেন মূলত একজন গরিব মানুষ , উপোস যাঁর প্রায় নিত্যসঙ্গী । বহুরূপীর পেশার অতিসামান্য রোজগারে তাঁর দিন কাঙটি বিস্ময়কর চলত । তবুও হাতের কাছে একশো এক টাকা পেয়ে কেন তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন কেবলমাত্র তাঁর সাজা চরিত্রের সঙ্গে অর্থলোলুপতা মানায় না বলে । শুধুমাত্র পেশার মানরক্ষার জন্য এই ত্যাগ সত্যিই বিস্ময়কর ।

  1. ‘ তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায় । —ঢং বলতে এখানে কী বোঝানো হয়েছে ? কীসে ঢং নষ্ট হয়ে যাবে ? 

Answer: উদ্ধৃতাংশে বিরাগী সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে হরিদাকে তাঁর যে আচরণ আত্মস্থ করতে হয়েছিল , তাকেই ঢং বলা হয়েছে । হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে এমন একজন বিরাগী সন্ন্যাসী সেজে গিয়েছিলেন , যিনি সমস্ত পার্থিব বস্তুর প্রতি উদাসীন । এহেন সন্ন্যাসী যদি সামান্য একশো এক টাকার লোভ সংবরণ করতে না পারেন , তবে বিরাগীর আচরণের সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের কোনো সাদৃশ্য থাকবে না । সম্পূর্ণ অভিনয়টিই মাঠে মারা যাবে । একেই ঢং নষ্ট হয়ে যাওয়া বলা হয়েছে । আসলে এক্ষেত্রে বহুরুপী হরিদার আচরণে তাঁর স্বরূপটি প্রকাশ পেয়েছিল ।

  1. যাবই তো । না গিয়ে উপায় কী ? ‘ — কোথায় যাওয়ার কথা বলা হয়েছে ? না গিয়ে উপায় নেই কেন ?

Answer: ‘ বহুরূপী ‘ গল্প থেকে উদ্ধৃত উক্তিটিতে পাড়ার ধনী ব্যক্তি জগদীশবাবুর কাছে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে । না – গিয়ে উপায় → হরিদা বহুরূপী । নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে মানুষের মনোরঞ্জন করাই তাঁর পেশা । মানুষ খুশি হয়ে যা টাকাপয়সা দেয় , তাতেই তাঁর দিন চলে । জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগী সেজে গেলেও তাঁর দেওয়া প্রণামীর টাকা তিনি নেন না । কারণ , তাতে হরিদাকৃত বিরাগী চরিত্রের মান যেত । কিন্তু বহুরূপী হিসেবে হরিদার যে পারিশ্রমিক প্রাপ্য , তা নিতে তাঁকে একবার জগদীশবাবুর কাছে যেতেই হবে ।

  1. ‘ কী অদ্ভুত কথা বললেন হরিদা ! ‘ — বক্তা কে ? বক্তার কাছে হরিদার কথা অদ্ভুত বলে মনে হয়েছে কেন ? 

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশটির বক্তা লেখক । 

  বিরাগী – বেশধারী হরিদাকে দেখে কৃতার্থ হয়ে জগদীশবাবু তাকে একশো এক টাকা প্রণামী দেন । কিন্তু হরিদা খাঁটি সন্ন্যাসীর মতোই তা হেলায় ফেলে বক্তার কাছে হরিদার দিয়ে চলে আসেন । দরিদ্র হরিদাকে এমন কাণ্ড করতে দেখে ভবতোষ অনাদিরা অবাক হয়ে এর কারণ জানতে চায় । যে – মানুষের বাড়িতে অধিকাংশ দিন ভাতের হাঁড়িতে শুধু জল ফোটে , সে যখন বলে , সন্ন্যাসী সেজে টাকা নিলে ঢং নষ্ট হয়ে যেত ; তাই ইচ্ছেই হয়নি । তখন উপস্থিত সকলের কাছে তা অদ্ভুত বলে মনে হয় ।

  1. ‘ হরির কাণ্ড । – হরি কে ? হরির কান্ড বলতে কোন্ ঘটনার কথা বলা হয়েছে ?

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ‘ গল্পের প্রধান চরিত্র পেশায় বহুরূপী হরিদার কথা এখানে বলা হয়েছে । 

  হরিদার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্য লুকিয়ে ছিল তাঁর পেশায় । তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপ ধরে খেলা দেখিয়ে নিজের জীবিকানির্বাহ করতেন । ফলে শহরের জীবনেও মাঝে মাঝে বেশ চমৎকার ঘটনা তৈরি হত । একদিন সন্ধের আলোয় দোকানে দোকানে সবে লোকজনের ব্যস্ততা ও মুখরতা জমে উঠেছে , সেইসময় পথের ওপর ঘুঙুরের মিষ্টি আওয়াজ ভেসে আসে । দেখা যায় এক রূপসি বাইজি নাচতে নাচতে চলে যাচ্ছে । নতুনেরা অবাক হয়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকে । কিন্তু একজন দোকানদার তাকে চিনতে পেরে হেসে ফেলে প্রশ্নোত মন্তব্যটি করে । এখানে সেই ঘটনার কথা বলা হয়েছে ।

  1. ‘ একটু পরেই বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ ধমক দেয় । — বাসের ড্রাইভার কাকে , কী বলে ধমক দিয়েছিল ? তাকে ধমক দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছিল কেন ?

Answer: প্রথম অংশের উত্তরের জন্য 28 নং প্রশ্নের উত্তর দ্যাখো । একদিন দুপুরবেলা চকের বাস স্ট্যান্ডে এক পাগলের আবির্ভাব ঘটে । 

  তার মুখ থেকে লালা ঝরে পড়ছে , চোখ কটকটে লাল , কোমরে একটা ছেঁড়া কম্বল জড়ানো আর গলায় টিনের কৌটোর কাশীনাথের ধমকের মালা । সে হাতে একটা থান ইট নিয়ে বাসযাত্রীদের কারণ দিকে তেড়ে যাচ্ছে । ফলে পাগলের কাণ্ড – কারখানায় চারপাশে ভীতি আর আতঙ্কের একটা হল্লা ওঠে । এই পরিস্থিতিতে পাগল – রূপী হরিদাকে থামাতে এবং বাকিদের আশ্বস্ত করতে কাশীনাথ ধমক দিয়েছিল ।

  1. ‘ হরিদার কাছে আমরাই গল্প করে বললাম , – হরিদা কে ? তাঁর কাছে বক্তা কী গল্প করেছিল ?

Answer: সুবোধ ঘোষ রচিত ‘ বহুরূপী ‘ গল্পের মুখ্য চরিত্র হল হরিদা । হরিদার পরিচয় তিনি পেশায় একজন বহুরূপী । তাঁর জীবনে অনেক অভাব থাকা সত্ত্বেও নিজের পেশার প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল ছিল ।

  বক্তা ও তাঁর বন্ধুরা হরিদাকে জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসীর কথা জানিয়েছিলেন । হিমালয় থেকে আসা সেই সন্ন্যাসী সারাবছরে শুধু একটা হরীতকী খান । সন্ন্যাসী হলেও তিনি জগদীশবাবুর কাছ থেকে সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম ও একশো এক টাকা দক্ষিণা গ্রহণ করেছিলেন । 

  1. ঘটনাটি মজার কেন ‘ কিন্তু কাজ করতে হরিদার প্রাণের মধ্যেই যেন একটা বাধা আছে ? — কোন কাজের কথা বলা হয়েছে ? ‘ হরিদার প্রাণের মধ্যেই যেন একটা বাধা আছে ? —বাক্যটির অর্থ পরিস্ফুট করো ।

Answer: ‘ বহুরূপী ’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশে ‘ কাজ ‘ বলতে যে – কোনো নিয়মমাফিক ঘড়িধরা সময়ের চাকরির কথা বলা হয়েছে । হরিদা নিজের খুশিমতো বহুরূপী সাজেন ; যখন ইচ্ছা , যেদিন ইচ্ছা । প্রশ্নোদৃত বাক্যের কিন্তু যে কাজে বাধ্যবাধকতা রয়েছে , সে – কাজ অর্থ পরিস্ফুটন করার মতো মানসিকতা তাঁর নেই । তিনি মুক্ত পুরুষ । সংসারে যেমন তাঁর কোনো বন্ধন নেই , তেমনি আর্থিক বন্ধনেও জড়িয়ে পড়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় । হরিদার শিল্পীস্বভাব এবং অন্তর্মনের বৈরাগ্যই এর প্রধান কারণ ।

  1. ‘ হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে ? —জীবনে নাটকীয় বৈচিত্র্য বলতে কী বোঝ ? হরিদার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্যটি কী ?

Answer: ‘ নাটকীয় ‘ শব্দটির অর্থ হল যা নাটকের মতো , অর্থাৎ ঘটনাবহুল বৈচিত্র্যময় দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে মানুষের জীবনে । নাটকীয় বৈচিত্র্য নাটকীয়তা থাকা একান্তভাবে প্রয়োজন । তবেই জীবন উপভোগ্য হয়ে ওঠে । এখানে সেই ব্যতিক্রমকেই নাটকীয় বৈচিত্র্য বলা হয়েছে । হরিদার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্য ছিল তাঁর বৃত্তি অর্থাৎ বহুরূপী সেঙে মানুষকে চমকে দেওয়ার পেশা । এতে তাঁর রোজগার সামান্য হলেও তাঁর জীবনে বৈচিত্রা এনে দেয় এই পেশা ।

  1. ‘ একদিন চকের বাস স্ট্যান্ডের কাছে ঠিক দুপুরবেলাতে একটা আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠেছিল ।’— ‘ আতঙ্কের হল্লা ‘ বলতে কী বোঝানো হয়েছে ? চকের বাস স্ট্যান্ডের কাছে কী ঘটনা ঘটেছিল ?

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরুপী ‘ গল্পে ঠিক দুপুরবেলা চকের বাস স্ট্যান্ডে বহুরূপী হরিদাকে পাগলের বেশে দেখে সকলে চমকে উঠে ভয়ে চ্যাঁচামেচি শুরু করে । দিয়েছিল । একেই ‘ আতঙ্কের হল্লা ‘ বলা হয়েছে । চক্রে বাস স্ট্যান্ডে ঘটা ঘটনা ● চকের বাস স্ট্যান্ডে দুপুরবেলা এক পাগলের আবির্ভাবে সকলে ভীত হয়ে পড়ে । সেই পাগলের মুখ থেকে লালা ঝরে পড়ছিল , চোখ ছিল কটকটে লাল , কোমরে একটা ছেঁড়া কম্বল জড়ানো , গলায় টিনের কৌটোর মালা । হাতে থান ইট নিয়ে সে বাসের যাত্রীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছিল ।

  1. হরিদার জীবন এইরকম বহু রূপের খেলা দেখিয়েই একরকম চলে যাচ্ছে । – হরিদার জীবনের ‘ বহু রূপের খেলা ” -র পরিচয় দাও ।

Answer: গল্পকার সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ‘ গল্পে হরিদা মাঝে মাঝে বিভিন্ন সাজে সেজে রাস্তায় বেরোতেন- কখনও পাগল , কখনও – বা রুপসি বাইজি , কখনও বাউল , কাপালিক ; কোনো দিন বুড়ো কাবুলিওয়ালা , কোনো দিন – বা হ্যাট – কোট – প্যান্ট পরা ফিরিঙ্গি সাহেব । একবার তিনি পুলিশ সেজে স্কুলের মাস্টারমশাই ও তাঁর ছাত্রদের চোখে ধুলো দিয়েছিল । বাইজির সাজেই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেশি উপার্জন হয়েছিল । তবে হরিদার সেরা রূপ ছিল জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগীর ছদ্মবেশ ।

  1. মোট আট টাকা দশ আনা পেয়েছিলেন।— কে পেয়েছিলেন । কী কারণে তিনি টাকাটা পেয়েছিলেন ?

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ‘ গল্পের মুখ্য চরিত্র বহুরূপী হরিদা | মোট আট টাকা দশ আনা পেয়েছিলেন । টাকা পাওয়ার কারণ হরিদা মাঝে মাঝেই বিভিন্ন ছদ্মবেশে সকলকে চমকে দিতেন । একদিন সন্ধ্যাবেলা হঠাৎ এক সুন্দরী বাইজির ঘুঙুরের শব্দে মানুষজন সচকিত হয়ে । ওঠে । সে এক একটি দোকানের সামনে যায় এবং একটি ফুলসাজি এগিয়ে দেয় । দোকানদার সাজিতে একটি সিকি ফেলে দেয় । এই দৃশ্য দেখে নতুন লোকেরা অবাক ও চেনা লোকেরা মুগ্ধ হয়ে যায় । অনেকেই টাকা দেয় । এভাবেই হরিদা টাকাটা পেয়েছিলেন ।

  1. পরদিন অবশ্য স্কুলের মাস্টারমশাইয়ের জানতে বাকি থাকেনি , — কোন ঘটনা জানতে স্কুলের মাস্টারমশাইয়ের বাকি থাকেনি । এতে মাস্টারমশাইয়ের প্রতিক্রিয়া কী ছিল ?

Answer: ‘ বহুরূপী ‘ গল্পে হরিদা একদিন পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর লিচু বাগানে স্কুলের চারজন ছাত্রকে হাতেনাতে ধরেছিলেন । স্কুলের মাস্টারমশাই স্বয়ৎ এসে ক্ষমা চেয়ে ও আট আনা ঘুষ দিয়ে ছাত্রদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান । হরিদার পুলিশ সাজার ও তাঁর কাছ থেকে আট আনা ঘুষের গোপন কাহিনি জানতে স্কুলের মাস্টারমশাইয়ের আর বাকি থাকেনি । → সব কিছু জানার পর মাস্টারমশাই এতটুকুও রাগ করেননি । বরং হরিদার মাস্টারমশাই – এর অসম্ভব সুন্দর অভিনয় ও সাজের জন্য তাঁর প্রশংসা প্রতিক্রিয়া করেছিলেন ।

  1. ‘ আমি বলছি তোমরা সেখানে থেকো।- ‘ আমি ‘ ও “ তোমরা বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে ? শ্রোতাদের সেখানে থাকার কথা কেন বলা হয়েছে ?

Answer: আলোচ্য অংশে ‘ আমি ’ বলতে সুবোধ ঘোষ রচিত ‘ ‘ বহুরূপী ‘ ‘ আমি ‘ ও ‘ তোমারা গল্পের মুখ্য চরিত্র হরিদাকে এবং ‘ তোমরা ’ বলতে কথক ও তার বন্ধু ভবতোষ , অনাদি প্রমুখকে বোঝানো হয়েছে । শ্রোতাদের থাকতে বলার কারণ → সেদিন সন্ধ্যাবেলায় হরিদা পাড়ার ধনী ব্যক্তি জগদীশবাবুর বাড়িতে কথক ও তাঁর বন্ধুদের থাকার কথা বলেছিলেন । কারণ হরিদা সেদিন জগদীশবাবুর বাড়িতে সর্বস্বত্যাগী সন্ন্যাসী সেজে , এক জবর খেলা দেখানোর মতলব করেছিলেন । কিন্তু দর্শক না থাকলে বহুরূপীর সাজ বৃথা হবে । তাই তাদের সেদিন হরিদা সেখানে উপস্থিত থাকতে বলেছিলেন । 

  1. বড়ো চমৎকার আজকে এই সন্ধ্যার চেহারা / -সন্ধ্যার চেহারার বর্ণনা দাও ।

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ‘ গল্পে হরিদা কথক ও তাঁর বন্ধুদের এক অত্যাশ্চর্য খেলা দেখার আমন্ত্রণ জানান পাড়ার ধনী ব্যক্তি জগদীশবাবুর বাড়িতে । সেদিনের সন্ধ্যায় প্রকৃতিও যেন হরিদাকে সঙ্গ দিয়েছিল । স্নিগ্ধ ও উজ্জ্বল চাঁদের আলো দীর্ঘকাল পরে শহরের পরিবেশকে সুন্দর করে তুলেছিল । ফুরফুরে বাতাসে জগদীশবাবুর বাড়ির বাগানের গাছের পাতা ঝিরিঝিরি করে যেন কিছু বলতে চাইছিল । এমন মায়াময় পরিবেশেই আবির্ভাব হয়েছিল বিরাগী – রূপী হরিদার ।

  1. ‘ খুব উঁচু দরের সন্ন্যাসী । — সন্ন্যাসীর পরিচয় দাও ।  

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ‘ গল্পে আমরা এক সন্ন্যাসীর পরিচয় পাই । পাড়ার ধনী ব্যক্তি জগদীশবাবুর বাড়িতে সেই সন্ন্যাসী সাত দিন ছিলেন । তিনি সন্ন্যাসীর পরিচয় হিমালয়ের গুহায় থাকতেন । তাঁর সারাবছরের খাদ্য একটি মাত্র হরীতকী , বয়স হাজারেরও বেশি । তাঁর পদধুলি দুর্লভ , জগদীশবাবু ছাড়া কেউ পাননি । তবে এহেন সর্বস্বত্যাগীর প্রকৃত স্বরূপ বোঝা যায় তখন , যখন জগদীশবাবুর দেওয়া সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম ও একশো টাকার নোট সানন্দ চিত্তে গ্রহণ করেন । 

  1. ‘ বাঃ , এ তো বেশ মজার ব্যাপার ! —কোন ঘটনাকে মজার ব্যাপার বলা হয়েছে ? ঘটনাটি মজার কেন ?

Answer: ‘ বহুরূপী ‘ গল্প অনুসারে জগদীশবাবুর বাড়িতে হিমালয় থেকে যে সন্ন্যাসী এসেছিলেন , তিনি এতই উঁচু দরের যে , কাউকে পদধূলি গ্রহণের ঘটনার পরিচয় অনুমতি পর্যন্ত দিতেন না । শেষপর্যন্ত জগদীশবাবু তাঁর কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে পায়ের সামনে ধরলে সন্ন্যাসী পা এগিয়ে দিয়েছিলেন । এভাবে একমাত্র জগদীশবাবুই তাঁর পদধূলি পেতে সক্ষম হয়েছিলেন । 

  মুখ্য চরিত্র হরিদার মতে , ঘটনাটি মজার । কারণ , সর্বস্বত্যাগী হিমালয়বাসী সন্ন্যাসী ও সোনার আকর্ষণ অগ্রাহ্য করতে পারেননি ।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর | বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন | Madhyamik Bengali Suggestion : 

1. ‘ বহুরূপী ‘ গল্পে যে – হিমালয়বাসী সন্ন্যাসীর প্রসঙ্গ আছে , তার চরিত্রবিশ্লেষণ করো । 

Answer: ছোটোগল্পকার সুবোধ ঘোষ রচিত ‘ বহুরূপী ‘ গল্পে জগদীশবাবুর বাড়িতে আশ্রিত এক হিমালয়বাসী সন্ন্যাসীর কথা জানা যায় পাড়ার কিছু যুবকের মুখ থেকে । বড়োলোক জগদীশবাবুর বাড়িতে সন্ন্যাসী সাত দিন অবস্থান করেন । এই সন্ন্যাসী নাকি হিমালয়ের গুহাতে থাকেন । সারা বছরে একটি হরীতকী ছাড়া তিনি আর কিছু খান না । সন্ন্যাসীর বয়স নাকি হাজার বছরেরও বেশি । নিজের সম্পর্কে তাঁর উচ্চ ধারণা তাঁর ভিতরে এক ধরনের গৃহীসুলভ অহংবোধের জন্ম দিয়েছিল । তাই সাধারণ মানুষকে তাঁর পদধূলি নেওয়ারও অনুমতি তিনি দিতেন না । অথচ যে – সন্ন্যাসী সর্বস্বত্যাগী , তিনি কাঠের খড়মে লাগানো সোনার বোল দেখে আপ্লুত হয়ে পা বাড়িয়ে দেন জগদীশবাবুর দিকে । আবার হিমালয়বাসী সন্ন্যাসী জগদীশবাবুর দেওয়া একশো টাকা প্রণামীও প্রত্যাখ্যান করেন না , বরং মুচকি হাসির মধ্য দিয়ে তা গ্রহণ করে জগদীশবাবুকে বাধিত করেছেন । মোটের ওপর , সন্ন্যাসীর আচরণ ও তাঁর সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্যাবলির মধ্যে যে – বৈপরীত্য ও অসংগতি খুঁজে পাওয়া যায় , তার নিরিখে এ কথা স্পষ্ট যে , তিনি প্রকৃত সন্ন্যাসী ছিলেন না ।

2. ‘ বহুরূপী ‘ গল্পে হরিদা বহুরূপী হিসেবে কতখানি সফল ছিলেন , এবং তার ছদ্মবেশ বিশ্লেষণ করে বুঝিয়ে দাও । 

Answer: বাঁধাধরা জীবন পছন্দ নয় বলেই হরিদা বহুরুপীর জীবনকে বেছে নিয়েছিলেন । তাঁর চরিত্রে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য ছিল । এই বৈচিত্র্যই তাঁর পেশা । এই বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়েই হরিদা এই শহুরে জীবনে মাঝে মাঝে বেশ চমৎকার ঘটনার সৃষ্টি করতেন । তিনি একদিন দুপুরে চকের বাস স্ট্যান্ডে পাগলের ছদ্মবেশে আতঙ্কের হল্লা তুলেছিলেন । তাঁর মুখ থেকে লালা ঝরে পড়ছিল , দু – চোখ কটকটে লাল । কোমরে জড়ানো ছেঁড়া কম্বল , গলায় টিনের কৌটোর মালা , হাতে একটা থান ইট তুলে সে যাত্রীদের দিকে মাঝে মাঝে তেড়ে যাচ্ছিলেন । পরে বাস ড্রাইভার কাশীনাথের ধমকে অবশ্য পাগলের স্বরূপ সকলের কাছে পরিষ্কার হয়েছিল । আর – এক কর্মব্যস্ত সন্ধ্যার উজ্জ্বল আলোকে রূপসি বাইজির ছদ্মবেশে হরিদা তো সকলকে অবাক করে দিয়েছিলেন । সেদিনই হরিদা সবচেয়ে বেশি উপার্জন করেছিলেন । শুধু এখানেই শেষ নয় , দয়ালবাবুর লিচু বাগানে নকল পুলিশের বেশে মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে ঘুষ আদায় ও পরে তাঁর প্রশংসা ছিল হরিদার জীবনে এক বড়ো প্রাপ্তি । হরিদার নাটকীয়তার চরম নিদর্শন মেলে জগদীশবাবুর বাড়িতে । সেখানে বিরাগীর ছদ্মবেশে তিনি সকলকে বিস্মিত করেছিলেন । জগদীশবাবুর মনে হয়েছিল চন্দ্রালোকিত এই রাতে বিরাগী যেন জগতের সীমার ওপার থেকে হেঁটে এসেছেন । এমনকি অনাদি – ভবতোষরাও বিরাগী – রূপী হরিদার বেশভূষা ও কথাবার্তায় তাঁকে চিনতে ভুল করেছিলেন । আর জগদীশবাবুর দেওয়া টাকা প্রত্যাখ্যান করে ‘ বহুরূপী ‘ হরিদা বিরাগীর রূপকে দেন দেবতার পূর্ণতা এবং সর্বত্যাগীর প্রকৃত ঐশ্বর্য । তাই পাঠ্য গঙ্গে হরিদা বহুরূপী হিসেবে শুধু সফল নন , অন্যতম শ্রেষ্ঠ ।

3. ‘ এই শহরের জীবনে মাঝে মাঝে বেশ চমৎকার ঘটনা সৃষ্টি করেন বহুরূপী হরিদা – হরিদার সৃষ্ট চমৎকার ঘটনাগুলির বিবরণ দাও ।

Answer: বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক সুবোধ ঘোষের জীবন ছিল বর্ণময় । তাঁর লেখা ‘ বহুরূপী ‘ গল্পটি যেন তাঁর বর্ণময় চরিত্রের ফসল । হরিদার চরিত্রের মধ্যে লেখকের কর্মজীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার ছায়া পড়েছে । বাঁধাধরা জীবন পছন্দ নয় বলেই হরিদা বহুরুপীর জীবনকে বেছে নিয়েছিলেন । তাঁর চরিত্রে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্রা ছিল । এই বৈচিত্র্যই তাঁর পেশা । এই বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়েই হরিদা এই শহুরে জীবনে মাঝে মাঝে বেশ চমৎকার ঘটনা সৃষ্টি করতেন । তিনি একদিন দুপুরে চকের বাস স্ট্যান্ডে পাগলের ছদ্মবেশে আতঙ্কের হল্লা তুলেছিলেন । তাঁর মুখ থেকে লালা ঝরে পড়ছিল , দু – চোখ কটকটে লাল । কোমরে জড়ানো ছেঁড়া কম্বল , গলায় টিনের কৌটোর মালা , হাতে একটা থান ইট তুলে তিনি যাত্রীদের দিকে মাঝে মাঝে তেড়ে যাচ্ছিলেন । পরে বাস ড্রাইভার কাশীনাথের ধর্মকে অবশ্য পাগলের স্বরূপ সকলের কাছে পরিষ্কার হয়েছিল । আর – এক কর্মব্যস্ত সন্ধ্যার উজ্জ্বল আলোকে রূপসি বাইজির ছদ্মবেশে হরিদা তো সকলকে অবাক করে দিয়েছিলেন । সেদিনই হরিদা সবচেয়ে বেশি উপার্জন করেছিলেন । শুধু এখানেই শেষ নয় , দয়ালবাবুর লিচু বাগানে নকল পুলিশের বেশে মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে ঘুষ আদায় ও পরে তাঁর প্রশংসা ছিল হরিদার জীবনে এক বড়ো প্রাপ্তি ।

4. আজ তোমাদের একট জবর খেলা দেখার / – বক্তার এই জবর খেলা দেখানোর উদ্দেশ্য কী ছিল ? শেষপর্যন্ত এই খেলার পরিণতিই বা কী হয়েছিল ? 

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরুপী ‘ গল্প থেকে উপরের উদ্ধৃতিটি নেওয়া । পাঠ্য কাহিনি অনুসারে গ্রামের বিখ্যাত ধনী , জনৈক জগদীশবাবুর বাড়িতে হিমালয়ের গুহা থেকে এক উঁচু দরের সন্ন্যাসীর আগমন ঘটে । বহুরূপী হরিদা পাড়ার ছেলেদের কাছ থেকে তাঁর সম্পর্কে বিভিন্ন ঘটনা শুনে টের পান যে , তিনি প্রকৃত সন্ন্যাসী নন । সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীর প্রকৃত স্বরূপ কেমন হওয়া উচিত তা বোঝাতেই , এরপর হরিদা বিরাগী সেজে জগদীশবাবুর বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা করেন । বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদা সকলকে বিস্মিত করেছিলেন । জ্যোৎস্নালোকিত রাতের স্নিগ্ধ পরিবেশে তাঁর আদুড় গায়ের ওপর সাদা উত্তরীয় এবং পরনে ছোটো বহরের থান আর হাওয়ায় উড়তে থাকা চুল ও কাঁধে ঝোলার মধ্যে থাকা গীতা— সব মিলিয়ে মনে হয়েছিল যেন তিনি জগতের সীমার ওপার থেকে হেঁটে এসেছেন । হরিদার চোখের উদাত্ত উজ্জ্বল দৃষ্টি , কণ্ঠস্বর ও মুখের ভাষায় ; জগদীশবাবুর হৃদয় করুণাময় সজল হয়ে উঠেছিল । তিনি এই সর্বত্যাগী বিরাগীকে তুষ্ট করতে তীর্থ ভ্রমণের অজুহাতে প্রণামী হিসেবে একশো এক টাকা নিবেদন করেন । কিন্তু বহুরূপী হরিদার অন্তরের বৈরাগ্য এবং নিজ শিল্পের প্রতি আন্তরিক সততার কারণে তিনি , সেই টাকার থলি হেলায় ফেলে দিয়ে চলে আসেন । তাতে যে তার ঢং নষ্ট হয়ে যেত । তবে সত্যিকারের বিরাগী সন্ন্যাসী দর্শন করানোর জন্য জগদীশবাবুর কাছ থেকে সামান্য বকশিশ আদায়ের দাবিটুকুকেই হরিদা , পাথেয় বলে স্থির করেছিলেন ।

5. বহুরুপীর জীবনের যে – মর্মান্তিক বেদনার কথা ‘ বহুরূপী ‘ গল্পের মাধ্যমে বোঝাতে চাওয়া হয়েছে , তা নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করো । 

অথবা , “ খাঁটি মানুষ তো নয় , এই বহুরূপীর জীবন এর বেশি কী আশা করতে পারে ? — বহুরূপী জীবনের এই ট্র্যাজেডি পাঠ্য ‘ বহুরূপী ‘ গল্প অবলম্বনে আলোচনা করো ।

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ‘ গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদা এক আশ্চর্য মানুষ । তিনি গরিব হলেও কেবল পেটের দায়ে গতে বাঁধা কাজ করতে চান না । নির্লোভ , চিন্তাশীল , স্বাধীনচেতা ও শিল্পীমনের অধিকারী হরিদা , দৈনন্দিন অভাবের সঙ্গে অভ্যস্ত হলেও কাজ নামক দিনগত পাপক্ষয়ের থেকে শতহাত দূরে থাকতেই ভালোবাসেন । তাঁর জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্য হল , তিনি বহুরূপের কারবারি । মাঝে মাঝে তাকে কেমন উপোস করে কাটাতে হয় , তেমনই হঠাৎ একদিন তিনি বিচিত্র ছদ্মবেশে অপরুপ হয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন । কখনও পাগল সেজে হরিদা চকের বাস স্ট্যান্ডের কাছে আতঙ্কের হল্লা তোলেন , আবার কখনও সন্ধ্যার মায়াময় আলোয় রূপসি বাইজি সেজে উপস্থিত সকলকে স্তম্ভিত করে দেন । নিজের পেশায় হরিদা এতটাই পারদর্শী যে , স্থানীয় স্কুলের মাস্টারমশাইও তাঁকে নকল পুলিশ বলে চিনতেই পারেন না । এ হেন হরিদা পাড়ার ছেলেদের মুখে জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা ভণ্ড সন্ন্যাসীর গল্প শুনে , তাদের সত্যিকারের বিরাগী সন্ন্যাসী দর্শন করানোর কথা ভাবেন । সেই চন্দ্রালোকিত রাতে জগদীশবাবুর বাড়িতে হাজির হয় এক অন্য হরিদা । তিনি সাজহীন – অলংকারহীন এক সামান্য বিরাগী । তবে তাঁর আচরণ , মুখের ভাষা , তত্ত্বজ্ঞান এবং উদাত্ত উজ্জ্বল চোখের দৃষ্টি সবাইকে মুগ্ধ ও উর্দুবেল করে তোলে । প্রকৃত সন্ন্যাসীর মতোই জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকা তিনি হেলায় ফেলে দিয়ে চলে আসেন । কারণ প্রকৃত বৈরাগ্যের অধিকারী হরিদার কাছে তখন শিল্প ও জীবন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় । আসলে তিনি শুধু নিছক বহুরূপের কারবারি মাত্র নন , সততা – শিল্পীস্বভাব ও জীবনদর্শনে একজন অসামান্য মানুষ । কিন্তু সমাজে সামান্য হরি বহুরূপীর মধ্যে লুকিয়ে থাকা এমন দেবতাসুলভ অসামান্যতা কোনোদিন তার প্রাপ্য মর্যাদা পায় না । জীবনের এই মর্মান্তিক বেদনা – যন্ত্রণা ও ট্র্যাজেডিকে মেনে নিয়েই , তাই নির্লিপ্তভাবে তিনি কেবল বকশিশটুকুই আশা করেন । 

6. জগদীশবাবুর বাড়ি হরিদা বিরাগী সেজে যাওয়ার পর যে ঘটনা ঘটেছিল , তা বর্ণনা করো । 

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ‘ গল্প অনুসারে এক স্নিগ্ধ ও শান্ত জ্যোৎস্নালোকিত উজ্জ্বল সন্ধ্যায় জগদীশবাবু বারান্দার চেয়ারে বসেছিলেন । হঠাৎ বারান্দার সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে তিনি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন । কারণ সিঁড়ির কাছে এমন একজন দাঁড়িয়েছিলেন যিনি জটাজুটধারী , হাতে কমণ্ডলু , চিমটে , মৃগচর্মের আসনসহ গৈরিক বসন পরিহিত কোনো সন্ন্যাসী নয় , তিনি একজন বিরাগী , যার আদুড় গা , তার উপরে একটি ধবধবে সাদা উত্তরীয় । পরনে ছোটো বহরের থান । তার শীর্ণ শরীর দেখে মনে হচ্ছিল যেন অশরীরী এবং তাঁর চোখ থেকে ঝরে পড়ছিল উদাত্ত শান্ত এক উজ্জ্বল দৃষ্টি । ভক্তের সেবার ইচ্ছাকে মান্যতা দিয়ে গ্রহণ করেছেন মাত্র এক গ্লাস জল । থাকার ও দান গ্রহণের অনুরোধ সবই নির্দ্বিধায় ত্যাগ করেছেন তিনি । জগদীশবাবু উপদেশ শুনতে চাইলে তিনি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বলেছেন । পরমেশ্বরের দেখা পেলেই সমস্ত ঐশ্বর্য পাওয়া যায় । তাঁকে তীর্থ ভ্রমণের অজুহাতে প্রণামী দিতে চাইলে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বলেন হৃদয়ের মধ্যেই তো সব তীর্থ । বিরাগী চরিত্রটি পূর্ণতা পায় তাঁরই উক্তিতে , ‘ আমি যেমন অনায়াসে ধুলো মাড়িয়ে চলে যেতে পারি , তেমনই অনায়াসে সোনাও মাড়িয়ে চলে যেতে পারি । ‘ সত্যিই তা করতে জগদীশবাবুর দেওয়া প্রণামীর টাকার থলিটা সিঁড়িতে পড়ে থাকলেও সেদিকে না তাকিয়ে তিনি চলে যান ।

7. ‘ গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন হরিদা / -কোন্ গল্পের কথা বলা হয়েছে ? গল্প শুনে হরিদার গম্ভীর হয়ে যাওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করো । 

Answer: উদ্ধৃতাংশটি সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরুপী ‘ গল্পের অংশ – বিশেষ । গল্পকথক ও তাঁর চার বন্ধু গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদাকে জগদীশবাবুর বাড়িতে আগত সন্ন্যাসীর গল্প বলেছিলেন । সেই সন্ন্যাসী হিমালয়ের গুহায় বাস করতেন । তাঁর সারাবছরের খাদ্য বলতে একটি মাত্র হরীতকী । বয়স হাজারেরও বেশি । তাঁর পদধূলি পাওয়া দুর্লভ একমাত্র জগদীশবাবুরই সেই পদধূলি পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল । তাও আবার জগদীশবাবু যখন তাঁকে সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম পরাতে গিয়েছিলেন সেই ফাঁকে তা সংগ্রহ করতে হয়েছিল । সেই সন্ন্যাসী বিদায় নেওয়ার সময় জগদীশবাবুর জোর করে দেওয়া একশো টাকার নোট সানন্দ চিত্তে গ্রহণ করেছিলেন । হওয়ার কারণ কথক ও তাঁর বন্ধুদের মুখে গল্প শুনে হরিদা গম্ভীর হয়ে যান । হরিদার এই গাম্ভীর্যের কারণ কথকরা বুঝে উঠতে পারেননি । তাঁদের সন্দেহ হয়েছিল হরিদার মাথায় নিশ্চয় নতুন কিছু মতলব এসেছে । তাঁদের এই ভাবনা বাস্তবায়িত হয় যখন হরিদা তাঁদের সন্ধ্যায় জগদীশবাবুর বাড়িতে খেলা দেখার আমন্ত্রণ জানান । তাঁর গম্ভীর হওয়ার পিছনে দুটি কারণ উঠে আসে । প্রথমত , জগদীশবাবুর বাড়িতে খেলা দেখিয়ে কিছু হাতাবার চিন্তায় নির্লোভ হরিদার মানবিক বিচ্যুতি । দ্বিতীয়ত , বিষয়সম্পদে নিরাসক্ত সন্ন্যাসীর দান গ্রহণের ব্যাপারটাকেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না ।

8. ‘ চমকে উঠলেন জগদীশবাবু / – জগদীশবাবুর পরিচয় দাও । তাঁর চমকে ওঠার কারণ আলোচনা করো । 

Answer: সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ‘ গল্পে জগদীশবাবু একটি পার্শ্বচরিত্র । জগদীশবাবুর পরিচয় তিনি শিক্ষিত , মার্জিত ও ভদ্র , সৌম্য – শাস্ত চেহারার অধিকারী , ধনী হলেও কৃপণ । তাঁর জীবনের দুর্বলতা হল তাঁর অন্ধভক্তি । সুখশান্তির আশায় সাধুসন্ন্যাসী দেখলেই তাদের তিনি তুষ্ট করার চেষ্টা করতেন । এর জন্য অবশ্য তিনি মাঝেমধ্যেই ঠকেছেন । 

  এক স্নিগ্ধ ও শান্ত জ্যোৎস্নালোকিত উজ্জ্বল সন্ধ্যায় জগদীশবাবু বারান্দার চেয়ারে বসেছিলেন । হঠাৎ বারান্দার সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে তিনি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন । তাঁর চোখের পাতা পড়ছিল না । কারণ সিঁড়ির কাছে এমন একজন দাঁড়িয়েছিলেন যিনি জটাজুটধারী , চমকে ওঠার কারণ হাতে কমণ্ডলু , চিমটে , মৃগচর্মের আসনসহ গৈরিক বসন পরিহিত কোনো সন্ন্যাসী নয় , তিনি একজন বিরাগী , যাঁর আদুড় গা , তার ওপরে একটি ধবধবে সাদা উত্তরীয় । পরনে ছোটো বহরের থান । তার মাথার শুকনো চুলগুলো বাতাসে উড়ছে , হাত – পা ধুলো মাখা , কাঁধে একটা ঝোলা , যার মধ্যে একটি মাত্র বই গীতা । জগদীশবাবুর তাঁকে দেখে । মনে হয়েছিল তিনি যেন জগতের সীমার ওপার থেকে হেঁটে চলে এসেছেন । তাঁর শীর্ণ শরীর দেখে মনে হচ্ছিল যেন অশরীরী এবং তাঁর চোখ থেকে .. ঝরে পড়ছিল উদাও শান্ত এক উজ্জ্বল দৃষ্টি । 

9. ‘ তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যাবে ।’— বস্তুা কোন্ প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন ? এই উক্তির আলোকে বক্তার চরিত্রবিশ্লেষণ করো ।

Answer: উদ্ধৃতিটি সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ‘ গল্প থেকে গৃহীত । বক্তা হলেন গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র বহুরূপী হরিদা । হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগীর ছদ্মবেশে খেলা দেখাতে গিয়ে প্রণামীর টাকা না নিয়ে ফিরে এসেছিলেন । অবাক হয়েছিলেন গল্পের কথক ও তাঁর বন্ধু অনাদি , ভবতোষরা অভাবী হরিদাকে টাকা না নেওয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে , হরিদা অভিনয়ের প্রতি শ্রদ্ধা এবং একজন আদর্শ শিল্পীর মর্যাদার প্রসঙ্গ তুলে কথাটি বলেছেন । হরিদা শুধুমাত্র পেশাগত জীবনে বহুরূপী নন , তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও নাটকীয় বৈচিত্র্যে ভরা । আপাতদৃষ্টিতে সমাজে অবহেলিত এই পেশায় নিযুক্ত মানুষের মধ্যেও যে – সততা , নিষ্ঠা , শ্রদ্ধার মতো গুণগুলি বেঁচে বক্তার চরিত্রবিশ্লেষণ আছে তা লেখক দেখাতে চেয়েছেন এই গল্পে । অভাব হরিদার নিত্যসঙ্গী । হরিদা কিন্তু সেই অভাবকে দূরে সরিয়ে দিতে গতে বাঁধা জীবনের পথে পা বাড়াননি । এসব সম্ভব হয় একমাত্র তাঁর নির্লোভ ও সংযমী জীবনযাপনের জন্যই । তাই জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগীর ছদ্মবেশে খেলা দেখাতে গিয়ে অভাবী হরিদা তাঁর দেওয়া সমস্ত সুযোগ প্রত্যাখ্যান করেন । কথক ও তাঁর বন্ধুরা যখন অভাবী হরিদাকে প্রণামী না – নেওয়ার জন্য কাঠগড়ায় তুলেছেন , হরিদা তখন শিল্প ও শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নির্লিপ্তভাবে বলেছেন , ‘ তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যাবে ।

10. ‘ আমি বিরাগী , রাগ নামে কোনো রিপু আমার নেই ।’— বক্তা কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন ? এই উক্তির প্রেক্ষিতে বক্তার চরিত্র গল্পে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে তা আলোচনা করো ।

Answer: প্রখ্যাত সাহিত্যিক সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ‘ গল্পে উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন ছদ্মবেশী বিরাগী । হরিদা যখন বিরাগীর ছদ্মবেশে জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়েছিলেন , জগদীশবাবু প্রশ্নোধৃত অংশের তখন এগিয়ে এসে তাঁকে অভ্যর্থনা না – জানালে বিরাগী রুষ্ট হন । ভয় পেয়ে জগদীশবাবু অপরাধ স্বীকার করে নেন এবং বিরাগীকে অনুরোধ করেন তাঁর ওপর রাগ না করার জন্য । ছদ্মবেশী বিরাগী এই প্রসঙ্গেই উক্তিটি করেছেন । 

  সন্ন্যাসীর চরিত্র প্রকৃতপক্ষে কেমন হওয়া উচিত এ কথা পাঠকদের বোঝাতেই লেখক যেন চরিত্রটি সৃষ্টি করেছেন । জগদীশবাবুর বাড়িতে হিমালয় থেকে আসা সন্ন্যাসীর পাশাপাশি বিরাগীর বস্তার চরিত্রবিশ্লেষণ চরিত্রটি রাখলে তা সহজেই অনুমান করা যায় । বিরাগী প্রথমে জগদীশবাবুর অহংকারে আঘাত করেছেন , তাঁকে অপরাধ স্বীকার করিয়েছেন । আবার সত্যিকার বিরাগীর মতো তাঁকে ক্ষমাও করেছেন । ভান্তের সেবার ইচ্ছাকে মান্যতা দিয়ে গ্রহণ করেছেন মাত্র এক গ্লাস জল । থাকার ও দানগ্রহণের অনুরোধ সবই নির্দ্বিধায় ত্যাগ করেছেন । তিনি । জগদীশবাবু উপদেশ শুনতে চাইলে তিনি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বলেছেন পরমেশ্বরের দেখা পেলেই সমস্ত ঐশ্বর্য পাওয়া যায় । তাঁকে তীর্থ ভ্রমণের অজুহাতে প্রণামী দিতে চাইলে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বলেন হৃদয়ের মধ্যেই তো সব তীর্থ । বিরাগী চরিত্রটি পূর্ণতা পায় তারই উক্তিতে , ‘ আমি যেমন আনায়াসে ধুলো মাড়িয়ে চলে যেতে পারি , তেমনি সোনাও মাড়িয়ে চলে যেতে পারি । ‘ সত্যিই তা করতে জগদীশবাবুর দেওয়া প্রণামীর টাকার থলিটা সিঁড়িতে পড়ে থাকলেও সেদিকে না তাকিয়ে তিনি চলে যান । 

11. বহুরূপী ‘ গল্পে জগদীশবাবুর চরিত্রটি ব্যাখ্যা করো ।

Answer: সুবোধ ঘোষ রচিত ‘ বহুরূপী ‘ গল্পের একটি পার্শ্বচরিত্র হল জগদীশবাবুর চরিত্রটি । চরিত্রটি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য রচনা মধ্যে পাওয়া না – গেলেও হরিদা চরিত্রের পরিস্ফুটনে জগদীশবাবুর চরিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে । 

  বাবুর কাহিনি থেকে জানা যায় যথেষ্ট অবস্থাপন্ন ধনী ব্যক্তি তিনি । বয়সে বেশ প্রবীণ । সাদা চুল , সাদা দাড়ি , সৌম্য , শান্ত চেহারা । তিনি ধনী মানুষ বটে , তবে বেশ কৃপণও । সাধুসন্ন্যাসীতে তাঁর ভক্তিভাব প্রবল । যদিও এই ভক্তিভাবের অন্তরালে কোথাও না কোথাও তাঁর ঐশ্বর্যের অহংকার কখনো কখনো দেখা মেলে । তাই কাহিনির মধ্যে আমরা দেখতে পাই , হিমালয় থেকে আগত সন্ন্যাসী যিনি কাউকে পায়ের ধুলো দিতে চান না , তাঁর পায়ের ধুলো সংগ্রহ করতে জগদীশবাবু কৌশল অবলম্বন করেন , সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম নিজ হাতে এগিয়ে দিতে যান । জগদীশবাবু ঈশ্বর বিশ্বাসী , সেইজন্যই সাধুসন্ন্যাসীর সেবা তাঁর কাছে ঈশ্বরসেবার সমতুল্য । অবশ্য নিষ্কাম ঈশ্বরসেবার মনোবৃত্তি তাঁর নেই । নিজ সুখশান্তির সন্ধানেই বস্তুত তিনি ঈশ্বরবিশ্বাসী । সন্ন্যাসী – গোছের লোক দেখলেই তাকে খুশি করার চেষ্টা করেন , প্রয়োজনে কৌশলও অবলম্বন করেন । তাঁর এই মানসিকতার জন্যই ভণ্ড সন্ন্যাসীর পাল্লায় পড়ে তাঁকে বোকাও বনতে হয় । তাই বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদার কাছেও তিনি নতজানু হয়েছেন আশীর্বাদের অভিলাষে । ‘ বহুরূপী ‘ গল্পের কাহিনির নিয়ন্ত্রণে জগদীশবাবু চরিত্রের ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই । এই সংসারের সব কিছুই যে ‘ সং ‘ তা হরিদার বিরাগী সাজেই প্রকাশ পায় ; আর সেই বিরাগীকে কাহিনির গতি নিয়ন্ত্রক প্রকৃত সত্যে পরিণত করিয়েছেন জগদীশবাবু । মিথ্যে বহুরূপী বেশধারণকারী হরিদার বিরাগী রূপকে নতমস্তকে প্রণাম জানিয়ে কাহিনির ভাবসত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন জগদীশবাবু । তাই জগদীশবাবু চরিত্রটি কাহিনির পার্শ্বচরিত্র হয়েও কাহিনির এক গুরুত্বপূর্ণ । চরিত্রে পরিণত হয়েছে । 

12. ‘ হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে । – হরিদা কে ? তাঁর কর্মকাণ্ডের মধ্যে যে – নাটকীয় বৈচিত্র্য ধরা পড়েছে তা গল্প অনুসারে লেখো । 

Answer: প্রখ্যাত সাহিত্যিক সুবোধ ঘোষের ‘ বহুরূপী ’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেন হরিদা । গল্পে আমরা তাকে ‘ বহুরূপী হরিদার পরিচয় হিসেবেই দেখতে পাই । বহুরূপীর চরিত্র বর্ণময় । সেখানে নাটকীয়তা থাকবে সেটাই স্বাভাবিক । জীবনে নাটকীয় কিন্তু হরিদার ব্যক্তিগত জীবন ও জীবিকা উভয় বৈচিত্র্য ক্ষেত্রই নাটকীয় বৈচিত্র্যে ভরপুর । ব্যক্তি হরিদা খুবই গরিব মানুষ । ইচ্ছে করলে তিনি ছোটোখাটো কাজ জোগাড় করে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতেই পারতেন । কিন্তু বাঁধাধরা গণ্ডিবদ্ধ জীবন হরিদার পছন্দ নয় । তাই উনানের হাঁড়িতে ভাতের বদলে জল ফুটলেও হরিদার সেই একঘেয়ে অভাবকে সহ্য করতে আপত্তি নেই । 

  হরিদার পেশাগত জীবনও নাটকীয় বৈচিত্র্যে ভরা । তিনি পাগলের ছদ্মবেশে কখনও আতঙ্কের হল্লা সৃষ্টি করেছেন , কখনও আবার রূপসি বাইজির ছদ্মবেশে মানুষের হৃদয়ে দোলা লাগিয়েছেন কিংবা নকল পুলিশ সেজে ছাত্রদের আটকে রেখে মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করেছেন । হরিদার নাটকীয়তার চরম নিদর্শন মেলে জগদীশবাবুর বাড়িতে । সেখানে বিরাগীর ছদ্মবেশে তিনি সকলকে বিস্মিত জীবিকায় নাটকীয় বৈচিত্র্য করেছিলেন । নাটকীয়তার শেষ এখানেই নয় । ছদ্মবেশী বিরাগী অভিনয়ের অহংকারে ও ঢং নষ্ট হওয়ার ভয়ে জগদীশবাবুর দান গ্রহণ করেননি । তবে সেই তিনিই আবার অভিনয়ের পরে বকশিশ নেওয়ার চিন্তা থেকে কিন্তু সরে আসেননি ।

মাধ্যমিক সাজেশন ২০২৫ – Madhyamik Suggestion 2025

আরোও দেখুন:-

Madhyamik Bengali Suggestion 2025 Click Here

আরোও দেখুন:-

Madhyamik English Suggestion 2025 Click Here

আরোও দেখুন:-

Madhyamik Geography Suggestion 2025 Click Here

আরোও দেখুন:-

Madhyamik History Suggestion 2025 Click Here

আরোও দেখুন:-

Madhyamik Life Science Suggestion 2025 Click Here

আরোও দেখুন:-

Madhyamik Mathematics Suggestion 2025 Click Here

আরোও দেখুন:-

Madhyamik Physical Science Suggestion 2025 Click Here

আরোও দেখুন:-

Madhyamik All Subjects Suggestion 2025 Click Here

পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক  বাংলা পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্ন উত্তর ও শেষ মুহূর্তের সাজেশন ডাউনলোড। মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার জন্য সমস্ত রকম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। West Bengal Madhyamik  Bengali Suggestion Download. WBBSE Madhyamik Bengali short question suggestion. Madhyamik Bengali Suggestion PDF  download. Madhyamik Question Paper  Bengali. WB Madhyamik Bengali suggestion and important questions. Madhyamik Bengali Suggestion PDF  pdf.

Get the Madhyamik Bengali Suggestion PDF by winexam.in

 West Bengal Madhyamik Bengali Suggestion PDF  prepared by expert subject teachers. WB Madhyamik  Bengali Suggestion with 100% Common in the Examination.

Class 10th Bengali Suggestion

West Bengal Madhyamik  Bengali Suggestion Download. WBBSE Madhyamik Bengali short question suggestion. Madhyamik Bengali Suggestion PDF  download. Madhyamik Question Paper  Bengali.

মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন – বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – প্রশ্ন উত্তর |  WB Madhyamik Bengali  Suggestion

মাধ্যমিক বাংলা (Madhyamik Bengali) বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – প্রশ্ন উত্তর

মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন | বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ 

মাধ্যমিক বাংলা পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক বোর্ডের (WBBSE) সিলেবাস বা পাঠ্যসূচি অনুযায়ী  দশম শ্রেণির বাংলা বিষয়টির সমস্ত প্রশ্নোত্তর। সামনেই মাধ্যমিক পরীক্ষা, তার আগে winexam.in আপনার সুবিধার্থে নিয়ে এল মাধ্যমিক বাংলা সাজেশান – বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – প্রশ্ন উত্তর । বাংলাে ভালো রেজাল্ট করতে হলে অবশ্যই পড়ুন । আমাদের মাধ্যমিক বাংলা

দশম শ্রেণির বাংলা সাজেশন | বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ

আমরা WBBSE মাধ্যমিক পরীক্ষার বাংলা বিষয়ের – বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – প্রশ্ন উত্তর – সাজেশন নিয়ে বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – প্রশ্ন উত্তর নিয়ে বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষচনা করেছি। আপনারা যারা এবছর দশম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষা দিচ্ছেন, তাদের জন্য আমরা কিছু প্রশ্ন সাজেশন আকারে দিয়েছি. এই প্রশ্নগুলি পশ্চিমবঙ্গ দশম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষা  তে আসার সম্ভাবনা খুব বেশি. তাই আমরা আশা করছি Madhyamik বাংলা পরীক্ষার সাজেশন কমন এই প্রশ্ন গুলো সমাধান করলে আপনাদের মার্কস বেশি আসার চান্স থাকবে।

মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন – বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – সাজেশন | Madhyamik Bengali Suggestion PDF Download

 মাধ্যমিক বাংলা, মাধ্যমিক বাংলা, মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর, নবম শ্রেণি বাংলা, দশম শ্রেণি বাংলা, নবম শ্রেণি বাংলা, দশম শ্রেণি বাংলা, ক্লাস টেন বাংলা, মাধ্যমিকের বাংলা, বাংলা মাধ্যমিক – বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ, দশম শ্রেণী – বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ, মাধ্যমিক বাংলা বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ, ক্লাস টেন বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ, Madhyamik Bengali – বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ, Class 10th বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ, Class X বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ, ইংলিশ, মাধ্যমিক ইংলিশ, পরীক্ষা প্রস্তুতি, রেল, গ্রুপ ডি, এস এস সি, পি, এস, সি, সি এস সি, ডব্লু বি সি এস, নেট, সেট, চাকরির পরীক্ষা প্রস্তুতি, Madhyamik Bengali Suggestion , West Bengal Madhyamik Class 10 Bengali Suggestion, West Bengal Secondary Board exam suggestion , WBBSE , মাধ্যমিক সাজেশান, মাধ্যমিক সাজেশান , মাধ্যমিক সাজেশান , মাধ্যমিক সাজেশন, মাধ্যমিক বাংলা সাজেশান ,  মাধ্যমিক বাংলা সাজেশান , মাধ্যমিক বাংলা , মাধ্যমিক বাংলা, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, Madhyamik Bengali Suggestion Bengali , মাধ্যমিক বাংলা – বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – সাজেশন | মাধ্যমিক বাংলা – বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – সাজেশন | Madhyamik Bengali Suggestion PDF, Madhyamik Class 10 Bengali Suggestion PDF.

FILE INFO : Madhyamik Bengali Suggestion with PDF Download for FREE | মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন বিনামূল্যে ডাউনলোড করুণ | বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – প্রশ্ন উত্তর – MCQ প্রশ্নোত্তর, অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নউত্তর, ব্যাখ্যাধর্মী, প্রশ্নউত্তর

PDF Name : মাধ্যমিক বাংলা – বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – সাজেশন | Madhyamik Bengali Suggestion PDF

Price : FREE

Download Link : Click Here To Download

মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন – বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – সাজেশন | Madhyamik Bengali Suggestion PDF with FREE PDF Download

  এই (মাধ্যমিক বাংলা – বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – সাজেশন | Madhyamik Bengali Suggestion PDF PDF) পোস্টটি থেকে যদি আপনার লাভ হয় তাহলে আমাদের পরিশ্রম সফল হবে। আরোও বিভিন্ন স্কুল বোর্ড পরীক্ষা, প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষার সাজেশন, অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রোচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর (All Exam Guide Suggestion, MCQ Type, Short, Descriptive Question and answer), প্রতিদিন নতুন নতুন চাকরির খবর (Job News in Bengali) জানতে এবং সমস্ত পরীক্ষার এডমিট কার্ড ডাউনলোড (All Exam Admit Card Download) করতে winexam.in ওয়েবসাইট ফলো করুন, ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here